মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৪ জানুয়ারী ২০১৩, ১ মাঘ ১৪১৯
বোরহানউদ্দিন থানায় ক্ষুব্ধ জনতার হামলা সংঘর্ষ, আহত ৩০
ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন করতে না দেয়ার জের
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ১৩ জানুয়ারি ॥ জেলার বোরহানউদ্দিন থানায় রবিবার সকালে এলাকাবাসী হামলা চালিয়েছে। এ সময় থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ভাংচুর ও ওসির বিরুদ্ধে জুতা মিছিল করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ এবং জনতার মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সময় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক ছাত্রের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য প্রশাসনের অনুমতিপত্র ওসিকে দেয়ার পরও লাশ ফেরত না দেয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে নিহতের মা সামছুন নাহার অভিযোগ করে বলেছেন, থানার ওসি মাসুমকে (চলতি দায়িত্বে) টাকা না দেয়ায় লাশ দেয়া হয়নি। পুলিশ এখন নিরীহ মানুষকে থানায় হামলা, ভাংচুর মামলায় আটক করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ৩টার দিকে বোরহানউদ্দিন-কালিহাট সড়কের ছাগলা মাদ্রাসা এলাকায় দুর্ঘটনায় আহত মাদ্রাসা ছাত্র সোহাগকে (১২) আশঙ্কাজনক অবস্থায় বোরহানউদ্দিন থানায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বোরহানউদ্দিন থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে নিহতের অভিভাবকরা মামলা না করার শর্তে কোন অভিযোগ নেই মর্মে ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের জন্য ভোলা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে। জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, তারা কোন সন্দেহ বা আপত্তি না থাকলে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের অনুমতি প্রদান করেন। সন্দেহ বা আপত্তি না থাকলে লাশ দেয়া যেতে পারে বলে প্রশাসনের অনুমতির ওই কপি স্বজনরা রাতেই থানায় দাখিল করেন। কিন্তু দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাসুম তালুকদার (ওসি চলতি দায়িত্বে) লাশ হস্তান্তর না করে সন্দেহজনক বিধায় রবিবার ভোরে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। নিহতের মা সামছুন নাহার অভিযোগ করেছেন থানার ওসি মাসুমকে টাকা না দেয়ায় তাদের লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া ফেরত দেয়নি।
এদিকে লাশ দাফনের জন্য ফেরত না দেয়ার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। রবিবার সকালে কয়েক শত নারী বোরহানউদ্দিন পশ্চিম বাজার থেকে জুতা ও ঝাড়ু মিছিল নিয়ে থানা ঘেরাও করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। জনতা এলোপাতাড়ি থানায় ইট নিক্ষেপ করে। এ সময় থানার গ্লাস, মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে পুলিশ জনতা ও সাংবাদিকসহ ৩০ জন আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন, এসআই ফোরকান আলী, মাইনুল ইসলাম, এএসআই নাছির, কনস্টেবল রবিউল ইসলাম, মাছুদ করিম, আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, সহিদুল ইসলাম, এনায়েত হোসেন, সফিকুল ইসলাম, মানবজমিন প্রতিনিধি এমরান হোসেন। গ্রেফতারের ভয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নেয়ায় তাদের নাম পাওয়া যায়নি। বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মাসুম তালুকদারকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভোলা পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, পুলিশ আইন অনুয়ায়ী কাজ করেছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের জন্য প্রশাসন কোন অনুমতি দেয়নি। তাই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পোস্টমর্টেম করতে পাঠিয়েছে পুলিশ। থানায় হামলার ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করা হবে।