মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
উনি তো পাকি সেনাদের কাছে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের কী বুঝবেন
খালেদা জিয়ার বক্তব্য নিয়ে সংসদে ক্ষোভ
সংসদ রিপোর্টার ॥ কুমিল্লায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল নয়’ খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তো খালেদা জিয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কাছে ছিলেন। তাই উনি (খালেদা জিয়া) মুক্তিযুদ্ধের কী বুঝবেন? আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।
রবিবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনের শুরুতেই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপি প্রধানের বক্তব্যের সমালোচনায় মুখর হন আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ।
আলোচনার সূত্রপাত করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তখন তিনি (খালেদা জিয়া) পাকিস্তানী
সেনাবাহিনীর কাছে ছিলেন। সারাবিশ্ব জানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এর পরেও যখন পাকিস্তানী হানাদাররা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি তখন বঙ্গবন্ধু কিভাবে মুক্তিযুদ্ধ হবে, কিভাবে এ যুদ্ধ পরিচালিত হবেÑএসব বিষয়ে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। উনি (খালেদা) বলে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ নাকি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না! আওয়ামী লীগ যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস না-ই করত তাহলে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হতো না।
তিনি বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একটি দলের চেয়ারপার্সনের স্মরণশক্তি কি এতই কম? আসলে ওনার (খালেদার) স্মরণশক্তি কমে গেছে, যার কারণে ইতিহাস মনে রাখতে পারছেন না। এ সময় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যদি আপনারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে আগামীতে যে নির্বাচন হবে তার জন্য জনগণের কাছে যান। তারা যদি ভোট দেয় তাহলে আপনি বিজয়ী হবেন।
এরপর খালেদার বক্তব্য তীব্র সমালোচনা করে সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুনে মনে হলো যুবদল ও ছাত্রদলের কোন ক্যাডারের বক্তব্য। তাঁর (খালেদা) বক্তব্যে কোন সঠিক তথ্য ছিল না। তিনি (খালেদা) বলেছেন আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। এটি হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত সরকারের একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। অথচ তাঁর স্ত্রী (খালেদা জিয়া) এখন বলছেন আওয়ামী লীগ নাকি মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। ক’দিন পরে উনি (খালেদা) হয়ত বলবেন জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের দল। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৯ মাস পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আতিথেয়তায় ছিলেন, তাই তিনি রাজাকার-আলবদরদের মুক্তিযোদ্ধা মনে করতেই পারেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন গত ৫ বছরে দেশে নাকি কোন উন্নয়ন হয়নি। দেশে যদি উন্নয়ন না হয় তাহলে গত ৬ বছরে যে ফ্লাইওভার ও ব্রিজ হয়েছে সেগুলো দিয়ে আপনি যাবেন না। আপনি জনসভাগুলো করতে যান এই ব্রিজের ওপর দিয়ে। ব্রিজের ওপর দিয়ে যাবেন না। নিচ দিয়ে নৌকা দিয়ে যাবেন।
ফেসবুক বন্ধ না করে ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দিন ॥ ফেসবুক বন্ধ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাদের কাছে প্রশ্নপত্র থাকে, তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন ফাঁস করে। তাদের শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে পারছে না। সর্বশেষ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর আগে জেএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এটা বন্ধ করতে না পেরে ‘শিক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, পরীক্ষার সময় ফেসবুক বন্ধ করে দেবেন!
শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ফেসবুক যারা ব্যবহার করে, তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে না। ফাঁস হওয়ার পর ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাদের কাছে প্রশ্নপত্র থাকে তাদের কিছু লোকজন এ কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের না ধরে, শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, ফেসবুক বন্ধ করে দেবেন। ফেসবুকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র না পাওয়া গেলে এ প্রশ্ন পরে অনেক দামে গ্রাম-গঞ্জে বিক্রি হবে। ফাঁস রোধ করতে হবে। তাই ফেসবুক বন্ধ নয়, শিক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব নিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্জনকে কয়েক লুটেরা, চোর ধ্বংস করতে পারে না।
মুলতবি নোটিস নাকচ ॥ সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকার সংক্রান্ত দুটি নোটিস এবং দুটি মুলতবি প্রস্তাব নাকচ করেছেন স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রবিবার অধিবেশনের শুরুতে তিনি এসংক্রান্ত নোটিসগুলোর প্রাপ্তির কথা জানান এবং তা নকচ করেন।
স্পীকার জানান, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজীর আনা বিশেষ অধিকারসংক্রান্ত দুটি নোটিস বিধিসম্মত হয়নি। তাই সংসদের কার্যপ্রাণালী বিধির ১৬৬/৩ ধারা অনুযায়ী না হওয়ায় তা গ্রহণ করা গেল না। তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মোঃ সেলিম দুটি মুলতবি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। কিন্তু ওই প্রস্তাব দুটি অন্য বিধিতে নিষ্পত্তিযোগ্য। তাই প্রস্তাব দুটি নাকচ করা হলো।
লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ॥ দল ও মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের বিষয়টি সংসদে অবহিত করেছেন স্পীকার। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পাঠানো নোটিসের কথা তিনি সংসদকে অবহিত করেন। গত ২৫ নবেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।