মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
দেশজুড়ে নাশকতার চেষ্টা ॥ জামায়াতী তাণ্ডব
০ সারাদেশে নিহত ৫
০ সাতক্ষীরায় আওয়ামী ও যুবলীগ নেতাদের কুপিয়ে ও শ্বাসনালী কেটে হত্যা
০ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের দোকানপাট বাড়িঘর ভাংচুর, আগুন লুটপাট
০ কাদের মোল্লার ফাঁসির পর মরিয়া জামায়াত-শিবির
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ‘মিরপুরের কসাই’ কাদের মোল্লার ফাঁসি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সারাদেশে জামায়াত-শিবির ব্যাপক তা-ব চালায়। মেতে ওঠে নাশকতায়। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তারা সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। অবশ্য যশোরে ট্রাকে আগুন দিতে গিয়ে নিহত হয়েছে এক জামায়াত কর্মী। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সড়ক অবরোধের সময় র‌্যাবের গুলিতে খোরশেদ আলম নামে একজন নিহত হয়েছে। পিরোজপুরের জিয়ানগরে একজনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছে। গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশনে দুটি ট্রেনে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় এবং যাত্রীদের এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং প্ল্যাটফর্মে ককটেল ও পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সংখ্যালঘুদের দোকানপাট, ঘরবাড়িতে নির্বিচারে হামলা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় অনেক স্থানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।
আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা নিহত ॥ স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরা থেকে জানান, সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তা-ব চালিয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে ও এক যুবলীগ নেতাকে জবাই করে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার কলারোয়া উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান আজুকে (৫৩) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ২০ থেকে ২৫ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে এবং ব্যাপক ভাংচুর চালায়। একই সময় পাশের বাড়ির আওয়ামী লীগ নেতা রোস্তম আলীর বাড়িতে ভাংচুর লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে রাত দেড়টার দিকে ২৫ থেকে ৩০ সন্ত্রাসী একই উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান জজ মিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায় এবং তাঁকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসনালী কেটে হত্যা করে। নিহতের ভাই আব্দুর রহমান জানিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এ হত্যাকা- চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরার বুধহাটা, আগরদাঁড়ী, ঝাউডাঙ্গা ও দেবহাটার পারুলিয়া বাজারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের দোকানপাট লুট করে পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলার আগরদাঁড়ী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন ও আবাদেহাট এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা তাপস আচার্য্য, শ্যামল ঘোষাল, গোপাল ঘোষালসহ সংখ্যালঘুদের ১০ বাড়ি ভাংচুর করে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয় জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা। আশাশুনির বুধহাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আক্তারুজ্জামানের বুধহাটা বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ওই বাজারের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৭টি সংখ্যালঘু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। একই সঙ্গে কুল্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসসহ কুল্যা এলাকার আরও ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে। সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাতের সাথী ক্লথ স্টোরসহ কিছু সংখ্যালঘুর দোকানপাট লুট করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দেবহাটার পারুলিয়া বাজারের আওয়ামী লীগ নেতার কাপড়ের দোকান জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া আরও সংখ্যালঘু পরিবারের ১০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। ওই রাতে কালীগঞ্জের বিষ্ণপুর চৌমুহুনী বাজারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বাপ্পী, আনারুল, মোসলেমের বাড়ি ও দোকানে লুটপাট এবং আগুন জ্বালিয়ে তা-ব চালায় জামায়াত-শিবির। শুক্রবার সকাল থেকেও জেলার বিভিন্ন স্থানে এই হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, সহিংসতার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব তা-ব নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
