মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
জীবনযুদ্ধে পরাস্ত মুক্তিযোদ্ধা
একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম আবদুস সাত্তার (৭৫)। প্রতিদিন জীবনযুদ্ধে পরাস্ত হচ্ছে তিনি। অভাব-অনটনের কারণে নিজের চিকিৎসা সেবাটুকু নিতে পারছেন না। এই অবস্থায় মৃত্যুই যেন তাঁর কামনা।
বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের গুছরাকাঠী গ্রামে তাঁর বাড়ি। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ৯নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন তিনি। পটুয়াখালী জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল বারেক ছিলেন তার দলনেতা। মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার পটুয়াখালী জেলার আমতলী, নাপ্তেরহাট, কালিশুরী, সোনাবাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এই অপরাধে পাক বাহিনী ওই সময় তাঁর বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। স্বাধীনতা অর্জনের পর সেনাবাহিনীতে চাকরি নেন আবদুস সাত্তার। কিছুদিন চাকরি করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ি চলে আসেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তিনি শয্যাশায়ী। রোগাক্রান্ত শরীর। শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গেছেন। জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে থাকেন তিনি। কাঠের চৌকিতে বিছানা পেতে একটি ছেঁড়া কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে আছেন। চোখে মুখে তাঁর বিষন্নতার ছাপ। কেমন আছেন, জানতে চাইলে, মাথা কাত করে বললেন, ভাল। নিজের চোখের সামনে তাঁর এ করুণ পরিণতি দেখে একটওু বিশ্বাস করার সুযোগ নেই যে, তিনি ভাল আছেন। ২ ছেলে ১ মেয়ে তাঁর। বড় ছেলে সোহরাব হোসেন, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। আর একটি গার্মেন্টসে চাকরি করছেন মেয়ে কানিজ ফাতেমা। ৫ বছর বয়সী সোহেল বাবা-মায়ের সঙ্গে আছেন। মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের স্ত্রী নুরজাহান বলেন, একবেলা খেলে দু’বেলাই উপোস থাকতে হয়। তার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার মাসিক ২ হাজার টাকার সম্মানী ভাতা দিয়ে সংসার চলে না। ছেলেটির কোথাও একটি চাকরি হলে অভাব কিছুটা দূর হতো। এই বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তারের দিকে কেউ মমতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, এমন প্রত্যাশা করেছেন তিনি। -কামরুজ্জামান বাচ্চু, বাউফল থেকে।