মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৩, ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২০
যেভাবে বিচার হয় কাদের মোল্লার
বিকাশ দত্ত ॥ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের মার্চ মাসে। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় মামলার তদন্ত, সাক্ষী জোগাড়, শুনানি, যুক্তি-পাল্টা যুক্তির পর ট্রাইব্যুনালে কাদের মোল্লার মামলায় প্রথম রায় হয়েছিল গত ৫ ফেব্রুয়ারি। রায়ে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করা হলে গোটা জাতি একযোগে ফুঁসে ওঠে। আইনের সংশোধন এবং আপীল বিভাগে বিচারকাজ চলার পর যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ হয় আপীল বিভাগে। এর পর শুধু রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা।
সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে আরও ৬টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ২টি মামলার আসামি পলাতক থাকায় তাদের ট্রাইব্যুনালের সাজা মৃত্যুদ-ই বহাল রয়েছে। একটি মামলা ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। ৮টি মামলার বিচারকাজ চলছে। বাকি ১২টি মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্তাধীন রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়ায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয় ২০১০ সালের ১৩ জুলাই। মানবতাবিরোধী অপরাধের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ বিচারিক কাজ শেষে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। ট্রাইব্যুনালে অপর দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও মোঃ শাহিনুর ইসলাম। রায়ের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেয়। সেখানে ধর্ম-বর্ণ, ছোট বড় সবাই এসে তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন। তারা কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। অবশেষে সরকার আইন সংশোধন করে। আসামির পাশাপাশি সরকারপক্ষও আপীল করার সুযোগ পায়। কাদের মোল্লার সাজা বাড়াতে গত ৩ মার্চ আপীল করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরের দিন ৪ মার্চ বেকসুর খালাস চেয়ে আপীল করে আসামিপক্ষ। গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আপীল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল আপীল বিভাগ। চূড়ান্ত শুনানি শেষ হওয়ার এক মাস ২৪ দিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণা করেন সর্বোচ্চ আদালত। রায়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ওই রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা), বিচারপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক মানিক। ৫ ডিসেম্বর আপীল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। ৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায়ের কপি পাঠানো হয়। এর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন, বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেন।
চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ দেয়া আরও ৬টি মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আপীল বিভাগে। এর মধ্যে আছে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান সেক্রেটারি জেনরেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আব্দুল আলীম। এ ছাড়া জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় ট্রাইব্যুনালে অপেক্ষমাণ রয়েছে। যে কোন সময় তার রায় ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি দুটি ট্রাইব্যুনালে আরও ৮টি মামলার বিচারকাজ চলছে। সেগুলো হলো জামায়াতের নেতা মীর কাশেম আলী, সিনিয়র নায়েবে আমির একেএম ইউসুফ, এটিএম আজাহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুস সোবহান, বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা হাজী মোঃ মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সার। আর যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তারা হলেন, বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাতীয় পার্টির ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বর, রাজাকার সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, রুস্তম আলী, আমজাদ মিনা, যশোরের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, আল-বদর বাহিনীর উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, রাজাকার সেয়দ মোঃ হোসেন ওরফে হাছেন আলী, মোঃ নাসির, আতাউর রহমান। পলাতক থাকার কারণে বাচ্চু রাজাকার হিসেবে পরিচিত আবদুল কালাম আজাদ ও আলবদর বাহিনীর অপারেশন ইনচার্জ চৌধুরী মাঈনুদ্দিন এবং চীফ এক্সিকিউটর মোঃ আশরাফুজ্জামান খানকে মৃত্যুদ-, বিরুদ্ধে কোন আপীল করা হয়নি।
সর্বপ্রথম সংশোধনী পর ॥ সংাবিধানে প্রথম সংশোধনীর পর ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ পাস হয়। এর খসড়া রচনা করেছেন বাংলাদেশ, ভারত এবং ইউরোপের বিশিষ্ট আইনজ্ঞগণ। এই আইন প্রণয়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ১৯৭২ সালেই একটি সেল গঠন করেন। তাঁকে সহায়তা করেছেন, বিচারপতি এফ কে এম এ মুনিম, প্রবীণ আইনজীবী সবিতা রঞ্জন পাল, সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল ফকির শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ, তৎকালীন আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নাসিম উদ্দিন আহম্মেদ, ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদ, সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম ও ওয়ালিউর রহমান। এ ছাড়া এ আইন প্রণয়নে সহায়তা করে ভারতের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যরিস্টার সুব্রত রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার দীপঙ্কর ঘোষ, ইউরোপের প্রফেসর ইয়েশেক ও অটো ভন ট্রিফটাপরার। শেষের দুজন নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠন ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) গঠন করেন। এতে সাড়া দেশে ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। দালাল আইন জারির পর ১৯৭৩ সালের ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশ থেকে ৩৭ হাজার ৪১৭ জন দালালকে গ্রেফতার করা হয়। শুরু হয় রাজাকার আল-বদর আল-শামসদের বিচার। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার ৮৪৮টি মামলার নিষ্পত্তি হয়। তার মধ্যে ৭৫২ জন দ-িত হয়। খালাস পায় ২ হাজার ৯৬ জন। সাধারণ ক্ষমায় ৩৭ হাজারের মধ্যে ২৬ হাজার ছাড়া পেয়েছিলেন। ১১ হাজারের বেশি ব্যক্তি আটক ছিল। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এর পর ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি সায়েম ও জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার দালাল আইন বাতিল করে। ফলে এই ১১ হাজার ব্যক্তির পক্ষে আপীল করে জেল থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ ঘটে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ॥ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সর্ববৃহৎ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা উল্লেখ করে। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ২৯ জানুযারি জাতীয় সংসদে দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস হয়। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী। সেই অনুযায়ীই ২০১০ সালের ২৫ মার্চ পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলা কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
মামলার ইতিবৃত্ত ॥ ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এর পর ২০০৮ সালে তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানাতেও মামলা দায়ের করা হয়। ২০১০ সালের ১৩ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত সংস্থা তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ২ এ স্থানান্তর করা হয়। মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হয়। প্রসিকিউশন লিস্টের মোট ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে এ মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১২ জন ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৫ নবেম্বর কাদের মোল্লার পক্ষে তার নিজের সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে মোট ৯৬৫ সাক্ষীর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের বেধে দেয়া ৬ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। কাদের মোল্লার সাজা বাড়াতে গত ৩ মার্চ আপীল করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরের দিন ৪ মার্চ বেকসুর খালাস চেয়ে আপীল করে আসামিপক্ষ। গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আপীল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল আপীল বিভাগ। চূড়ান্ত শুনানি শেষ হওয়ার এক মাস ২৪ দিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণা করে সর্বোচ্চ আদালত। রায়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়।
কাদের মোল্লার পরিচয় ॥ আব্দুল কাদের মোল্লা ১৯৪৮ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম সানাউল্লা মোল্লা। সাং আমিরাবাদ, থানা-সদরপুর, জেলা-ফরিদপুর, বর্তমান ঠিকানা ফ্লাট-৮-এ/গ্রিন ভেলি এ্যাপার্টমেন্ট, ৪৯৩ বড় মগবাজার। তিনি ১৯৬১ সালে আমিরাবাদ ফজলুল হক ইনস্টিটিউশনে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ হতে ডিগ্রি পাস করেন এবং ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন। ১৯৬৬ সালে সরকারী রাজেন্দ্র কলেজে বিএসসি প্রথম বর্ষে পড়াকালীন উক্ত ছাত্র ইউনিয়ন ছেড়ে ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগদান করেন। বিএসসি ২য় বর্ষের শেষের দিকে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি শহীদুল্লাহ হলে থাকতেন এবং ১৯৭০ সালের অক্টোবরে তিনি শহিদুল্লাহ হলের ছাত্রসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘ ইসলামী ছাত্রশিবির নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি তখন ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হন। আসামি আব্দুল কাদের মোল্লা ১৯৭৭ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দান করেন। যদিও জামায়াতে ইসলামী তখনও প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আসেননি। ১৯৭৮ সালে তিনি রাইফেল পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ আব্দুল হামিদ আল খতিবের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও আর্থিক সহায়তায় দেশে মুসলমান ছেলে-মেয়েদের আন্তর্জাতিক মানের একটি ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্যে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে গুলশান-১ নম্বর মার্কেটের দক্ষিণ পার্শ্বে ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে মানারাত ইউনিভার্সিটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে তিনি প্রায় ১ বছর কাজ করেন। ১৯৮০ সালে দৈনিক সংগ্রাম-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। তখন তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য হতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে নিয়োজিত হন। পরবর্তীতে আব্দুল কাদের মোল্লা জামায়াতের ইসলামীর প্রচার সম্পাদক পদে নিয়োজিত হন। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সদরপুর-চরভদ্রাসন আসন থেকে নির্বাচন করেন। কিন্তু উভয় নির্বাচনে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।