মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩ পৌষ ১৪১৮
প্রাথমিকে পাসের হার ৯৭.২৬%
স্টাফ রির্পোর্টার ॥ দেশব্যাপী উৎসবের আমেজে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ পাবলিক পরীৰা বা প্রাথমিক শিৰা সমাপনী পরীৰায় পাস করেছে রেকর্ডসংখ্যক শিশু। সোমবার প্রথমবারের মতো গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশিত ফলে পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৬ ভাগ। ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৯। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬৭৩ ৰুদে শিক্ষার্থী। ফেল করেছে ৫৯ হাজার ৮৭৮ জন। গত বছর এ পরীৰায় পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর ২০০৯ সালে প্রথম সমাপনীতে পাস করেছিল ৮৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এবার সবচেয়ে ভাল ফল করেছে বরিশাল বিভাগ। আর জেলওয়ারী ভাল ফল করে মুন্সীগঞ্জ, খারাপ হবিগঞ্জ।
এদিকে সোমবার একই সঙ্গে প্রকাশিত মাদ্রাসা সত্মরের ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীৰায় পাসের হার ৯১ দশমিক ২৮ ভাগ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৫০ শিক্ষার্থী। গত বছর এ পরীৰায় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
৭টি বিভাগের মধ্যে প্রাথমিক শিৰা সমাপনী পরীৰায় এবার সবচেয়ে ভাল ফল করেছে বরিশাল বিভাগ। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় পাসের হার সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৮৯ ভাগ এবং পঞ্চগড় ও চাঁদপুর জেলায় দ্বিতীয় সবের্াচ্চ ৯৯ দশমিক ৬৪ ভাগ। পাসের হারে হবিগঞ্জ জেলা সর্বনিম্ন ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং একই জেলার বানিয়াচং উপজেলার পাসের হার সর্বনিম্ন ৭১ দশমিক ৬৮ ভাগ। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীৰার ফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন। এদিকে ফল প্রকাশের দিনও সারাদেশের লাখ লাখ শিশু ও তার অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিৰা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল এক ব্যতিক্রমী উৎসবমুখর পরিবেশের।
ফলের জন্য সকাল থেকেই অপেৰা করেন অভিভাবকরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণশিৰা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সচিব একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার, প্রাথমিক শিৰা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কানত্মি ঘোষ প্রমুখ। এর আগে সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরীৰার ফলের কপি তুলে দেন গণশিৰা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এরপরই দেশের সব জেলা, উপজেলা ও থানায় একযোগে ফল প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইট (িি.িফঢ়ব.মড়া.নফ) এবং যঃঃঢ়://ফঢ়ব.ঃবষবঃধষশ.নফ থেকে অথবা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাচ্ছে। আর প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে উচঊ লিখে স্পেস দিয়ে থানা বা উপজেলার কোড নম্বর একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল জানার জন্য মেসেজ অবশনে গিয়ে ঊইঞ লিখে স্পেস দিয়ে থানা বা উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। পাসের হার বৃদ্ধির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিৰামন্ত্রী ডা. আফছারম্নল আমীন বলেছেন, শিৰকদের প্রশিৰণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, প্রশাসনের নানামুখী তৎপরতা, জোরালো মনিটরিং এবং অভিভাবকদের অধিকতর সচেতনতার ফলেই পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বৃত্তির সংখ্যা নিধর্ারণ করে শিৰা মন্ত্রণালয়। আমরা বৃত্তি বাড়ানোর প্রসত্মাব করেছি। প্রাথমিক শিৰা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কানত্মি ঘোষ জানান, ১৫ ফেব্রম্নয়ারির মধ্যে বৃত্তির ফল ঘোষণা করা হবে। আর জানুয়ারির শেষের দিকে উত্তীর্ণ শিৰাথর্ীদের সনদ বিতরণ করা হবে।
তারা ভাল ফলের জন্য শিশু ও তাদের অভিভাবক, শিৰকসহ সংশিস্নষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান। ফলে সনত্মোষ প্রকাশ করে তাঁরা বলেছেন, এই পরীৰার মাধ্যমে প্রাথমিক শিৰায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
প্রথম বছর কোমলমতি শিশুদের উৎসাহ বৃদ্ধির লৰ্যে ২০ নম্বর গ্রেস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার কোন গ্রেস নম্বর দেয়া হয়নি। তবে শিশুদের ঈর্ষণীয় এই সাফল্যের জন্য গত বছর খারাপ ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছিল। শিৰক প্রশিৰণসহ বিভিন্ন সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ডিআর বা নিবন্ধিত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, অনুপস্থিতির হার, জিপিএ-৫ এবং পাসের হারের ভিত্তিতে ঢাকার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষে আছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভিকারম্নন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং তৃতীয় স্থানে আছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ।
