মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২০
শীর্ষ দু’দলের মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব নিশা দেশাইর
‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়’
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনার জন্য জোর আহ্বান জানালেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপ ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই বলেও তিনি জানান। সোমবার গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ ছাড়া কোন ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সংলাপের আহ্বান জানান নিশা দেশাই। ঢাকায় তিন দিনের সফরের শেষ দিন এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সঙ্কট নিরসনে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে না হলেও অন্তত মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ ছাড়া বিকল্প নেই।
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিরোধী দলের হরতালে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ হতে হবে শান্তিপূর্ণ। তিনি বলেন, কোন ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রধান বিরোধী দল অংশ না নিলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কিনা জানতে চাইলে নিশা দেশাই বিসওয়াল পাল্টা প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের মানুষ কী তা মেনে নেবে? পরক্ষণেই তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র। কোন ধরনের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসী নয়। তবে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচী হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশে এখন সংলাপই একমাত্র সমধান। আমি খুব আশাবাদী যে সংলাপের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, সহস্রাব্দের উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মসূচী ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক সফলতা অর্জন করেছে। এই সাফল্য ধরে রাখলে বাংলাদেশ হবে এশিয়ান টাইগার।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে নিশা দেশাই বলেন, পোশাক শিল্প নিয়ে পোশাক মলিক নেতৃবৃন্দ, আইএলও ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক। এর ফলে বাংলাদেশের জিএসপি ফিরে পেতে সহায়ক হবে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ব্যাপারে ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস-দুর্নীতি প্রতিরোধ ইত্যাদির বিষয়ে এক যোগে কাজ করছে। দুই দেশ ভবিষ্যতেও এক সঙ্গে কাজ করবে বলে জানান নিশা দেশাই।
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভৌগোলিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধি পেলে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
নিশা দেশাই মালদ্বীপের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে মালদ্বীপের গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ড্যান মজেনা স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা থেকে তিনি দিল্লী যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে নিশা দেশাই জানান, ঢাকা থেকে তিনি ওয়াশিংটন ফিরে যাবেন। মন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি এখনও শপথ নেননি বলেও তিনি জানান। নিশা আরও জানান, বাংলাদেশে এটা তাঁর দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১০ সালে ইউএসএইডয়ের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ঢাকা এসেছিলেন।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সঙ্গে বৈঠক করেন নিশা দেশাই। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনার বাসভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল নয়টা থেকে দশটা এক ঘণ্টা গওহর রিজভী ওই বৈঠকের জন্য ড্যান মজেনার বাসায় অবস্থান করেন।
এ সময় গওহর রিজভী সর্বদলীয় সরকার গঠনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তাদের আলোচনায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে তা স্থান পায় বলে সূত্র জানায়।
গওহর রিজভী এ সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহকারী মন্ত্রীকে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই মন্ত্রিসভা কেমন হবে, কিভাবে কাজ করবে সে ব্যাপারেও সরকারের পরিকল্পনা নিশা দেশাইকে জানান ড. গওহর রিজভী।
শনিবার ঢাকা আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন নিশা দেশাই বিসওয়াল।
নিশা দেশাই সোমবার রাতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। গত ২১ অক্টোবর নিশা দেশাইয়ের মন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তাঁর প্রথম ঢাকা সফর। এই সফরে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নীতিনির্ধারক। দেশাই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর নেতৃত্বে রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর নেতৃত্বে তিনিই প্রথম ভারতীয়।