মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২০
আগামী গ্রীষ্মে কোন লোডশেডিং হবে না ॥ অর্থমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী গ্রীষ্মে দেশে কোন লোডশেডিং হবে না। বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সোমবার বিদ্যুত ভবনে ‘বিদ্যুত খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহিত বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ শুরু হবে। মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় দেশে বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট ছিল। তখন সরকার বলেছিল সঙ্কট সমাধানে তিন বছর সময় লাগবে। আমরা তা পেরেছি। বিদ্যুত চাহিদা মোকাবেলায় রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্র প্রয়োজন। এ সকল প্রকল্প আরও কিছুদিন থাকবে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াটের মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও আগে ২০ হাজার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল।
কয়লা উত্তোলন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হবে। এজন্য অনেক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য অনেক কয়লা আমদানি করতে হবে। তবে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে নানা মতবিরোধ থাকায় পরিবেশসহ সার্বিক বিষয়ে আরও গবেষণা ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন মন্ত্রী।
মহাজোট সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের চেয়েও বেশি বিদ্যুত উৎপাদন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। এতে দেশের বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সকল উন্নয়ন কর্মকা- অব্যাহত থাকবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর বলেন, বিদ্যুত উৎপাদনে সার্বিক সহায়তা দেবে পেট্রোবাংলা। তবে দেশের গ্যাস উৎপাদনের বিষয়টিও সরকারের মাথায় রাখতে হবে। এজন্য এলএনজি আমদানি করাটা জরুরী। কেউ কেউ ব্যয়বহুল উল্লেখ করলেও তা ঠিক নয় জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের চাইতে এলএনজির অনেক কম দাম পড়বে।
বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, বিইআরসির চেয়ারম্যান এ আর খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ, জ্বালানি সচিব মোজাম্মেল হক খান, নৌপরিবহন সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও রেলপথ বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) পরিচালক (সিস্টেম প্ল্যানিং) মিজানুর রহমান বলেন, ২০২১ সালে দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদা দাড়াবে ১৮ হাজার ৮৩৮ মেগাওয়াট। এ সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সাত শতাংশ। এ হিসেবে পিডিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরে ৭৬৭ মেগাওয়াট, ২০১৪ সালে এক হাজার ৯৭০ মেগাওয়াট, ২০১৫ সালে দুই হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, ২০১৬ সালে দুই হাজার ১৪৮ মেগাওয়াট, ২০১৭ সালে এক হাজার ২৭১ মেগাওয়াট, ২০১৮ সালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, ২০১৯ সালে দুই হাজার ৮৭ মেগাওয়াট, ২০২০ সালে দুই হাজার মেগাওয়াট এবং ২০২১ সালে তিন হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ সময় মোট ১৭ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। এর মধ্যে সরকারী খাতে দশ হাজার ২৪৬ মেগাওয়াট এবং বেসরকারী খাতে সাত হাজার ৬৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, আগামী আট বছরে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে পাঁচ হাজার ১৮৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও দেড় কোটি টন জ্বালানি তেল প্রয়োজন পড়বে।