মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২০
নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘৃণা করবে মানুষ
মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে এরশাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহাজোট ছেড়ে সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও আলোচনায় বসা, সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়া ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এ ছাড়াও সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দিয়ে এরশাদ বলেন, ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হলে সকলে মিলে নির্বাচন বর্জন করব।
সোমবার জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম এরশাদ বলেন, চলমান সঙ্কট মোকাবিলায় সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প ছিল না। তাঁর দাবি, দেশ ও জনগণকে বাঁচাতে তিনি ও তাঁর দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরশাদের ভাষ্য, অত্যাচারী দুর্নীতিবাজ সরকারকে হটানোর একমাত্র পথ হলো নির্বাচনে অংশ নেয়া। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, সর্বদলীয় সরকারে আমরা যোগ দিচ্ছি। এই সরকারে থেকে দেখতে চাই কিভাবে নির্বাচন হবে। নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দলগুলোকে মানুষ ঘৃণা করবে। তবে ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হলে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি এরশাদ। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি তিনবার বলেছেন, ‘কারচুপি হলে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করবে না, করবে না, করবে না’।
এর আগে কয়েক মাস ধরে এরশাদ বলে আসছিলেন, তিনি সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। তাই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা এরশাদকে তাঁর আগে দেয়া বক্তব্য মনে করিয়ে দেন। উত্তরে তিনি বলেন, দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবার এগিয়ে আসা উচিত। নির্বাচনের বিকল্প কিছু নেই।
সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম এরশাদ বলেন, সঙ্কট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক পা এগিয়ে এসেছেন। তিনি একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি বিএনপিকে বলব আপনারাও এগিয়ে আসুন। সর্বদলীয় সরকারে অংশ নিন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তাব দিন। আসুন সবাই একসঙ্গে মিলে আলোচনা করি। আমি বিশ্বাস করি আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে তিনি ও তাঁর দল কখনও সমর্থন করেন না। তাঁদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার কখনও সুখকর হয়নি। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের জন্য আনা বিলে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিরও উচিত এক পা এগিয়ে আসা।
বিরোধী দলের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘আপনারাও আসুন। আলোচনার প্রস্তাব দিন। সর্বদলীয় সরকারে অংশ না নিলে কোথায় প্রস্তাব দেবেন? রাস্তায় বাস জ্বালিয়ে?’ এরশাদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি আশাবাদি জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলে বিএনপিও এগিয়ে আসবে। আলোচনায় বসবে। সরকার আপোসে আন্তরিক না হলে কিংবা সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে যে কোন সময় নির্বাচন বর্জন করতে পারব। এরশাদ দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় বিদেশীদের দূতিয়ালির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নিজেদের সমাধান নিজেদের করতে হবে। রাজনীতিকরা এভাবে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারেন না।
দেশ দুর্যোগময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে এমন মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষ অসহায়। রাস্তায় আগুন জ্বলছে। হরতাল দেয়া হচ্ছে। শিশুরা পরীক্ষা দিতে পারছে না। মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশ চলতে পারে না। মানুষ শান্তি চায়। এজন্য রাজনৈতিক নেতাদের কর্তব্য রয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক সমাধান না হলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে। অচল হবে। বিশ্বের কাছে প্রমাণ হবে আমরা সভ্য জাতি নই।
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আজ দেশের এই অবস্থা একথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, আমি বার বার বলছি ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হলো নির্বাচন। দুই দলের কাছে দেশ জিম্মি। সকল দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। মিলিটারি ক্যু কিংবা কোন অসাংবিধানিক সরকার আমরা চাই না। তাই আমি বলব-সঙ্কট সমাধানের একমাত্র উপায় আলোচনা। সবকিছুর পরে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।
এরশাদ বলেন, মহাজোটে ছিলাম। আজও এই মুহূর্ত থেকে মহাজোটে নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জনস্বার্থে, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচন বর্জন করলে পরিবর্তন হবে কিভাবে? বর্তমান সরকারকে মানুষ চায় না। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ঘরে বসে বসে নানা কথা বলবেন। আলোচনা করবেন না। বাইরে আসবেন না। এটা কি রাজনীতির নীতি?।
অনেক আগে থেকেই আলোচনা ছিল মহাজোট ছাড়ছেন এরশাদ। নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে অবশেষে একথা সত্য হলো। মহাজোট ছাড়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে দলের বনানী কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আসেন। সংবাদ সম্মেলন ঘিরে দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা। দলের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সর্বশেষ এরশাদের মহাজোট ছাড়ার ঘোষণার পর দলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় সেøাগান দিতে থাকেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান।