মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
মেনন-ইনুসহ ১০ জনকে নৌকা প্রতীক দিতে সিইসিকে শেখ হাসিনার চিঠি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জোটের শরিকরাও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রতীক বরাদ্দ পেলেন। জাতীয় পার্টি নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও তরিকত ফেডারেশনও এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন।
বিরোধী দলের অনড় অবস্থান এবং জাতীয় পার্টির প্রধানের নানা নাটকীয়তার মধ্যেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জোটভুক্ত তিন দলকে নৌকা প্রতীক দিলো আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি শুক্রবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় উপসম্পাদক এ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার ওই চিঠিটি নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পৌঁছে দেন। ওই চিঠিতে আওয়ামী লীগের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ও তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থীদের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল ৫টায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ শেষ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব ফরহাদ আহমেদ খান জানান, যারা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেবেন তাঁদের বাদ দিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা এখন প্রকাশ করা হবে। কোন আসনে একক প্রার্থী থাকলে তাঁদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। আজ শনিবার দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে এবার প্রার্থী হয়েছেন চার জন। রাজশাহী-২ আসনে ফজলে হোসেন বাদশা, নড়াইল-২ আসনে শেখ হাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা-১ আসনে মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এবং ঢাকা-৮ আসনে দলের সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর জাসদের হয়ে সভাপতি হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়া-২ আসনে, জায়েদুল কবির নরসিংদী-২ আসনে, শিরীন আকতার ফেনী-১ আসনে এবং মঈনুদ্দিন খান বাদল চট্টগ্রাম-৮ আসনে লড়বেন।
আর তরিকত ফেডারেশনের লায়ন এম এ আউয়াল লক্ষ্মীপুর-১ ও নজিবুল বশার মাইজভাণ্ডারী চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী রয়েছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক দলীয় প্রার্থীরা বরাদ্দ পাবে। তবে জোটভুক্ত হলে [আরপিও ২০[১] দলীয় সভাপতির অনুমতি লাগবে।
শেখ হাসিনার বার্তাবাহক রিয়াজুল কবির কাওছার সাংবাদিকদের জানান, মহাজোটের আসন ভাগাভাগির মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৪২টি আসনে, জাতীয় পার্টি (এ) ৪৬ আসনে, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ ৪টি করে আসনে এবং তরিকত ফেডারেশন ২টি আসনসহ মোট ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বাকি দুটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। জানা গেছে, ফাঁকা থাকা দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি)।