মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৯ আগষ্ট ২০১৩, ১৪ ভাদ্র ১৪২০
১৬ টাকার বেশি দামে ইউরিয়া বিক্রি করলে ডিলারশিপ বাতিল
তৌহিদুর রহমান ॥ প্রতিকেজি ইউরিয়া সার ১৬ টাকার বেশি দরে বিক্রয় করা হলে ডিলারশিপ বাতিল করবে সরকার। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। ইউরিয়া সারের নতুন মূল্য নির্ধারণের পরে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
রবিবার সরকার থেকে ইউরিয়া সারের মূল্য ডিলার ও কৃষক পর্যায়ে কেজিপ্রতি চার টাকা কমিয়ে ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওইদিন থেকেই সারাদেশে প্রতিকেজি ইউরিয়া সার ১৬ টাকা দরে বিক্রি কার্যকর করা হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত দামের বেশি বিক্রি করা হলে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘ডলার ও খুচরা বিক্রেতার কাছে মজুদকৃত ইউরিয়া সার পুনঃনির্ধারিত কেজি প্রতি ১৬ টাকা মূল্যের অধিক হারে কৃষক পর্যায়ে বিক্রয়ের প্রমাণ পেলে তার ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রবিবার সারের মূল্য কমানোর পরে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, সার কারখানা পর্যায়ে ইউরিয়া সারের বিক্রয় মূল্য প্রতিটন ১৪ হাজার টাকা ও প্রতিকেজি ১৪ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে। বাফার গুদামে ইউরিয়া সারের বিক্রয় মূল্য প্রতিটন ১৪ হাজার ৭০০ টাকা ও প্রতিকেজি ১৪ টাকা ৭০ পয়সা করে বিক্রি করতে হবে। কৃষক পর্যায়ে সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্য প্রতিটন ১৬ হাজার ও প্রতিকেজি ১৬ টাকা করে বিক্রি করতে হবে। তবে পুনঃনির্ধারিত মূল্য কার্যকরের তারিখে বিসিআইসির ইউরিয়া সার কারখানায় ও বাফার গুদামে মজুদের পরিমাণ জরুরীভিত্তিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও ২৫ আগস্ট ডিলার ও বৈধ কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতাদের কাছে অবিক্রীত ইউরিয়া সারের মজুদ নির্ণয়ের জন্য জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির অনুমোদনক্রমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও বিএএফ’র এক প্রতিনিধির সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে ডিলারের অবিক্রীত সারের মজুদ নিরূপণ করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত ছকে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার নাম, উপজেলার নাম ও ২৫ আগস্ট তারিখের মজুদ সারের পরিমাণ পাঠাতে হবে।
ইউরিয়া সারের মূল্য কমানোর জন্য সরকারের কাছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশন কয়েকবার আবেদন জানিয়েছিল। কারণ সারের দাম কমলে কৃষক পর্যায়ে ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সার বিক্রিও বাড়বে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল আশরাফ খান জনকণ্ঠকে বলেছেন, সরকার থেকে ইউরিয়া সারের মূল্য কমানোর ফলে আমরা খুব খুশি হয়েছি। দাম কমানোর ফলে কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে সার কিনতে পারবে। রবিবার থেকেই সারাদেশে ১৬ টাকা হারে ইউরিয়া সার বিক্রি করা হচ্ছে। ১৬ টাকা হারে সার বিক্রির জন্য এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাফার গুদাম ও কারখানায় ইউরিয়া সারের পৃথক পৃথক মূল্য রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে বাফার গুদাম ও কারখানায় একই মূল্যে সার সরবরাহের জন্য আহ্বান জানিয়েছি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরেই ইউরিয়া সারের মূল্য বেশি থাকায় কমিয়ে আনে। এর আগে তিনদফায় সারের মূল্য কমানো হয়। সর্বশেষ রবিবার ইউরিয়া সারের মূল্য প্রতিকেজিতে চার টাকা করে কমিয়ে এনে ১৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে প্রতিবছর সাড়ে ২৪ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়ার চাহিদা রয়েছে। তবে আমদানি করতে হয় ১৭ লাখ মেট্রিক টন। প্রতিকেজি চার টাকা করে ভর্তুকি দেয়ার ফলে সরকারকে এক বছরে ৬৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। তবে গত অর্থবছর দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় ২৮ লাখ ৬৯ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া সারের নির্ধারণ করা হয় ২৪ লাখ ৫০ হাজার টনে। প্রতিবারের মতো এবারও দেশে ইউরিয়ার চাহিদা নির্ধারণ করেছে এ সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি। চাহিদার বিপরীতে সারটি দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন, সরবরাহ ও আমদানির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশনকে (বিসিআইসি)।
চলতি অর্থবছরে দেশীয় কোম্পানি থেকে ইউরিয়া সার সরবরাহ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টন। আর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সরবরাহ করবে এক লাখ টন। এছাড়া আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর মধ্যে কাফকো আমদানি করবে চার লাখ টন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তিনটি দেশ থেকে আমদানি করা হবে আট লাখ টন। এর মধ্যে কাতার থেকে চার লাখ টন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে চার লাখ টন। তবে কাতার থেকে চাইলে আরও এক লাখ টন আমদানি করা যাবে।
এর আগে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হতো। আর দেশীয় কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা হতো সাড়ে ১১ লাখ টন। তবে গ্যাস সঙ্কট ও যন্ত্রপাতি সক্ষমতা হারানোয় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় দেশী কোম্পানি থেকে ইউরিয়া কেনা কমানো হয়েছে।
আসছে কৃষি মৌসুমে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে ইউরিয়া সরবরাহ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিসিআইসি। এ সময়ে চাহিদার পরিমাণ মোট চাহিদার ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ। তবে সরকারের কাছে এখনও সাড়ে ৫ লাখ টনের বেশি ইউরিয়া মজুদ রয়েছে। এছাড়া আমদানির জন্য এরই মধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়েই সেগুলো দেশের বন্দরে পৌঁছবে বলে জানা গেছে।