আগুন দিতে গিয়ে জামায়াতকর্মী নিহত ॥ যশোর অফিস জানায়, যশোরের বাঘারপাড়ায় ট্রাকে আগুন দিতে গিয়ে ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছে আশরাফুল নামে এক জামায়াতকর্মী। জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাঘারপাড়া-চাড়াভিটা সড়কের বোলতেঘাটা মোড়ে জামায়াতকর্মীরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে একটি ট্রাকে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলে মারা যায় জামায়াতকর্মী আশরাফুল। এ ঘটনার পর জামায়াতকর্মীরা ওই ট্রাকটিসহ আরও দুটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিহত আশরাফুল বাঘারপাড়া উপজেলার মহিরন গ্রামের মকবুল দর্জির ছেলে। শুক্রবার ভোরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের শতাধিক গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। মহাসড়কের মালঞ্চী থেকে নতুনহাট পর্যন্ত এসব গাছ কাটা হয়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব গাছ সরিয়ে সড়কের অবরোধ তুলে ফেলে।
র‌্যাবের গুলিতে নিহত ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা নোয়াখালী থেকে জানান, জামায়াত-শিবিরকর্মীরা জেলার বিভিন্ন বাজারে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম ও সড়ক অবরোধ করেছে। রাত ১২টার দিকে সড়ক অবরোধের সময় বেগমগঞ্জে র‌্যাবের গুলিতে খোরশেদ আলম নামের একজন নিহত ও ইমাম উদ্দিন নামের অপর একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই সময় বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর বাজারে আগুন ধরিয়ে দিলে ২৬ দোকান পুড়ে যায়। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা সেনবাগ বাজারে কাদরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা. আব্দুল হাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে তাঁর এক হাত এবং এক পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও পুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট বাজারে অন্তত ২০ দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হকের বাড়িতে হামলার চেষ্টা এবং বাড়ির সামনে দুটি দোকান ভাংচুর করে আগুন দেয়। একই সময়ে ইয়ারপুর গ্রামের বটতলা এলাকায় আওয়ামী লীগকর্মী মাইন উদ্দিনের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। জামায়াতকর্মীরা নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েও হামলা চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে সোনাইমুড়ি উপজেলার পদিপাড়া বাজারে আমিশাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পারভেজের দোকানে ভাংচুর করা হয়। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের মজুমদার হাট থেকে আপানিয়া পর্যন্ত সড়কে গাছ কেটে এবং গাছে গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করছে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।
সংঘর্ষে নিহত ১ ॥ পিরোজপুর থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জিয়ানগর উপজেলার ঘোষেরহাট বাজারে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জামায়াত ও বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছে। নিহতের নাম শুক্কুর আলী হাওলাদার। তিনি ঘোষেরহাটের সিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে এবং বিএনপিকর্মী বলে স্থানীয়রা দাবি করলেও তার পরিবারের সদস্যরা জানান শুক্কুর জামায়াতেরকর্মী। এ ঘটনার পর ঘোষেরহাট বাজারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এতে শুক্কুর আলী গুরুতর আহত হলে ভা-ারিয়া হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। জিয়ানগর থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, এ ধরনের ঘটনা তাদের কেউ জানায়নি। পিরোজপুর ও ভা-ারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ব্যাপক তা-ব চালিয়ে। পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কে ভৈরমপুরে স্টিল ব্রিজের প্লেট তুলে, গাছ কেটে ও রাস্তা খুঁড়ে এবং পিরোজপুর-শ্রীরামকাঠী সড়কে তেজদাসকাঠী ও বাবলায় গাছ কেটে এবং আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াত-বিএনপিকর্মীরা। এছাড়া তেজদাসকাঠীতে আওয়ামী লীগ অফিসে ভাংচুর করেছে। শিয়ালকাঠী-ভা-ারিয়া সড়কের বেলতলা স্টিল ব্রিজের পাটাতন খুলে ফেলেছে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা।
শিবিরকর্মী নিহত, আহত ২০ ॥ লাকসাম, কুমিল্লা থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার বাজারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আনোয়ার হোসেন নামে এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে লাকসাম-নোয়াখালী সড়কের বিপুলাসার বাজারে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে ফেলার চেষ্টা করে ও বাজারে দোকানপাট ভাংচুরসহ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশের ওপর ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি সদস্যরা প্রায় ২ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। শিবিরকর্মীরা নাথেরপেটুয়া এলাকায় একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে কার গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশিদ। এছাড়া রাতে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা লাকসামে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুর করেছে। তারা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনের একটি ফার্নিচার শো রুমে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।
যুবদল নেতার মায়ের হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু, আহত ৫৫ ॥ হবিগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ফাঁসি কার্যকর নিয়ে জামায়াত নেতার সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতার বাগ্বিত-াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকায় জামায়াত-শিবিরসহ ১৮ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় যুবদল নেতা নান্নুর মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরে তার মা আজিজুন্নেছা (৬৫) হার্টএ্যাটাকে মারা যান। ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ৫৫ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে লাঠিচার্জ এবং পরবর্তীতে অন্তত ২০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুই পুলিশ সদস্য আহত ॥ নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সদর উপজেলার ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় সড়কে যানজট সৃষ্টি হলে ট্রাফিক পুলিশের হাবিলদার জাকির হোসেন ও কনস্টেবল রফিক এগিয়ে গেলে মিছিলে অংশ নেয়া কর্মীরা তাদের পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় জাকির হোসেনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পাগলা সড়কে ১০ থেকে ১২টি গাড়ি ভাংচুর করে এবং পেট্রোল দিয়ে তিনটি ট্রাক ও একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
নগরীজুড়ে ককটেল আতঙ্ক ॥ রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপির বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে রাত ১১টা থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে থেমে থেমে ককটেল ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এছাড়া নগরীর সিটি বাইপাস এলাকায় গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করা হয়। তবে বিভিন্নস্থানে নাশকতার চেষ্টা চালালেও পুলিশ কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
৪২ দোকানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ॥ বাঁশখালী থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বাঁশখালীর বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির দফায় দফায় তা-ব চালিয়েছে। পুঁইছড়ি, নাপোড়া ও চাম্বল এলাকার তিনটি বেইলি ব্রিজের পাঠাতন উঠিয়ে এবং রাস্তা কেটে এলাকাবাসীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বাঁশখালীজুড়ে থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রধান সড়কের পুকুরিয়া থেকে টইটং পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গাছ কেটে এবং গুঁড়ি ফেলে পুরো সড়ক অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কালীপুর সদর আমিন হাট ও সাব রেজিস্ট্রার অফিসের পাশে, বৈলছড়ি বাজার, বাহারছড়া বশিরুল্লাহ মিয়াজি বাজার, নাপোড়া বাজার এলাকায় ৪২ দোকান, একটি মুরগির খামারে অগ্নিসংযোগ, নির্বিচারে ভাংচুর লুুটপাট চালিয়েছে। কালীপুরে ১২টির মতো দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন না থাকায় সর্বত্র থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে। বাঁশখালীজুড়ে গ্রামে গ্রামে পাহারা বসানো হয়েছে। হাটবাজারগুলোতে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
এ্যাম্বুলেন্সসহ অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাংচুর ॥ বাগেরহাট থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জেলার ফকিরহাট, রামপাল, সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির তা-ব চালিয়েছে। ফকিরহাটে মহাসড়কে সরকারী গাছ কেটে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সসহ অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাংচুর করেছে। এ সময় জিলানি শেখ (৩৮) নামে এক ট্রাক ড্রাইভার গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রামপালে ট্রাকে আগুন, যানবাহন ভাংচুর করেছে। ফকিরহাট উপজেলার কাকাডাঙ্গা মোড় হতে টাউন নওয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ২০টি গাড়ি এবং তেলির পুকুর নামক স্থানে প্রজেন্টা সি ফুডের একটি মাছভর্তি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও লখপুরের আমতলায় পিকেটারদের ধাওয়ায় কাঁচামালভর্তি ট্রাক সড়কে ফেলে রাখা গাছের ধাক্কায় উল্টে যায়। এ সময় অবরোধকারীরা পেট্রোল পাম্পে রাখা দুইটি বাস ভাংচুরসহ মহাসড়কের পাশে রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির সরকারী গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। খুলনা মোংলা মহাসড়কের শুকদাড়া, শ্যামবাগাত ও কুদির বটতলা, মোল্লারহাট সড়কের কাকাডাঙ্গা, সোনাখালী মোড়, বিশ্বরোড, তেলিরপুকুর পাড়, কলমের দোকান ও সাধুর বটতলা এবং বাগেরহাট সড়কের কাঁঠালতলা সড়কে রাতে যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গাড়ির চালক হেলপারকে মারপিট করাসহ যানবাহনের গ্লাস ভাংচুর করা হয়।
যানবাহন ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ॥ সিরাজগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলা সদর, উল্লাপাড়া ও বেলকুচিতে অন্তত অর্ধশত বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে জামায়াতÑশিবিরকর্মীরা। বেলকুচি উপজেলা সদরে একটি সিনেমা হলসহ ১৪টি বাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও অর্ধশতাধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। শেরনগর কামারপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রিয়াজুল ইসলামের তাঁত ফ্যাক্টরিতে হামলার পর একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল ভস্মীভূত করা হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া, মধুপুর, সগুনা, কান্দাপাড়া, চালাসহ বিভিন্ন গ্রামে অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাটিকুমরুল-পাবনা মহাসড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার শ্রীখোলা মোড়ে জামায়াতÑশিবিরকর্মীরা অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। সেখান তেলের মিলে থাকা তিনটি ট্রাক, সরিষা, তিল ও তেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। একই সময় তারা আওয়ামী লীগ অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও অফিসের সামনে একটি চায়ের স্টলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা শ্যামলীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ১০টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে উল্লাপাড়া মডেল থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। সদর উপজেলার চ-িদাসগাতী গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল হোসেন ও যুবলীগ নেতা আব্দুল ওয়াহাবের বাড়িসহ আওয়ামী লীগসমর্থিত কয়েক নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। পরে তারা সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কের সদর উপজেলার চ-িদাসগাতী বেইলি ব্রিজ ও রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা বেইলি ব্রিজের পাটাতন তুলে ফেলে। সদর উপজেলার মুলীবাড়িতে উত্তরবঙ্গগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
