মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২১ আগষ্ট ২০১৩, ৬ ভাদ্র ১৪২০
৩৮ বছর ধরে
দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুপ্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি পরিবার। সবার অজান্তে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে চলেছে ওই পরিবারের সকল সদস্য। পরিবারটি প্রতিবছর নিজ বাড়িতে পালন করে বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। কোন কিছু পাওয়ার আশায় নয়, বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ ভালবাসা থেকে তাঁরা প্রতিবছর এ কর্মসূচী পালন করেন।
সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বসুনিয়াপাড়া। গ্রামটির সম্ভ্রান্ত বসুনিয়া পরিবারের প্রধান শমসের আলী বসুনিয়া। ১৯৭৫ সালে ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ৩৮ বছর তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ বাড়িতে পালন করেন বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু ও জন্মবার্ষিকী। প্রতিবছরের মতো গত ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয় ওই বাড়িতে। দিনটিতে মিলাদ মাহফিল, কোরানখানি ও জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পরিবারের সদস্যরা পুষ্পস্তবক করেন। শুধু এ অনুষ্ঠানের মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকেন না। পারিবারিক কর্মসূচী শেষ করে ছুটে যান সৈয়দপুর শহরে। সেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
১৯৩৮ সালে জন্ম নেয়া শমসের আলী বসুনিয়া ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি রেডক্রসের নেতৃত্বে গঠিত ইউনিয়ন রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান, সৈয়দপুর স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর চীফ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলার জ্যোতির চেয়ারম্যান ছিলেন। শমসের আলী বসুনিয়া দীর্ঘ ১৮ বছর সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চোখের সমস্যা আর বয়সের ভারে ন্যুব্জ শমসের আলী বসুনিয়া বর্তমানে বাড়ির পাশে গড়ে তুলেছেন মাটি-মানব কল্যাণ সমিতি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, জীবনে অনেক সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে দেখলাম। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের এবারের দেশ পরিচালনা সত্যি ভিন্ন রকমের। দেশের মানুষ তুলনামূলকভাবে অনেক শান্তিতে আছে। চাঙ্গা হয়েছে দেশের অর্থনীতি। যুদ্ধাপরাধীর বিচার কাজ শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে- যা স্বাধীনতার সপক্ষের এ সরকারের একটা বিরাট সাফল্য। -তাহমিন হক ববি, নীলফামারী।