মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২১ আগষ্ট ২০১৩, ৬ ভাদ্র ১৪২০
জামায়াত নিষিদ্ধ না হলে ২১ আগস্টের ঘটনা আরও ঘটবে
নির্মূল কমিটির আলোচনা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করাসহ ’৭১-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত জামায়াত একের পর এক হত্যাসহ সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। যার বিচার আজ পর্যন্ত করা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। ঢাকার রাজপথে ২১ আগস্টের চেয়ে বড় রক্তপাতের ঘটনা আর ঘটেনি। ধর্মনিরপেক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিতেই সেদিন শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকেও ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। জামায়াতের সন্ত্রাস বন্ধ করার একমাত্র উপায় জামায়াতকে এখনই নিষিদ্ধ করতে হবে। শুধু মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার কারণেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব। এর জন্য কোন তথ্যপ্রমাণের প্রয়োজন নেই। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক আলোচনাসভায় বিশিষ্টব্যক্তিরা এ আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার রাজধানীর ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে জামায়াতের জঙ্গী সম্পৃক্ততা এবং ধর্মের নামে রাজনীতি, শেষ কোথায় শীর্ষক এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টার অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তৃতা করেন লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, শহীদ জায়া শ্রামলী নাসরিন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে লেখক সাংবাদিক শাহারিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতাকে মুছে ফেলার জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ঘটানো হয়েছে। জামায়াতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এ হামলা চালানো হয়েছে। জামায়াত নিষিদ্ধ করা না গেলে দেশে এ ধরণের ঘটনা আরও ঘটবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত হত্যাকা-সহ বিভিন্ন ধরনের সহিংস কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে জামায়াত। এগুলোর একটির বিচারও আজ পর্যন্ত করা হয়নি। সরকারের নির্বাহী আদেশে জামায়াতকে এখনই নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা শুধু সরকারের সদিচ্ছার বিষয়। আর যদি মহাজোট সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ না করে তাহলে তাদের জন্য হবে আত্মঘাতী।
তিনি বলেন, জামায়াতের গুরু আমেরিকা ও সৌদি আরব। আমেরিকা মনে করে জামায়াত একটি মধ্যপন্থী ইসলামী দল। তাই তারা জামায়াতের বিচারের বিরোধিতা করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ একমাত্র মুসলিম দেশ যেখানে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে যে সন্ত্রাস চলছে তার বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হতে হবে।
ওয়ার্কার্স পাটির পলিটব্যুরোর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ২১ আগস্টের দিকে তাকালেও বিগত বিএনপি জোট সরকারের শাসনামলের চিত্র ফুটে ওঠে। ঢাকার রাজপথে ২১ আগস্টের চেয়ে বড় রক্তপাতের ঘটনা আর ঘটেনি। ধর্মনিরপেক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিতেই সেদিন শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার চেষ্টা নেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, হত্যার রাজনীতির সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীরা জড়িত। জামায়াতে ইসলামী এ ঘটনার মূল নায়ক। শুধু ২১ আগস্টের ঘটনা নয়, জামায়াত বিএনপির আমলে এ ধরনের ঘটনা আরও অনেক ঘটেছে। যেগুলোর তদন্ত আজও করা হয়নি। এমনকি বাংলাভাইয়ের উত্থানের পেছনে কাদের মদদ ছিল তাও উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়নি। এটা করা গেলে বোঝা যেত দেশের জঙ্গী উত্থানের সঙ্গে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির একটি অংশের হাত রয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকা ও সৌদি আরব জামায়াতকে রক্ষায় এখনও সোচ্চার। কারণ তারা এখনও ’৭১ সালে বাংলাদেশের বিরোধিতার অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেনি।
তিনি বলেন, একাত্তরের ভূমিকার কারণেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ জন্য কোন তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই। আর যদি তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন হয় তাহলে বর্তমানের সংগ্রাম পত্রিকাই এর জন্য যথেষ্ট।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, আজ আমরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। মন্ত্রিসভায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের স্থান দেয়ার জন্য বিএনপিকে সমালোচনা করি। কিন্তু একই কারণে আওয়ামী লীগকেও সমালোচনা করতে হবে। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করলেও তার চেতনা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তাদের মন্ত্রি সভায় স্বাধীনতাবিরোধীরা স্থান পেয়েছে। কিন্তু মুখ ফুটে সে কথা আজ কেই বলতে পারে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর তাঁর মন্ত্রিসভায় চারমন্ত্রী ছাড়া বাকিরা সবাই মোস্তাক সরকারের মন্ত্রী হওয়ার জন্য লাইন দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের অনেক প্রাপ্তি থাকার পরও পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। কারণ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মুখে বললেও তা বাস্তবে প্রয়োগ করে না। বর্তমান সরকারের আমলে অনেক উন্নতি হলেও ধনী-গরিবের অনেক ব্যবধান বেড়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করতে হবে।
শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ’৭১-এর পর থেকে জামায়াতের অনেক অপরাধের বিচার এখনও হয়নি। অথচ তারা একের পর এক হত্যাসহ নানা সহিংস কর্মকা- পরিচালিত করে যাচ্ছে। জামায়াতের নীতি এখন মানুষের ধর্মান্ধ ও আওয়ামীবিরোধী করে গড়ে তোলা। এ কারণে তারা গ্রামগঞ্জে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। অপপ্রচারের মহিলাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কোন প্রচার নেই। আছে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। জামায়াতের সন্ত্রাস বন্ধ করার একমাত্র উপায় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে।