মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
আজ জিম্বাবুইয়েকে বাংলাওয়াশের দিন?
মিথুন আশরাফ ॥ ঘটনা ২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বরের। প্রসপার উতসেয়াকে ক্লিন বোল্ড করে দিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। শেষ হয়ে গেল জিম্বাবুইয়ের ইনিংস। চামু চিভাভার বলে কাভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকালেন মুশফিকুর রহীম। শেষ হয়ে গেল খেলা। বাংলাদেশ জিতে গেল! শুধু কী জয় মিলল, প্রথমবারের মতো জিম্বাবুইয়েকে ৫-০ ব্যবধানে হারানোর সঙ্গে হোয়াইটওয়াশও করল বাংলাদেশ। সে কী আনন্দ! আটবছর পর আবার বাংলাদেশের সামনে আজ ডিসেম্বরের প্রথম দিনে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার আরেকটি সুযোগ ধরা দিয়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর সাড়ে বারোটায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে আজও কী এমন কিছুরই দেখা মিলবে। এখন শুধু অপেক্ষা, জিম্বাবুইয়েকে বাংলাওয়াশ করে উৎসব করার।
সেই সময় হাবিবুল বাশার সুমনের হাতে শোভা পেয়েছে সিরিজ জয়ের শিরোপা। আজ নিশ্চিতভাবেই মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে এবারের সিরিজ জয়ের শিরোপা ধরা দেবে। কিন্তু হাবিবুলের দলের মতো মাশরাফির দলও কী ৫-০ করে এই শিরোপা হাতে নিয়ে উৎসব করতে পারবে? আজই তা বোঝা যাবে।
তবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ের মধ্যকার আজ শেষ হওয়া সিরিজে বাংলাদেশই ফেবারিট। দুই দলই রবিবার শেষদিনের অনুশীলন করে নিয়েছে। কিন্তু জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেটারদের দেখে মনেই হচ্ছে তারা সিরিজ শেষ হলেই যেন বাঁচেন। এখন খেলার চেয়ে বেশি তারা আনন্দ-ফুর্তি করেই কাটাতে পছন্দ করছেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে একাডেমি মাঠে অনুশীলন করতে গিয়ে যেমন চিগুম্বুরা-মাসাকাদজা একজন আরেকজনের সঙ্গে কী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসতে হাসতে যেন শেষ হয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া অবশ্য তাদের করণীয় আর কিই বা আছে। খেলতে নামলেই যে হারেন। নিয়তিও যেন মেনে নিচ্ছেন। এখন কতক্ষণে সিরিজ শেষ হবে, সেই অপেক্ষাতেই যেন আছেন জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেটাররা।
অনুশীলনে যে রকম অবস্থাতেই থাকুক জিম্বাবুইয়ানরা, সংবাদ সম্মেলনে কিন্তু ঠিকই সিরিয়াস। এমনই সিরিয়াস যে, ‘খেলতে নামলে জয়ের জন্যই নামব’ তা বলতেও ভুলে যান না হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। একের পর এক ম্যাচ হেরেই চলেছে জিম্বাবুইয়ে। এরপরও, ‘জয়ের চেষ্টা করব’ না বলে যেন পারেনই না। তবে একটি জিনিস বলেছেন মাসাকাদজা। বাংলায় বলেছেন, ‘শেষ।’ এই শেষের অপেক্ষাতেই এখন জিম্বাবুইয়ে। সেই শেষটি জয় দিয়ে করতে চান।
বাংলাদেশ কী তা করতে দেবে? হাতে পাওয়া এমন সুযোগ কী আর হাতছাড়া করবে বাংলাদেশ। দুপুরে অনুশীলন শুরু করার আগে মাশরাফির কথাতেই পরিষ্কার, এবারও জিম্বাবুইয়েকে কোন ছাড় নয়, ‘চারটা ম্যাচ জেতার পরে অবশ্যই সব খেলোয়াড়রাই আত্মবিশ্বাসী। ক্রিকেটে এটা হতেই পারে। কিন্তু আমাদের জেতার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। আজকের ম্যাচটা জেতার জন্য যত দূর ভাল খেলা সম্ভব সেটা খেলতে হবে। ৫-০ এখন আমার ভেতর ফিল হচ্ছে। এখন আমাদের আরেকটা ম্যাচ আছে। জিততে পারলে ৫-০ হবে। এটা খুব ভাল হবে। ভাল লাগবে, বছরটা যে গিয়েছে ভাল গিয়েছে তা নয় এই বছরটা অনেক জেতা ম্যাচ আমরা হেরে গিয়েছি। এগুলো না হলে হয়ত এত সমস্যা আমাদের তৈরি হতো না। যে চাপগুলো আমাদের মাঝখান দিয়ে গিয়েছে এগুলো হত না। ৫-০ যদি ইনশাল্লাহ এখন করতে পারি ছেলেদের কিছুটা ক্রেডিট পাওয়া উচিত।’
জিম্বাবুইয়েকে বাংলাওয়াশ করতে পারলে শুধু ক্রিকেটাররা ক্রেডিটই পাবেন না, পুরস্কারেও নিশ্চয়ই ভূষিত হবেন। আর আনন্দেরত সীমা থাকবেই না। বিশ্বকাপের আগে এমন অর্জন যে কোন দলকেই চাঙ্গা করে তোলে। বাংলাদেশকেও, দলের ক্রিকেটারদেরও আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। সেই সঙ্গে বছরের শেষটা যেমন জয় দিয়ে হয়েছে, শুরুটাও হবে জয় দিয়েই।
জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ৫৭ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ ৩৪ টিতে জিতেছে। আজ জিতলে ৩৫টিতে জয় হবে। এর আগে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ৬ বার ৫ ম্যাচের সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। চারবার জিতেছে বাংলাদেশ। দুইবার হেরেছে। দেশের মাটিতে এর আগে তিনবার ৫ ম্যাচের সিরিজ খেলেছে। তিনবারই বাংলাদেশ জিতেছে। ২০০৬ সালে একবার হোয়াইটওয়াশও করেছে। এবার নিয়ে সপ্তমবারের মধ্যে চারবার দুই দলের মধ্যকার বাংলাদেশের মাটিতে ৫ ম্যাচের সিরিজ খেলা হচ্ছে। এবারের সিরিজও বাংলাদেশ জিতে নিয়েছে। এখন অপেক্ষা বাংলাওয়াশের। আজই সেই দিন।