মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২০
তাঁতীবাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে দিনে দুপুরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাস্তার এপাশ দিয়ে ঢুকতেও পুলিশ, ওপাশ দিয়ে বের হতেও পুলিশ। দু’প্রান্তেই পুলিশের সর্বক্ষণিক প্রহরা। রয়েছে পুলিশের ফাঁড়ি। তাঁতীবাজার গলির সবটা জুড়েই সারিবদ্ধ সোনার দোকান। পথচারী ও ক্রেতাসাধারণের ভিড় তো নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিত্র। অপরাধ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে- এমন পরিবেশ নিরাপদ। কিন্তু এত লোক সমাগমের মধ্যে হঠাৎ ৪/৫ যুবক কমান্ডো স্টাইলে হানা দেয় একটি দোকানে। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ হাতে নিয়ে মাত্র ৫টি বোমা ফাটিয়েই নির্বিঘেœ কেটে পড়ে। চোখের পলকেই ঘটে গেল দুর্ধর্ষ ডাকাতি। পুলিশ জনতা কেউই তাদের রুখতে পারেনি। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ভাষায়, এটা দিনে-দুপুুরে ডাকাতি।
রাজধানীর তাঁতীবাজারে পুলিশ ফাঁড়ির পাশে এভাবেই ঘটেছে দুর্ধর্ষ ডাকাতি। পুলিশ বলছে, এটা অবিশ্বাস্য কায়দায় ডাকাতি। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে তাঁতীবাজারে মন্দিরা বুলিয়ন এ্যান্ড জুয়েলার্সেই ঘটেছে ডাকাতির ঘটনা। সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বোমা ফাটিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি পুলিশও এ ঘটনার জন্য জনগণকে কিছুটা অভিয্ক্তু করে বলেছে, পুলিশকে যদি জনগণ সহায়তা করত তাহলে দুর্ব্ত্তৃদের আটক করা যেত।
এ ঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় ডাকাতি হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ জানাতে পারেনি পুলিশ ও দোকান মালিক।
কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ জামাল পাশা জনকন্ঠকে বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে মন্দিরা বুলিয়ন এ্যান্ড জুয়েলার্স নামে একটি স্বর্ণের দোকানে ক্রেতা সেজে ৪ থেকে ৫ যুবক প্রবেশ করে। তারা দোকান থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পর পর ৪ থেকে ৫টি বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।
কী পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বর্ণের পরিমাণ দোকান মালিক পুলিশকে জানাতে পারেনি। তবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে ডাকাতদল। পুলিশ ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ডাকাতির ঘটনা পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। দোকানের কর্মচারী কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
স্বর্ণের দোকানের এক কর্মচারী জানান, দোকানের মালিক শ্যাম ঘোষ ডাকাতির পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এখনও তারা হিসাব করতে পারেনি কী পরিমাণ স্বর্ণ ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
এদিকে তাঁতীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগেও ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে চুরি ও ডাকাতি হয়েছে। পুলিশ সে সব ঘটনায় জড়িত কাউকেই গ্রেফতার করেনি।