মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই নেত্রীর হাতে
তৃতীয় দফা বৈঠক ॥ আওয়ামী লীগ বিএনপি প্রস্তাব বিনিময়
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তৃতীয় দফা বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজেদের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় করেছে। প্রস্তাবগুলো নিয়ে দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্ব স্ব দলের নেতারা আলোচনা করে পরবর্তী বৈঠকে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা।
জাতিসংঘ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর পর এবার ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নিল ওয়াকারের উপস্থিতিতে শুক্রবার প্রধান দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফা এই বৈঠকে পরস্পরের প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে। উভয়পক্ষই এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে কোন পক্ষই বৈঠকে কী কী প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তা নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসন ও সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিকেল সোয়া ৪টা থেকে সোয়া ৬টা পর্যন্ত গুলশানে ইউএনডিপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই দলের শীর্ষ ৮ নেতার এ বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। দুই পক্ষই পরস্পরের কাছে অভিমত তুলে ধরেছে। এই প্রস্তাব নিয়ে দুই দলই তাদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। আশরাফ জানান, আবারও দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও প্রস্তাব বিনিময়ের কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা তিনদিন ধরে সরকার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলেছি। আলোচনা হয়েছে। সকলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। তাঁরাও কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে বসে এসব নিয়ে আলোচনা করব আমরা। তাঁরাও তাঁদের নীতিনির্ধারণী ফোরামে বসে আলোচনা করবেন। অতি শীঘ্রই এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে আবারও আলোচনা হবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি মির্জা ফখরুল।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছাড়াও দলের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান ও শমসের মবিন চৌধুরী।
গুলশানের ওই বাড়িতেই গত বুধবার সর্বশেষ বৈঠক করেন দুই দলের এই আট নেতা। সেদিন তাদের মধ্যস্থতায় ছিলেন জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। ওই দিনই সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা ছাড়েন অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। আর শুক্রবারের বৈঠকে মধ্যস্ততা করেন জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি নিল ওয়াকার।
আনুষ্ঠানিকভাবে কোন পক্ষ মুখ না খুললেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংবিধানের মধ্য থেকে কিভাবে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধান করা যায় সেসব বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা হয়। বিএনপির তরফে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পদে শেখ হাসিনাকে না রাখা, নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান, দলের গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানানো হয়। জবাবে শাসক দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবিধানের বাইরে তাদের যাওয়া যে সম্ভব নয়, তৃতীয় বৈঠকেও বিএনপি নেতাদের তা সাফ জানিয়ে দেন। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সংবিধানের মধ্যে থেকে বেশকিছু ছাড় দিতেও যে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত সে কথাও জানানো হয়। একই সঙ্গে আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য হরতাল-অবরোধের নামে সহিংসতা, নাশকতা, ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষ হত্যার মতো অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য বিএনপির প্রতি দাবি জানানো হয়।