রেলস্টেশনে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর ॥ গাজীপুর থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার সকালে চাদর গায়ে দেয়া জামায়াত-শিবিরের ২০-৩০ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশনে প্রবেশ করে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়। একটি গ্রুপ স্টেশনের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম ও কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টারের অফিস রুমের সামনে এবং অপর গ্রুপ টিকেট বুকিং কাউন্টারের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় স্টেশনে চিত্রা এক্সপ্রেস ও পদ্মা এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেনে সন্ত্রাসীরা একসঙ্গে ঝটিকা হামলা চালিয়ে স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ লোকদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং প্ল্যাটফরমে কয়েকটি ককটেল ও পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা স্টেশনমাস্টার সরদার মাস্টার জিয়াউদ্দিন, সহকারী স্টেশনমাস্টার সোহরাব উদ্দিন, টিকেট বুকিং সহকারী আল আমিনসহ স্টেশনের কয়েক কর্মচারীকে মারধর করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত লোকজন ছুটোছুটি শুরু করেন। এ সময় জামায়াত শিবিরের কর্মীরা স্টেশনের ট্রফিক কন্ট্রোল (টিসি) রুম ও কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টারের অফিস রুমে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে ও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কন্ট্রোল বোর্ডসহ কম্পিউটার, টেলিফোনিক যোগাযোগের টেবলেট টোকেন বক্স, এনটিঅই, ব্লক ইন্সট্রুমেন্ট, বিভিন্ন স্টেশন ও গেটে যোগাযোগের জন্য ৮টি টেলিফোন লাইনের সব লাইন, আসবাবপত্র, জরুরী কাগজপত্র, ও যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। হামলাকারীরা জংশনের টিকেট কাউন্টারের একটি কম্পিউটারও ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ এগিয়ে গেলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। এতে জয়দেবপুর থানার এসআই দুলাল আকন্দ ও কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ শটগানের কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আগুনে কন্ট্রোল রুমের কম্পিউটার ও বিভিন্ন মালামালসহ পুরো সিগন্যালিং সিস্টেম পুড়ে যায়। হামলাকারীদের পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণে প্ল্যাটফরমে অপেক্ষমাণ ট্রেনের যাত্রী শামসুন্নাহার নামের এক গার্মেন্টকর্মী দ্বগ্ধ হন। তাঁকে গাজীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে গেছে। এ ঘটনায় ঢাকা থেকে জয়দেবপুর জংশন হয়ে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, খুলনা, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, তারাকান্দি, সৈয়দপুর, ময়মনসিংহ ও জামালপুর রুটে রেল যোগাযোগ কিছু সময় বন্ধ ছিল।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ॥ নীলফামারী থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে হাটবাজারের শতাধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও সংখ্যালঘু সস্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে জামায়াত-শিবির। রাত ১২টা থেকে জামায়াত-শিবির এ তা-বলীলা চালাতে থাকে। যে সব গ্রামে তা-বলীলা চালানো হয়, সে সব গ্রামের সকল রাস্তাঘাটে শতশত গাছ কেটে এবং বেইলি ব্রিজের পাটাতন উপড়ে এবং ছোট ছোট পুল কালভাট ভেঙ্গে দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ফলে এ সব এলাকায় পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা যেতে পারেনি। এ ছাড়া জেলা সদরের সঙ্গে ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়ক কেটে ফেলায় ওই সব উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক পথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রাত ১টার দিকে জলঢাকা থানায় হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় জামায়াত-শিবির। পুলিশ ও এলাকাবাসীর প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়। অগ্নিকা-ের ছবি তুলতে গেলে শিবিরকর্মীরা স্থানীয় একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। রাত ১২টার পর জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের কাচারী, বেলতলী ও শীশাতলী এই তিন বাজারে অবস্থিত আওয়ামী লীগ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মালিকাধীন অন্তত শতাধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুটপাটের পর পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এর পর লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শ্যামচরণ রায়, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ ৬ জন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এ সময় নারায়ণ চন্দ্র রায় (২৮) ও স্মরণী কান্ত রায়সহ ৮-১০ জন জামায়াত-শিবিরের হামলায় আহত হন। জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের তরুণীবাড়ি গ্রামের বিধান মাস্টারের হিন্দুপাড়ার বড়বাড়িতেও পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ডোমার উপজেলার ধরনীগঞ্জ বাজারের ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুটপাট করে ভাংচুর করা হয়েছে। ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে জামায়াত-শিবির। জলঢাকা উপজেলার রাজারহাট, টেঙ্গনমারী বাজারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান লুটপাট করা হয়। জেলা সদরের সঙ্গে অন্যান্য উপজেলার সংযোগ সড়কের তিনটি বেইলি ব্রিজের পাটাতন তুলে এবং রাস্তায় বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
