মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
চারটি চুক্তি সই হচ্ছে ॥ প্রধানমন্ত্রী কাল মালয়েশিয়া যাচ্ছেন
তৌহিদুর রহমান ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল মঙ্গলবার তিনদিনের সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে সে দেশের সঙ্গে চারটি চুক্তি সই হবে। এসব চুক্তির মধ্যে রয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক চুক্তি, ভিসা অব্যাহতিবিষয়ক চুক্তি, সংস্কৃতি সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি ও পর্যটন সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি। শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক চুক্তির ফলে মালয়েশিয়ার সারওয়াক প্রদেশে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। গত বছর ১৭ নবেম্বর নাজিব রাজাক ঢাকা সফর করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি মালয়েশিয়া সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সে আমন্ত্রণের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরকালে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জনশক্তি রফতানি, ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়গুলোকে জোর দেয়া হবে। এছাড়া দু’দেশের মধ্যে চারটি চুক্তি করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছে। দেশটি বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিতে চায়। মালয়েশিয়ার সারওয়াক প্রদেশে এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখানে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিতে চায় দেশটি। সে লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হবে।
শ্রম কর্মসংস্থান চুক্তি ॥ মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সই হওয়া শ্রম কর্মসংস্থানবিষয়ক সমঝোতা চুক্তি সংশোধন করা হচ্ছে। এই চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার মূল ভূখ-ের পাশাপাশি সারওয়াক প্রদেশে কাজ করার সুযোগ পাবে বাংলাদেশী শ্রমিকরা। শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের জি-টু-জি যে চুক্তি রয়েছে তার সংশোধন চুক্তি সই হবে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে বিদ্যমান যে চুক্তি তা মূল ভূখ-ের জন্য প্রযোজ্য, এ প্রটোকল সই হলে দেশটির সারওয়াক প্রদেশে কাজ করারও সুযোগ পাবে। আগের যে চুক্তি রয়েছে তা একই থাকবে, শুধু সারওয়াক প্রদেশ এর সঙ্গে যুক্ত হবে।
ভিসা অব্যাহতি চুক্তি ॥ মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি সই হবে। এ চুক্তি হলে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীরা ভিসা অব্যাহতি পাবেন। ৯০ দিনের জন্য তারা এ সুবিধা পাবেন এবং ট্রানজিট সুবিধাও পাবেন। এর চেয়ে বেশি থাকতে চাইলে নিজ নিজ দেশের নিয়মানুযায়ী তাঁরা নবায়ন করতে পারবেন। কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের স্ত্রী ও ২১ বছরের নিচে অবিবাহিত সন্তানরাও এ সুবিধা পাবেন। বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে বারোটি দেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে এবং আরও ১৮ দেশের সঙ্গে এ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। যেসব দেশের সঙ্গে এ চুক্তি রয়েছে সেসব দেশে ভিসা ছাড়াই কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীরা যেতে পারেন।
পর্যটন সহযোগিতা চুক্তি ॥ পর্যটন খাত উন্নয়নের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে। সেজন্য এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এই সমঝোতা চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, মার্কেটিং প্রমোশন কার্যক্রমে সহযোগিতার করবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এছাড়া এ চুক্তির আওতায় প্যাকেজ ট্যুর পরিচালনা, পর্যটন মেলা, প্রচার সামগ্রী বিনিময়, পর্যটনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার কাজও করবে দুই দেশ। পর্যটনসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ হবে ৫ বছর। তবে কেউ আপত্তি না তুললে মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়বে।
সংস্কৃতি সহযোগিতা চুক্তি ॥ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি, শিল্প সাহিত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও মালয়শিয়া শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করবে। এছাড়া দু’দেশের মিউজিয়াম, আর্কাইভ, শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। আর্ট এ্যান্ড কালচারের ক্ষেত্রে দু’দেশের উত্তম চর্চা বিনিময়, গবেষণা ও প্রকাশনা বিনিময়, কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে এ চুক্তির মাধ্যমে। সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই চুক্তির মেয়াদ তিন বছর বাড়বে। তবে ছয় মাসের সময় দিয়ে যে কোন পক্ষ চুক্তি প্রত্যাহার করতে পারবে। পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক দুটি সমঝোতা চুক্তির অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে দু’পক্ষের তৃতীয় পক্ষ যুক্ত করা বিধান রয়েছে। দুইপক্ষের মধ্যে কোন বিরোধ হলে পারস্পারিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সাক্ষাত হয়। ওই সাক্ষাতের সময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসার জন্য নাজিব রাজাককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সে সময় আমন্ত্রণ গ্রহণ করে নাজিব রাজাক গত বছর নবেম্বরে ঢাকা সফর করেন। এর প্রায় এক বছরের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন।