মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩ পৌষ ১৪১৮
গো. আযমের বিরুদ্ধে চার্জ সুবিন্যস্ত করে ৫ জানুয়ারি দাখিলের নির্দেশ
যুদ্ধাপরাধীর বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মাস্টারমাইন্ড জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ৫ জানুয়ারির মধ্যে পুনরায় দাখিলের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল এ আদেশ দেন। এ দিকে আজ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে পঞ্চম সাৰী তার জবানবন্দী প্রদান করবেন।
ট্রাইবু্যনাল তার আদেশে বলেছে, ট্রাইবু্যনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, তদনত্ম প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং আনুষঙ্গিক নথি পর্যবেক্ষণ করেছেন। দাখিলকৃত অভিযোগে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিকভাবে শ্রেণীভুক্ত না করে এলোমেলো ও অসঙ্গতিপূর্ণ উলেস্নখ করা হয়েছে। সুবিন্যস্তভাবে দেয়া হয়নি। এ জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ সরকারপৰের চীফ প্রসিকিউটরের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। অগোছাল অভিযোগটি সুবিন্যস্ত করে ৫ জানুয়ারির মধ্যে তা পুনরায় দাখিলের আদেশ দেয়া হয়েছে।
আদেশের পর চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিলাম। সোমবার ফরমাল চার্জ আমলে নেবার দিন ছিল। ট্রাইবু্যনালের বিচারপতি এলেন, একটি আদেশ দিলেন। আদেশটি হলো, অধ্যাপক গোলাম আযমের যে তদন্ত প্রতিবেদন (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছিলাম। সেগুলো সুবিন্যসত্ম ছিল না। যথাযথভাবে দেয়া হয়নি। কাগজপত্র ফেরত দিয়েছেন। ফরমাল চার্জ সুবিন্যস্ত করে ৫ জানুয়ারি আবার দিতে হবে।
অন্যদিকে অধ্যাপক গোলাম আযমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এ প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর আগেও তারা (প্রসিকিউশন) কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে অভিযোগ গঠন করেছে। তাহলে গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে দুই বছর সময় পাওয়ার পরেও তারা কেন সঠিকভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারলেন না। এটি যে বাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সোমবারের আদেশে তা প্রমাণিত হয়েছে।
আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের রেজিস্ট্র্রার (জেলা জজ) মোঃ শাহিনুর ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম শেষে প্রতিবেদন দখিলের পরে প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ ও এর সঙ্গে সংশিস্নষ্ট দলিলাদি, ম্যাটেরিয়ালস ইত্যাদি দাখিল করেন। এ সব পর্যালোচনায় মামলার অপরাধ আমলে গ্রহণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান ও অভিযুক্ত গোলাম আযমের গ্রেফতার বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদন শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য সোমবার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সার্বিক পর্যালোচনায় দাখিলকৃত ম্যাটেরিয়ালস, দলিলাদি অধিকতর সুবিন্যসত্মভাবে দাখিলের নির্দেশসহ ট্রাইবু্যনাল তা প্রসিকিউশনকে ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের প্রার্থনায় করা আবেদন বিষয়েও সোমবার শুনানি করা যায়নি।
রেজিস্ট্রার আরও বলেন, অভিযুক্ত অধ্যাপক গোলাম আযমকে গ্রেফতারের আবেদনটি এ কারণে সোমবার শুনানি করা যায়নি, এর অন্যতম কারণ হলো, এই মামলার ৰেত্রে এটি কেবলমাত্র মামলার অপরাধ আমলে গ্রহণের প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদানের পরই ট্রাইবু্যনাল বিবেচনা করে যথাযথ আদেশ দিতে পারবেন। বিধিমালার ২২ বিধিতে সেটিই আছে। যেহেতু তদনত্মকালে অভিযুক্ত গোলাম আযমকে কার্যকর তদনত্মের স্বার্থে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়নি। সেহেতু এ পর্যায়ে বিধিমালা ২২ বিধি অনুসারেই গ্রেফতারের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। এর আগে মামলার অপরাধ আমলে গ্রহণ বিষয়ে যথাযথ আদেশ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ফরমাল চার্জ ও এর সঙ্গে দাখিলকৃত দলিলাদি ও ম্যাটেরিয়ালস আরও অধিক বিন্যসত্ম করে দাখিলের লৰ্যে তা প্রসিকিউশনকে ফেরত দেয়ার যে আদেশ ট্রাইবু্যনাল দিয়েছেন তা বিধিমালার ৪৬-এ বিধিতে বর্ণিত "অনত্মর্নিহিত ৰমতা" বলে ন্যায় বিচারের স্বার্থে তা প্রয়োজন বিবেচনাতেই ট্রাইবু্যনাল প্রদান করেছেন। আইনের ৬(২এ) ধারার বিধান অনুসারে ট্রাইবু্যনাল "ফেয়ার ট্রায়াল" নিশ্চিত করবেন। আর এটি করার জন্য ট্রাইবু্যনাল অনুরূপ "অনত্মর্নিহিত ৰমতা" প্রয়োগের মাধ্যমে যে আদেশ প্রদান কার্যকর ও উপযুক্ত বলে বিবেচনা করেছেন সেই আদেশই প্রদান করেছেন। ৫ জানুয়ারি মামলার অপরাধ গ্রহণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদানের পরই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের প্রার্থনায় করা আবেদনটিও নিষ্পত্তি হবে।
১২ ডিসেম্বর জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়। যুদ্ধাপরাধের ৫২ দফা অভিযোগ উপস্থাপন করে তাঁকে গ্রেফতারের জন্য আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালে আবেদনও করা হয়। সারাদেশে নরহত্যা, অগি্নসংযোগ, ধর্ষণ, লুটপাট, ধর্মানত্মরিত, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। গ্রেফতারের বাইরে একমাত্র জামায়াতের সাবেক আমির মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান হোতা অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয় ১২ ডিসেম্বর। এরপর ট্রাইবু্যনাল সোমবার ফরমাল চার্জ আমলে নেয়ার ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। সবার আগ্রহ ছিল, ট্রাইবু্যনাল আদেশ দেবার পরপরই গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু ট্রাইবু্যনাল ফরমাল চার্জ ফিরিয়ে দিয়ে তা সুবিন্যসত্ম আকারে ৫ জানুয়ারিতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ এর মধ্যে গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়।
জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে শতাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঈদের দিন গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে ৩৮ জনকে এনে পৈরতলা এলাকায় হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে গোলাম আযম সম্পৃক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যা ঘটে অধ্যাপক গোলাম আযমের মূল নেতৃত্বে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে যে সমসত্ম মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা অধ্যাপক গোলাম আযমের নির্দেশেই হয়েছে। অপারেশন সার্চলাইট শুরম্নর তিন দিনের মাথায় খাজা খয়েরম্নদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ১৪০ সদস্যের শানত্মি কমিটি হয়। এর দৈনন্দিন কাজ তদারক করতে ৬ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। এই কমিটিতে ২ নম্বরে ছিল গোলাম আযমের নাম। "অপারেশন সার্চ লাইট" শুরম্নর চারদিন পরই তারা এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিবৃতি দেন। তারা বলেন, এই অভিযান সঠিক ছিল। এই অভিযান না হলে পাকিসত্মান খ- বিখ- হয়ে যেত। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫২টি অভিযোগসহ গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
তদনত্মকারী সংস্থা অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম সংস্থা ২০১০ সালের ১ আগস্ট থেকে তদনত্ম শুরম্ন করে। ৩৬০ পৃষ্ঠার তদনত্ম রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ ৪ হাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট রয়েছে। গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে ৪০ সাৰী সাৰ্য প্রদান করেছেন। তদনত্ম কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান দীর্ঘ পরিশ্রম করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন। রিপোর্টে উলেস্নখ করা হয়েছে, অধ্যাপক গোলাম আযম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ধর্মানত্মরিত করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্দেশদাতা ছিলেন তিনি। তিনি নিজেও যেমন করেছেন, তেমনি পাকিসত্মানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে থেকেও তার নির্দেশে তা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ বাঙালীকে হত্যায় গোলাম আযম পিস কমিটি, রাজাকার বাহিনী ও আলবদর বাহিনী গঠন করেছিলেন। গোলম আযম ছিলেন সেই সময়ের পিস কমিটির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পূর্ব পাকিসত্মান জামায়াতে ইসলামীর আমির।
৩০ লাখ বাঙালীকে হত্যা, ২ লাখ নারী ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ, লুণ্ঠনসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। অধ্যাপক গোলাম আযম মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাৰণবাড়িয়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, ঢাকা, গাইবান্ধায় রাজাকার বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাসহ বাঙালীদের হত্যা করেছে। গোলাম আযম মুক্তিযুদ্ধের সময় নুরম্নল আমিন, ফরিদ আহমদ, খাজা খয়েরম্নদ্দিন, হামিদুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। শুধু তাই নয় তিনি ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের সঙ্গেও দেখা করে গণহত্যার নীলনকশা তৈরি করেন। আনত্মর্জাতিক অপরাধ আইনের ৩(২) ধারার যত অপরাধ আছে সবগুলোই তিনি করেছেন।
ট্রাইবু্যনালের চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে জানতে চাওয়া হয়, পযর্াপ্ত সময় পাওয়ার পরও কেন সঠিক নিয়মে প্রতিবেদন দেয়া হয়নি। এতে তিনি বলেন, এটা ব্যর্থতাও নয়, সীমাবদ্ধতাও নয়। ট্রাইবু্যনালের আনত্মর্জাতিক মান রক্ষা এবং সতর্কতার জন্যই আদালত এ ধরনের আদেশ দিয়েছে। আদালত চায় অভিযোগের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট এবং গ্রম্নপ অনুসারে ভাগ করে প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়া হোক। আমরা আবারও গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধের প্রতিবেদনটি জমা দেব।
তদনত্ম সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ৩১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ৪০ বছর আগের ঘটনা হওয়ায় প্রতিবেদনে ব্যক্তি সাক্ষীর পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন নথিপত্রকেও গুরম্নত্ব দেয়া হয়েছে। গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে ৩৬০ পৃষ্ঠার তদনত্ম প্রতিবেদনে সাক্ষী আছে ৪০ জন। আর নথিপত্র আছে ৪০০টিরও বেশি। গোলাম আযম দু'ভাবে দেশের ক্ষতি করেছেন মনত্মব্য করে প্রধান সমন্বয়ক বলেন, "প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজে শানত্মি কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, পাকিসত্মানী বাহিনীকে সহায়তা করেছেন।"
অন্যদিকে ট্রাইবু্যনালের তদনত্মকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, তাঁর বিরম্নদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। "তিনি শানত্মি কমিটির নেতা ও তৎকালীন জামায়াতের আমির ছিলেন। তিনি নির্দেশদাতা। তাঁর নির্দেশেই তখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়।" বাংলাদেশের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতাকারী গোলাম আযম ১৯৭১ সালে শানত্মি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন, যাদের সহযোগিতা নিয়ে পাকিসত্মানী সেনারা বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মান জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযম সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রকাশ্যে তদ্বির চালান। ১৯৭১ থেকে ৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করার পর ১৯৭৮ এ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে আবার বাংলাদেশে আসেন এই জামায়াত নেতা। ২০০০ সাল পর্যনত্ম বাংলাদেশে দলকে নেতৃত্ব দেন।
প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, ১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে থেকেই পাকিসত্মানের সামরিক জানত্মার সঙ্গে গোলাম আযমের যোগাযোগ ছিল। নির্বাচনের পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। ওই অবস্থায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরম্ন হয়। পাকিসত্মানী সামরিক জানত্মা এ অভিযানের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর হামলা চালাতে থাকে।
তাঁর নেতৃত্বে পাকিসত্মানী শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশে এবং চক্রানত্মে নানা জায়গায় শানত্মি কমিটি, রাজাকার, আল বদর, আল শামস, পাইওনিয়ার ফোর্স, মুজাহিদ বাহিনী গঠন করা হয়। তিনি শুধু গঠন করেন নাই, প্রশিক্ষণ শিবির ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করে সালাম নিয়েছেন। এ সব সংগঠনকে অস্ত্র সরবরাহ করা এবং এ বিষয়ে পাকিসত্মানী সেনাবাহিনীর কাছে সুপারিশ করার দায়িত্ব গোলাম আযমই পালন করতেন।
প্রসিকিউটর জেয়াদ-আল-মালুম বলেছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে অন্যদের বিষয়টি ছিল আঞ্চলিক। আর গোলাম আযমের বিষয়টি হলো সারাদেশব্যাপী। গোলাম আযম '৭২ থেকে এ পর্যন্ত জামায়াতের একজন ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন। বেসরকারী প্রধান হিসেবে যে কাজ করেছে তাঁর বিষয়টি অনন্য সাধারণ বিষয়। সুপিরিয়র কমান্ড যার থাকে তার মাঠে গিয়ে কাজ করতে হয় না। কাজেই তাঁর বিষয়টি ভালভাবে পর্যবেৰণ করেই অগ্রসর হতে হবে।