বিভাগভিত্তিক ফলে দেখা গেছে, এবার নিবন্ধনকৃত শিৰাথর্ীদের মধ্যে প্রাথমিক শিৰা সমাপনী পরীৰায় ৭টি বিভাগ থেকে অংশ নিয়েছিল ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৭ জন। তাদের মধ্যে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৯ জন সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। অথর্াৎ গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৬ ভাগ। ঢাকা বিভাগ থেকে এবার এ পরীৰায় অংশ নিয়েছিল সাত লাখ ৩০ হাজার ৭১১ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক আট ভাগ। জিপিএ-পাঁচ পেয়েছে সবের্াচ্চ ৪১ হাজার ৭৩১ জন ছাত্রছাত্রী। রাজশাহী বিভাগ থেকে সমাপনী পরীৰায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৮৮ হাজার ৮২৮ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬৩ ভাগ। আর এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৩৫২ জন শিৰাথর্ী। খুলনা বিভাগ থেকে এ পরীৰায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৩৯ হাজার ৭৯৩ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৩ ভাগ।
এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ২৪১ জন। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে এবার প্রাথমিক শিৰা সমাপনী পরীৰায় অংশ নিয়েছিল চার লাখ ৭৫ হাজার ১৩ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে পাসের ৯৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ১৫ জন। বরিশাল বিভাগ থেকে এবার এ পরীৰায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৩৬ হাজার ৩৬২ জন ছাত্রছাত্রী।
এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৫ ভাগ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হজার ৫৯২ জন শিৰাথর্ী। সিলেট বিভাগ থেকে এ পরীৰায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৬০ হাজার ৩২২ জন শিৰাথর্ী। এ বিভাগে গড় পাসের হার সর্বনিম্ন ৯০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ২৯১ জন ছাত্রছাত্রী। রংপুর বিভাগ থেকে সমাপনী পরীৰায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৮৫ হাজার ৪৯২ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৪৫১ জন শিৰাথর্ী।
এবার পিটিআই সংলগ্ন পরীৰণ বিদ্যালয়ের পাসের গড় হার সবের্াচ্চ ৯৯ দশমিক ৮৮ ভাগ। অন্যান্য বিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক পরিচালিত বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৭৩ ভাগ, মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৮ দশমিক ৬৩ ভাগ, উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৮ দশমিক ১৭ ভাগ, কিন্ডারগার্টেন ৯৮ ভাগ, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৭ দশমিক ৮৯ ভাগ, রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৫ দশমিক ৯৫ ভাগ, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৪ দশমিক ৭৮ ভাগ, নন রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৩ দশমিক ৭৪ ভাগ, শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯২ দশমিক ৬৯ ভাগ, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয় ৯১ দশমিক ৪৫ ভাগ এবং আনন্দ স্কুলের পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৭ ভাগ। প্রাথমিক ও গণশিৰামন্ত্রী ডা. আফছারম্নল আমীন জানান, ২০০৯ সালে ১১৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কোন শিৰাথর্ী পাস করেনি। ২০১০ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪৩টি। এবার এ সংখ্যা আরও কমে দাঁড়িয়েছে সাতটিতে।
এবার মোট ৬৮ হাজার ৬২৯ স্কুলের শতভাগ শিৰাথর্ী উত্তীর্ণ হয়েছে। এরমধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৯ হাজার ২৮৩টি। নিবন্ধনকৃত বা ডিআরভুক্ত শিৰাথর্ীদের মধ্যে ইবতেদায়ী শিৰা সমাপনী পরীৰায় এবার অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৭২ হাজার ১৭১ জন শিৰাথর্ী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্রছাত্রী। গড় পাসের হার ৯১ দশমিক ২৮ ভাগ। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ১৫০ জন।
এদিকে মাদ্রাসার মধ্যে ডিআরভুক্ত ছাত্রছাত্রী, অনুপস্থিতির হার, জিপিএ-৫ এবং পাসের হারের ভিত্তিতে রাজধানীর ডেমরা থানার দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা শীর্ষে আছে। দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা ও তৃতীয় স্থানে আছে ঢাকা জেলার ক্যান্টনমেন্ট থানার তানযীমুল উম্মাহ ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসা। প্রসঙ্গত, গত ২৩ থেকে ৩০ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিৰা সমাপনী পরীৰা।