মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৪ জানুয়ারী ২০১৩, ১ মাঘ ১৪১৯
অধিকাংশ শিক্ষক ক্লাসে ফেরেননি, অনিশ্চিত ভর্তি পরীক্ষা
ইবিতে হামলার জের
ইবি সংবাদদাতা ॥ শনিবার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার জের ধরে এখন পর্যন্ত কোন ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক। এতে করে হাতে গোনা কয়েকটি বিভাগ ছাড়া বেশিরভাগ বিভাগেই ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে না আসায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। জানা যায়, দীর্ঘ চার মাস ধরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থায় নিয়মিত বিক্ষোভ, সমাবেশ, প্রশাসন ভবন ঘেরাও, মহাসড়ক আবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলন করে আসছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার তাঁরা অনশন এবং কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে সেই আন্দোলনে ইবি ছাত্রলীগ যোগ দিয়ে কৌশলে আন্দোলন তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। এদিকে দুপুর ১২ টায় ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য শিক্ষক সমিতির পূর্ব নির্ধারিত আন্দোলন স্থগিত করার লক্ষ্যে শিক্ষক লাউঞ্জে সমঝোতার বৈঠকে বসে শিক্ষক সমিতি। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীর নামে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেই লাউঞ্জে থাকা শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং পরে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদকসহ ৩০ শিক্ষক আহত হন। পরে হামলাকারীদের তোপের মুখে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ক্লাস-পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিলে তাঁরা অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
শিক্ষকদের ওপর এই হামলার প্রতিবাদে শনিবার রাত ১০ টায় কুষ্টিয়া শহরে শিক্ষকদের বিভিন্ন ফোরাম তাঁদের পূর্বঘোষিত দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ছাত্র-উপদেষ্টার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাবে না বলে ঘোষণা দেয়। ফলে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ ছাড়া অধিকাংশ বিভাগই ছিল শিক্ষার্থী শূন্য। তবে চার মাস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকার পর কয়েককটি বিভাগে ক্লাস চললে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম প্রত্যেকটি অনুষদ পরিদর্শন করেন। এদিকে দুপুর ১ টায় বিভিন্ন পত্রিকায় ছাত্রলীগের হামলার নামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এমন দাবি করে টিএসসিসিতে সাংবাদ সম্মেলন করেছে ইবি শাখা ছাত্রলীগ।
এদিকে আন্দোলকারী শিক্ষকদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত থাকবে এমন সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। ফলে বিপাকে পড়েছে ফরম উত্তোলনকারী ৯০ হাজার শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি আর একটু স্বাভাবিক হলে আমরা খুব শীঘ্রই ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নেব।