মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২০
হরতাল আতঙ্কের মধ্যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু কাল
মোট শিক্ষার্থী ২৯ লাখ ৫০ হাজার, এর মধ্যে এবতেদায়ী পরীক্ষার্থী তিন লাখ ১৪ হাজার ॥ শেষ হবে ২৮ নবেম্বর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ অষ্টম শ্রেণীর ২০ লাখ শিক্ষার্থীর মতো হরতালের আতঙ্ক নিয়েই এবার প্রাথমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে ২৯ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ শিক্ষার্থী। আগামীকাল থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ এ পাবলিক পরীক্ষা। মোট ছয় হাজার ৫৭৪টি এবং বিদেশের ৮টি কেন্দ্রে পঞ্চম বারের মতো এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষ হবে ২৮ নবেম্বর। এবার প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবেন। পরীক্ষার প্রথম দিন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সচিব কাজী আখতার হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ প্রমুখ। ডা. আফছারুল আমিন বলেন, অন্য বছরগুলোতে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা হয়েছে। এবার ২৫ শতাংশ যোগ্যতাভিত্তিক (সৃজনশীল) প্রশ্ন থাকায় ৩০ মিনিট সময় বাড়ানো হয়েছে। এবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থী হলো তিন হাজার ৭৯২ জন। বিদেশের কেন্দ্রের মধ্যে রিয়াদ, জেদ্দা, আবুধাবী, বাহরাইন, দুবাই, কাতার, ত্রিপোলী এবং ওমান থেকে মোট ৭৭৪ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেবে। মন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে আরও স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য গত বছরের ন্যায় এক উপজেলা বা থানার উত্তরপত্র অন্য উপজেলা বা থানায় নিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে নির্দেশনা দেয়া আছে যে, উত্তরপত্র ভাইস ভার্সা করা যাবে না। কোন্্ উপজেলার উত্তরপত্র কোন্্ উপজেলায় নিয়ে মূল্যায়ন করা হবে সে বিষয়ে জেলা কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৪০৬ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের এবতেদায়ীর পরীক্ষার্থী তিন লাখ ১৪ হাজার ৭৮৭ জন। প্রাথমিকের মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ১৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৭ জন এবং ছাত্র ১২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৯ জন। এবতেদায়ীর মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এক লাখ ৫৭ হাজার ২২৭ জন ছাত্র এবং এক লাখ ৫৭ হাজার ৫৬০ জন ছাত্রী। পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ টাকা। ১১৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রকে দুর্গম চিহ্নিত করে ওইসব কেন্দ্রে প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হবে। জানা গেছে, পরীক্ষা শেষে আগামী ২৬ ডিসেম্বর সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীরা নম্বরপত্র পাবে এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আগামী ২০ জানুয়ারি সনদপত্র দেয়া হবে। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে এই সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর এবতেদায়ীতে এ পরীক্ষা শুরু হয় ২০১০ সালে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে আগামীকাল ২০ নবেম্বর গণিত, ২১ নবেম্বর বাংলা, ২৪ নবেম্বর ইংরেজী, ২৫ নবেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২৭ নবেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং ২৮ নবেম্বর ধর্ম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে আগামীকাল ২০ নবেম্বর গণিত, ২১ নবেম্বর বাংলা, ২৪ নবেম্বর ইংরেজী, ২৫ নবেম্বর পরিবেশ পরিচিতি সমাজ/পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান, ২৭ নবেম্বর আরবী এবং ২৮ নবেম্বর কোরান ও তাজবিদ এবং আকাঈদ ও ফিকহ্।
ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে ‘বাংলা’ বাধ্যতামূলক ॥ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রকাশিত বাংলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় দুটি বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সভাকক্ষে এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েও বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আমাদের মাতৃভাষা আন্দোলন বিশ্বজয় করেছে। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ সারা বিশ্বের ভাষা সংগ্রামের প্রতীক, বিজয়ের প্রতীক। ১৯৯৯ সালের ১৭ নবেম্বর ইউনেস্কো মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছা ও দূরদৃষ্টির কারণে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে দু’দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আন্দোলনের পুরোধা কানাডাপ্রবাসী বাঙালী রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামসহ ‘মাতৃভাষা প্রেমিক’ গোষ্ঠীর সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ১৫ মার্চ জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কোফি আনানের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ইনস্টিটিউটের কোন কাজই করেনি। আমরাই আবার এর নির্মাণ কাজ করেছি। বর্তমান সরকার এ ইনস্টিটিউটকে ইউনেস্কো’র ক্যাটাগরি-২ এর প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার নৃ-ভাষা জরিপের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। শীঘ্রই এ কাজ শুরু করা হবে।