মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২০
গাজীপুরে মায়ের নামে হাসপাতাল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই ॥ শেখ হাসিনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ১৮ নবেম্বর ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ অঞ্চলের প্রধান শত্রু দারিদ্র্য। আমরা এ দারিদ্র্য দূর করে এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করার মাধ্যমে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যাতে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে। এ জন্য আমি আঞ্চলিক সহযোগিতা কামনা করি।
তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল গরিব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। তাই গরিব জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করি। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ধানম-ি ৩২ নম্বরের বাড়িসহ সব অর্থ সম্পদ ট্রাস্টের হাতে তুলে দেই। তিনি বলেন, এই ট্রাস্ট থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও দুস্থ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয় মেটানো হচ্ছে। দেশব্যাপী আই ক্যাম্প স্থাপনসহ গরিব রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এই ট্রাস্টের সর্ববৃহৎ জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে- এই শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর সারাবো তেঁতুইবাড়ি এলাকায় নবনির্মিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো শ্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ার কেপিজে হেলথকেয়ারের প্রেসিডেন্ট বাহার্ড তুয়ান হাজী আমিরউদ্দিন আব্দুল সাত্তার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান ও ট্রাস্টের সদস্য নাজমুল হাসান পাপন এমপি। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহসভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী দাতো শ্রী রুশমা মুনসুর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, আকম মোজাম্মেল হক এমপি। এ ছাড়াও দুই দেশের প্রতিনিধি, হাইকমিশনার এবং উর্ধতন সরকারী কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও কেপিজের হেলথকেয়ার বাহার্ডের প্রেসিডেন্টকে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান স্থলে এসে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং মোনাজাত করেন। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু প্রত্যাশিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের যাত্রা শুরু হলো। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। এ জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ হাসপাতালে ৩০ ভাগ দরিদ্র রোগী চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রত্যাশা এবং আমার ও আমার বোনের বহু দিনের লালিত স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নের এই শুভলগ্নে আমরা দুইজনই গভীর আবেগে আপ্লুত। আমরা আজ বিশেষভাবে আনন্দিত এ জন্য যে, আমাদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বন্ধু রাষ্ট্র মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো শ্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক। আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাঁর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, আমরা উভয়েই দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বাবা তুন আব্দুল রাজাক হোসেইন যখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তখন বঙ্গবন্ধুও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। আজ এর উদ্বোধন করা হলো। ৬ দশমিক ১৩ একর জমির উপর ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী অগ্রাধিকার পাবে। পাশে হাইওয়ে, শিল্প-কলকারখানা, ইপিজেড এবং আশপাশে অনেক গার্মেন্টকর্মী বসবাস করে। তারা উন্নত সেবা পাবে। সব ধরনের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নারী, শিশু এবং প্রতিবন্ধী বিশেষ করে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। উচ্চশিক্ষিত নার্স তৈরি হবে। এ আধুনিক হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকছে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কামপুলান পেরুতান জহুর (কেপিজে)। এই উদ্যোগ পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এর ফলে এ হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দক্ষ চিকিৎসক গড়ে উঠবে। চিকিৎসার মান বাড়বে। সাধারণ মানুষও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা কমবে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের আমলে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি গত ৫ বছরে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য, যোগাযোগ, ক্রীড়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। অর্থনীতিতে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছি। দেশ দ্রুত আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের এ অগ্রগতির প্রশংসা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্ন অনুযায়ী ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ সোনার বাংলা গড়ে তুলব। এ লক্ষ্য পূরণে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিটি নাগরিককে অবদান রাখার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের পরম বন্ধু। বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্কও শক্তিশালী হচ্ছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের তৃতীয় শীর্ষ আমদানি উৎস। আমাদের পণ্য রফতানি অনেক কম হলেও উত্তরোত্তর তা বাড়ছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করি। মালয়েশিয়ার সরকারের সহযোগিতার ফলে সমস্যা কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার জনশক্তি রফতানি শুরু করতে পেরেছে। জি-টু-জি ভিত্তিতে জনশক্তি রফতানি আরও বেগবান হবে বলে আশা করি। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা আইসিটি ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে বিনিয়োগ করেছে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ অন্যান্য খাতে আরও বিনিয়োগ করার জন্য আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এ হাসপাতালটিতে যত রকমের সহযোগিতা দরকার, তাঁর সরকার তা করবে। এ ছাড়াও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়নের তেঁতুইবাড়ি গ্রামের সারাব মৌজায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার হাসপাতাল ‘চেইনর’ সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখানে রয়েছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ও ৫০ আসনের নার্সিং কলেজ। এ অঞ্চলের অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বেসরকারী সংস্থা কেপিজে হেলথকেয়ার বাহার্ড এই হাসপাতাল পরিচালনা করবে। কেপিজে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ২৩টি হাসপাতাল পরিচালনা করছে।
২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৩ সালের জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় ৬ দশমিক ১৩ একর জায়গার উপর এ প্রকল্পের আওতায় হাসপাতাল ভবন, নার্সিং কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেল ভবন, চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন, চিকিৎসক ও অতিথি ডরমেটরি ভবন, মসজিদ ভবনসহ ৯টি ভবন ছাড়াও দোকান, গাড়ি পার্কিং, সামাজিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্ট ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে (পিপিপি) এ হাসপাতাল নির্মাণ করে। এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১৫৩৩ দশমিক ৪৬ লাখ টাকা। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শতকরা ২১ দশমিক ৩৪ ভাগ এবং সরকার ৭৮ দশমিক ৬৬ ভাগ ব্যয় বহন করেছে। দেশে সরকারী পর্যায়ে প্রথমবারের মতো এ হাসপাতালে আধুনিক ‘ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ নির্মাণ করা হয়েছে। এ প্ল্যান্টে কেমিক্যাল ব্যবহারের পরিবর্তে বায়োলোজিক্যাল পদ্ধতিতে হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনগুলোতে ব্যবহৃত পানিশোধন করে পার্শ্ববর্তী খালে নির্গত করা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে মাতৃত্ব ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে এবং সড়ক দুর্ঘটনাজনিত রোগীদের জরুরী চিকিৎসা, দরিদ্র রোগীদের এক তৃতীয়াংশ খরচে সঠিক চিকিৎসা প্রদান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সেবা প্রদান নিশ্চিত করা, অত্যাচারের শিকার নারী চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেয়া হবে। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল ছাত্রী, নার্স এবং প্যারা মেডিক্যাল ছাত্রদের ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
হাসপাতালে যেসব সেবা দেয়া হবে তা হলো- ডায়াগনস্টিক সুবিধা, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, গৃহস্থালি, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, রেফারেল, পরিবার পরিকল্পনা প্রভৃতি। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো- যে সব ??বাংলাদেশী রোগী সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো দেশের আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়, সে সব বিদেশগামী রোগীর প্রবাহ বন্ধ করা। বিশ্বমানের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে, মেমোরিয়াল ট্রাস্ট স্থানীয় ডাক্তারসহ হাসপাতালের বিশেষ প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স এবং প্রযুক্তিবিদরা চিকিৎসা প্রদান করবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্ট ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে (পিপিপি) ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ একর জমির উপর এই হাসপাতাল নির্মাণ করে।
এখানে ১০ তলা ভিতের উপর নির্মিত ৮ তলা ভবনের অত্যাধুনিক হাসপাতালে ২৫০ শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আধুনিক এ হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় ইমারজেন্সি, এমআরআই, এক্সরে, সিটিস্ক্যান বিভাগ, দ্বিতীয় তলায় ওপিডি, ল্যাবরেটরি, প্রশাসনিক বিভাগ, তৃতীয় তলায় ওপিডি, মাল্টিপারপাস হল, কনসালটেন্ট ডাক্তার রুম, চতুর্থ তলায় আইসিইউ, সিসিইউ, এনজিওগ্রাম, গাইনি ওটি, ৪টি সাধারণ ওটি, পঞ্চম তলায় ৮টি ওটি পোস্ট অপারেটিভ, ষষ্ঠ তলায় ৪৬টি কেবিন, সপ্তম তলায় ১৬টি ওয়ার্ড ও অষ্টম তলায় ২০টি ওয়ার্ড রয়েছে। এ ছাড়াও ৫টি বেড লিফট, ২টি প্যাসেঞ্জার ও ১টি ক্যাপসুল লিফট রয়েছে। হাসপাতালে শতকরা ৩০ ভাগ গরিব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে এ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৫০ আসনের নার্সিং কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে ২৬৮ আসনের মাল্টিপারপাস হলরুম বা অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৬ তলাবিশিষ্ট হোস্টেল ভবনে দুটি আলাদা উইং ও লিফট রয়েছে। প্রতিটি উইংয়ে ১২৫ জন করে ছাত্রছাত্রী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।