মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩ পৌষ ১৪১৮
জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সন্দেহজনক যে কোন আর্থিক লেনদেন তদন্ত ও ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখা এবং সর্বোচ্চ শাসত্মি মৃতু্যদ-ের বিধান রেখে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া মন্ত্রিসভা ভূমি হসত্মানত্মরে অনিয়ম ও জালিয়াতিরোধে প্রস্তাবিত পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন-২০১১'র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। প্রসত্মাবিত 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি (আম-মোক্তারনামা) প্রবর্তনের পর তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই আইনের অনুমোদন দেয়া হয়। পাশাপাশি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১১'র খসড়াও।
সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ এবং এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধেই 'সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০১১-এ সংশোধন আনা হচ্ছে। এই আইনে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থের যোগান দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদল্ডের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের ধরন অনুযায়ী যাবজ্জীবনসহ অনুর্ধ ২০ বছর এবং নূ্যনতম তিন বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদ- বা অতিরিক্ত অর্থদণ্ডের (নূ্যনতম ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত) প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা 'সন্ত্রাসবিরোধী আইনে'র খসড়াটি এর আগে ১১ জুলাই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন হলে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। তবে ওই বৈঠকে আইনটির কিছু ধারা সংযোজন-বিয়োজন করার পরামর্শও দেয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইনটির কিছু ধারা সংযোজন-বিয়োজন করে যাচাই-বাছাই শেষে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে চূড়ানত্ম অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে সংশোধিত আইনটি পাসের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত আইন অনুযায়ী সরকার ব্যাংক ছাড়াও এনজিওসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক যে কোন আর্থিক লেনদেন তদনত্ম করতে পারবে। ওই সব প্রতিষ্ঠানও সরকারকে এ সংক্রানত্ম যাবতীয় তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে। বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শুধু ব্যাংকের আর্থিক লেনদেন তদনত্ম করার ক্ষমতা ছিল সরকারের। ২০০৯ সালে সরকার এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি প্রণয়ন করে।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, বিদেশের কোন ব্যাংকে অর্থ পাচার হলে একই ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেখান থেকে তথ্য আনতে পারবে। সংশিস্নষ্ট দেশের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা (ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স) ইউনিটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানও করতে পারবে। নতুন আইনে সন্দেহজনক যে কোন লেনদেনের হিসাব (এ্যাকাউন্ট) ৩০ দিন করে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যনত্ম স্থগিত রাখার ক্ষমতা সরকারকে দেয়া হয়েছে।
দেশের অখ-তা, সংহতি, নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করতে কোন ব্যক্তিকে হত্যা, গুরম্নতর আঘাত, আটক বা অপহরণের উদ্দেশ্যে বা কোন ব্যক্তির সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোন বিস্ফোরক দ্রব্য, দাহ্য পদার্থ, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার কিংবা নিজ দখলে রাখার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি, সন্ত্রাসী কাজে অর্থের লেনদেন ও প্ররোচনার মতো অপরাধ এই আইনের আওতায় পড়ে। আইনের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া এ আইনে অভিযুক্ত কোন বাংলাদেশী নাগরিককে অন্য রাষ্ট্রের কাছে হসত্মানত্মর করা হবে না। তবে কোন বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশে এসে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে সহায়তা দিয়ে অপরাধ করলে অথবা বাংলাদেশে বসে অন্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘি্নত করার মতো অপরাধে জড়িত থাকলে এই আইনের আওতায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। বৈঠকের সিদ্ধানত্ম সাংবাদিকদের জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। বৈঠকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) অধীনে শেষ হওয়া 'রাকাব স্মল এন্টারপ্রাইজ ক্রেডিট প্রোগ্রাম (রাকাব এসইসিপি)' প্রকল্পকে প্রতিষ্ঠানটির এক সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানি গঠন, পাটনীতি-২০১১ এবং বেলারম্নশের সঙ্গে সামরিক-কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।
পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন ॥ অনিয়ম ও জালিয়াতিরোধে প্রসত্মাবিত পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন-২০১১'র চূড়ানত্ম অনুমোদন পাওয়া আইনের খসড়ায় 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি (আম-মোক্তারনামা) প্রবর্তনের পর তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে তিন মাস পর পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অকার্যকর হয়ে যাবে। তবে নিবন্ধিত হলে, তা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যনত্ম কার্যকর থাকবে। তবে 'বিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি'র জন্যও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ উলেস্নখ থাকবে। ১৮৮২ সালে প্রবর্তিত পুরনো আইনটিকে সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করা হয়েছে। বর্তমান আইনে 'কোন ব্যক্তির পক্ষে কাজ করার জন্য আইনানুগ কোন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দলিলের মাধ্যমে ক্ষমতা দেয়াই হলো 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি'। অভিযোগ রয়েছে, আইনের দুর্বলতার সুযোগে কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি' দেখিয়ে তার সম্পত্তি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অজানত্মেই। এই ধরনের অপরাধের পথ বন্ধ করতেই সরকারের আইন সংশোধনের উদ্যোগ।
প্রসত্মাবিত আইনে 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি'র সংজ্ঞা ও আইনের অর্থবহ বাসত্মবায়নের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উলেস্নখ রয়েছে। এতে 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি' নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) ক্ষেত্রে 'স্ট্যাম্প আইন' ও 'রেজিস্ট্রেশন আইনে'র অনুসরণীয় বিধিগুলো সুস্পষ্ট রয়েছে।
পাওয়ার অব এ্যাটর্নির ক্ষমতা ॥ প্রসত্মাবিত আইনে বলা হয়েছে, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বা অন্য কোন বিষয়ে বিশেষ বা সাধারণ পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে তার পক্ষে কাজ করার ক্ষমতা দেয়া যাবে। বিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হবে এবং এর মাধ্যমে সম্পত্তি হসত্মানত্মর, বিক্রয়, বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন, ঋণ গ্রহণের বিপরীতে বন্ধকী দলিল সম্পাদন ও পণ্যমূল্যের বিনিময়ে ক্ষমতা অর্পণ করা যাবে।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মামলা পরিচালনা, জমির রেকর্ডপত্র সংশোধন, জমির সীমানা নির্ধারণ, খাজনা প্রদান, নামজারি ও রক্ষণাবেক্ষণ, পরিসেবা গ্রহণ বা প্রদান এবং নৈমিত্তিক আর্থিক লেনদেনসহ এমন কোন কাজ যা পাওয়ার অব এ্যাটর্নি-দাতা দৈনন্দিন কাজ হিসেবে সম্পাদন করেন, সে ক্ষেত্রে সাধারণ পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্ষমতা দেয়া যাবে।
সংশোধিত আইনে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির উদ্দেশ্য বা শর্ত ব্যাহত হয় বা কোন পক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়, এমন পরিস্থিতিতে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি-দাতা বা গ্রহীতাকে ৩০ দিনের মধ্যে নোটিস দিয়ে ক্ষমতা (পাওয়ার) প্রত্যাহার করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।