মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
হাইকোর্টে আইনজীবীর সঙ্গে এরশাদের বৈঠক নিয়ে গুঞ্জন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হঠাৎ করেই হাইকোর্টে এসে আইনজীবীর সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করে গেলেন। রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূতকে তাঁর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের চেম্বারে দেখা যায়। এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে গুঞ্জন চললেও এরশাদের হাইকোর্টে আগমনের কারণ স্পষ্ট করেননি তার আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি উনার প্রিন্সিপাল ল’ইয়ার ঠিক আছি। তবে মামলার কোন বিষয়ে তিনি আমার কাছে আসেননি। তাহলে কেন এসেছিলেন- এ প্রশ্নের জবাবে সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোন কাজেই নিশ্চয় এসেছিলেন। তবে আমার কাছে কোন মামলার বিষয়ে আসেননি। এমনিতেই দেখা করতে এসেছিলেন। বেলা ১টার দিকে এই আইনজীবীর কক্ষে এসে ২টার দিকে বের হন এরশাদ। এরপর দ্রুত সুপ্রীমকোর্ট চত্বর ত্যাগ করেন তিনি।
১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় তিন ডজন মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তাঁর সাজার আদেশ হয় এবং একটিতে তিনি সাজা খাটা শেষ করেন। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এরশাদ নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা দেন, তাতে এখনো আটটি মামলা থাকার কথা বলা হয়। বাকি মামলাগুলো থেকে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন, অথবা মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে জানান। এই আট মামলার মধ্যে চারটির কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। মঞ্জুর হত্যাসহ তিনটি মামলা বর্তমানে চালু। আর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পাওয়া উপহার সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে এক মামলা বর্তমানে হাইকোর্টে রয়েছে।
১৯৯১ সালের ৮ জানুয়ারি সেনানিবাস থানায় দায়ের করা এ মামলায় এরশাদের বিরুদ্ধে এক কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। ১৯৯২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার রায়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এরশাদকে তিন বছরের কারাদ- দেন। রায়ের বিরুদ্ধে এরশাদ ওই বছরই হাইকোর্টে আপীল করেন। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনও এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়।