মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
দেখামাত্র জামায়াত-শিবির হেফাজতকে গুলি করার নির্দেশ দিন
গণজাগরণ মঞ্চের বিজয় সমাবেশে শাহরিয়ার কবির
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঘাতক মুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা করে ঘরে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে গণজাগরণ মঞ্চকর্মী তথা জাহানারা ইমামের সন্তানেরা। মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাকারী কাদের মোল্লার ফাঁসির পর শুক্রবার শাহবাগ বিজয় সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, কসাই কাদেরের ফাঁসির মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। বক্তারা বলেন, রাজাকার মুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা করতে গ্রামে-গ্রামে, বাড়িতে-বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জামায়াত-শিবিরি ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধ শুরু করেছে মন্তব্য করে তাঁরা বলেন, এর জবাব যুদ্ধের মাধ্যমে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ও মানবিক বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে ডিসেম্বরের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি করেন তাঁরা।
উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় গণজাগরণ মঞ্চের বিজয় সমাবেশ। শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে শুরু হয় সমাবেশ। এছাড়া আলোচনার শেষের দিকে গত ১০ মাসে গণজাগরণ মঞ্চের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শাহরিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ’৭১ সালে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধে নেমেছে। তাদের যুদ্ধের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে। একই সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও হেফাজতকে মাঠে দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ও দেশ রক্ষা করতে হলে জামায়াত-শিবির হেফাজতকে নিষিদ্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাহানারা ইমামের সন্তানেরা জাগরণ মঞ্চ যে দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে তা দেশের ১৬ কোটি মানুষের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানসহ তথাকথিত যে সব মুসলিম দেশ যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চাচ্ছেন, তাদের উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও কাদের মোল্লার রায় কার্যকর করে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে কোন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করে না। এর আগে একইভাবে সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মোকাবেলা করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও বিজয় অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। শাহরিয়ার কবির বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা ব্রিটেন থেকে চৌধুরী মাঈনুদ্দীনকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে বলেছিলাম, যদি আপনারা মাঈনুদ্দীনকে ফেরত না দেন একই সঙ্গে গণহত্যাকারীদের পক্ষে অবস্থান নেন, তা হলে একদিন ব্রিটেন হবে গণহত্যাকারীদের স্বর্গরাজ্য। যেটি কারও কাম্য নয়। শাহরিয়ার কবির আক্ষেপ করে বলেন, প্রতিবছর আমরা ডিসেম্বর মাসের প্রথম তারিখ থেকে বিজয়ের উৎসব শুরু করি। আর এবার বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের ডাক দিয়ে সেই উৎসব থেকে আমাদের বিরত রেখেছে। এমন অবস্থায় সকল গণহত্যাকারীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাহানারা ইমামের সন্তানেরা রাজপথে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই গণজাগরণ মঞ্চের তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে বাঙালীরা পরাজয় মানে না। সকল যুদ্ধাপরাধীর শাস্তির মাধ্যমে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার কখনও ঘাতকদের কাছে পরাজয় মানব না। বিজয় আমাদের নিশ্চিত।
শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে আসছি। জাহানারা ইমাম সেই দাবিকে গণদাবিতে পরিণত করেন। আর গণজাগরণ মঞ্চ তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে দাবি আদায়ের কাজ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের দাবি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছিলেন, আর জিয়া এসে তাদের মুক্ত করে দেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তরুণ প্রজন্ম আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবীর বলেন, আমরা ’৭১ সাল ভুলিনি। ইতিহাস ভোলা যায় না। তা এই প্রজন্ম তা আবারও প্রমাণ করেছে। জাগরণ মঞ্চ কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে যেভাবে পুরো জাতিকে যেভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে তা আমাদের বড় অর্জন। তিনি বলেন, মাঝখানে বিভিন্ন নামে পরাজিত শক্তি দেশ শাসন করেছিল বলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলম্ব হয়েছিল।
দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার । এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন ইমরান। দোদুল্যমান অবস্থায় না থেকে অবিলম্বে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেন ইমরান এইচ সরকার। ইমরান বলেন, এক ধরনের বুদ্ধিজীবী বলে থাকেন, জাগরণ মঞ্চ ট্রাইবুনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের উদ্দেশে ইমরান বলেন, যারা রাজপথে মানুষ হত্যা করছে, বাসে পেট্রোল বোমা মেরে ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে সে বিষয়ে কিছুই বলছেন না ওই সব বুদ্ধিজীবী। এ ধরনের বুদ্ধিজীবীদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সারাদেশে জামায়াত-শিবির যে নাশকতা চালাচ্ছে তা রুখে দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এবার ভিন্ন রকম আনন্দে ১৬ ডিসেম্বর ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করবে জাতি।
বিজয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্রলীগ (বাসদ) সভাপতি শামসুল ইসলাম সুমন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এসএম শুভ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কমান্ডের সভাপতি ইসহাক খান, সম্মিলিত ইসলামিক জোটের সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট্রের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, বাসদের কমরেড খালেকুজ্জামান প্রমুখ।