নীলফামারী-জলঢাকা-কিশোরগঞ্জ উপজেলা সড়কের দুহুলী ব্রিজ, কঁচুকাটা ব্রিজ, ইটভাঁটির কালভাট ভেঙ্গে এবং নীলফামারী-ডোমার সড়কের হরতকীতলা বেইলি ব্রিজের পাটাতন উপড়ে ফেলে এবং ডিমলা উপজেলা সড়কের ভাদুরদরগাঁও নামক স্থানে রাস্তা কেটে ফেলেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। শুক্রবার ভোরে জেলার সৈয়দপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়দুল হক সরকারের কামারপুকুর কলেজপাড়ার বাড়ির ধানের গাদায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
সংখ্যালঘুদের অর্ধশত দোকান ও বসতবাড়ি ভাংচুর, লুট ॥ কক্সবাজার থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে তা-ব নৈরাজ্য, সংখ্যালঘুদের দোকান এবং বসতবাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে সদরের খুরু স্কুলের পালপাড়া ও টাইম বাজার এলাকায় সংখ্যালঘুদের প্রায় অর্ধশত দোকান ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ছাড়া রাতে খুরুশকুল টাইমবাজার এলাকার মগদ্বেশরী মন্দিরে আগুন দেয় তারা। এ ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার হাজার হাজার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। স্থানীয়রা জানান, রাতে তেতৈয়া, রুহুল্লার ডেইল, মনুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত সশস্ত্র জামায়াত-শিবির ক্যাডার এসে এ তা-ব চালায়। এ ছাড়া রাতে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টিসহ দুটি ট্রাক ও একটি টমটমে অগ্নিসংযোগ করে এবং ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ লুট করে। শহরের কালুর দোকান, বাজারঘাটা, বার্মিজ মার্কেট, আলির জাহাল, লিংক রোডসহ ১০-১৫টি স্পটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় জামায়াত-শিবির কর্মীদের।
যানবাহন অফিস ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে আগুন ॥ বগুড়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, বগুড়ার দক্ষিণে জাতীয় মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাছ কেটে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক বন্ধ করা হয়। পুলিশ রাস্তা পরিষ্কার করার পর ফের গাছ কেটে রাস্তা বন্ধ করা হয়। শেরপুরে এক বৃদ্ধ রাস্তার গাছ অপসারণ করতে গেলে শিবিরের ক্যাডাররা তার হাতের আঙুল কেটে দেয়। উত্তরদিকে মাটিডালি এলাকায় জাতীয় মহাসড়কের অনেকটা কেটে ফেলা হয়। কাহালু রেলস্টেশনের কাছে ইলাসটিক রেল ক্লিপ খুলে রেললাইনের নিচে মাটি খুঁড়ে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি করা হয়। বিকাল পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি যানবাহন ভাংচুর ও আগুন লাগানো হয়। শহরতলীতে আকিজ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের আঞ্চলিক গুদামে আগুন লাগিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়। সেখানে ১০টি ট্রাক ৪টি প্রাইভেটকার ৯টি মোটরসাইকেল ও ১৫টি হালকা যানবাহন ভাংচুর করে আগুনে পোড়া হয়। ফটকি ব্রিজের কাছে চিনিবোঝাই ও পোলট্রি ফিডের ২টি ট্রাকে আগুন লাগানো হয়। ধামছায়াপুরে আগুন লাগানো হয় সবজিবোঝাই ট্রাকে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিসে আগুন লাগানো হয়। চেংরামাগুর এলাকায় যুবলীগের অফিস ভাংচুর করে ব্যবসায়ী তুহিকে পেটানো হয়। গণজাগরণ মঞ্চে অংশ নেয়ায় বৃন্দাবনপাড়ার দুই যুবককে বেধড়ক মারপিট করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা অফিস ভাংচুর ॥ কুড়িগ্রাম থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কুড়িগ্রামে রাতের অন্ধকারে সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পাটেশ্বরীবাজারে শতাধিক জামায়াত-শিবির ক্যাডার ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। পরে তারা ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে হামলা ও ভাংচুর চালায়।
ফেনী ॥ শুক্রবার সকালে মহাসড়কে ৪টি গাড়িতে আগুন দেয় এবং টেলিফোন ভবনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে এবং বৃহস্পতিবার রাতে শহরের এসএসকে রোডের মার্কেন্টাইল ব্যাংকে আগুন দেয় শিবিরকর্মীরা। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপালে ১০টি ট্রাকে ও ফাজিলপুর রেলস্টেশনে আগুন দেয়।
দিনাজপুর ॥ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা চিরিরবন্দর উপজেলার ভূষিরবন্দরে জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ভবানী শংকর আগরওয়ালা ও ইউপি চেয়ারম্যান সুনীল কুমার সাহার বাড়ি ও মিলে অগ্নিসংযোগ করেছে। দফায় দফায় হামলা চালিয়ে তারা ৫টি বাস, একটি জিপ, একটি পিকআপ ও ২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় তারা। এ ছাড়া দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল হক চৌধুরীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর এবং চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুর রহমান শাহর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। চিরিরবন্দরের কাঁকড়া ব্রিজের পাটাতন খুলে দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
পার্বতীপুর ॥ উপজেলার যশাই হাটের বেশকিছু দোকান ভাংচুর ও লূটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। যশাই মোড় থেকে আমবাড়ী হাট পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার ও পার্বতীপুর-দিনাজপুর সড়কে ভবেরবাজার থেকে ২ কিলোমিটার পশ্চিম পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের শত শত মূল্যবান গাছ কেটে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে।
কুমিল্লা ॥ জেলা পরিষদের প্রশাসক ওমর ফারুকের নগরীর ঠাকুরপাড়া বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ২টি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। শুক্রবার সকালে নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় কমিউনিটি পুলিশ বক্স এবং ভোরে জেলার চৌদ্দগ্রামের বাতিশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও মিয়াবাজারের শুয়ারখিল সড়কে মুজিব সেনা ক্লাবে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা ॥ একটি ট্রাক, ইউপি কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা।
চাঁদপুর ॥ শহরে গাড়ি ভাংচুর ও সড়কে আগুন দিয়েছে শিবিরকর্মীরা। সন্ধা ৭টার পর চাঁদপুর সরকারী কলেজ গেট এলাকায় একদল শিবিরকর্মী হঠাৎ রাস্তায় এসে কয়েকটি অটোবাইক ও রিক্সা ভাংচুর করে।
ঝিনাইদহ ॥ মধ্যরাতে সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা বাজারের পাশে ৫টি পণ্যবাহী ট্রাক ও ১টি প্রাইভেটকারে আগুন দেয়। একই সময় তারা মহেশপুর উপজেলার সামন্তা ও ইসলামপুর গ্রামে কয়কজন আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থকদের বাড়িঘরে আগুন দেয় এবং সামন্তা বাজারে ৫টি দোকান ভাংচুর করে।
কচুয়া, চাঁদপুর ॥ উপজেলার কাশিমপুর-ঢাকা সড়কের মনপুরা নামক স্থানে একটি বাস পুড়িয়ে দেয় এবং গাছে আগুন, ব্রিজ ভাংচুর ও রাস্তা কেটে ফেলে। এ ছাড়া চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের জগতপুর এলাকায় গাছ কেটে সড়ক অবরোধ, মনপুরা ও বাছাইয়া নামক দুই স্থানে সড়ক কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
রায়পুর, লক্ষ্মীপুর ॥ সশস্ত্র জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের মালিকানাধীন প্রাইভেট হাসপাতাল, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
নওগাঁ ॥ পোরশা উপজেলার নিতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পার্কিং করা সোনারতরী নামক ঢাকাগামী কোচে আগুন ধরিয়ে দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসেও আগুন দেয়।
জয়পুরহাট ॥ জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, লুটপাট চালায় ব্যাপকভাবে। তাদের দানবীয় আচরণে জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি এলাকার শত শত সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ রাতে শহরের বড় ইন্দারা মোড় এলাকায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক, যমুন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢিল ছুড়ে কাচ ভাংচুর করে ও বেশ কিছু ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও মহাসড়ক কেটে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
ঠাকুরগাঁও ॥ ২৮ মাইল ও ২৯ মাইল নামক এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটারজুড়ে গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে।
সুনামগঞ্জ ॥ মধ্যরাতে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে সন্ত্রাসীরা পুলিশ বক্স ভাংচুর করেছে। এ সময় তারা ছাতক-সিলেট সড়কের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় ৩টি সিএনজি, ২টি ট্রাক ও ১০টি দোকানে ভাংচুর করে।