মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
১০০ বছর আগে
ঠিক একশ' বছর আগে নরওয়ের অভিযাত্রী রোয়ান্ড এ্যামুন্ডসেন দক্ষিণ মেরু জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। ১৯১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর এই বীর প্রথমবারের মত দক্ষিণ মেরুতে নরওয়ের পতাকা উড়িয়ে মহা বিজয়ের স্বাদ পান এবং ঘটনাটি প্রথমবারের মতো ঘটায় নরওয়েজুড়ে তখন ব্যাপক আনন্দ নেমে আসে। এ্যামুন্ডসেনের সঙ্গে ব্রিটেনের এক বীরও ঐ সময় দৰিণ মেরম্নতে পেঁৗছেছিলেন। তবে তিনি দৰিণ মেরু জয় করলেও জীবিত ফিরতে পারেননি। সেই ব্রিটিশ অভিযাত্রীর নাম রবার্ট স্কট। তবে দৰিণ মেরম্নতে কে আগে পেঁৗছবে-এ নিয়ে ব্রিটিশ নৌ অফিসার রবার্ট স্কটের সঙ্গে তাঁর একটা প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছিল ভেতরে ভেতরে। রবার্ট স্কট ভাবতেন একজন ব্রিটিশেরই উচিত দক্ষিণ মেরম্নতে আগে পেঁৗছানো। সেই আশা শেষ পর্যনত্ম নিরাশায় পরিণত হয়। দৰিণ মেরম্নতে আগে এ্যামুন্ডসেন পেঁৗছলেও জানুয়ারিতেই দুজন দৰিণ মেরম্ন জয় করতে সৰম হন। এ্যান্টার্কটিকার শীতকাল সবসময়ই অন্ধকারাচ্ছন্ন। শীত কেটে গেলে এ্যামুন্ডসেন ২০ অক্টোবর রওনা হন মেরম্নর দিকে। দক্ষিণ মেরম্নতে যাওয়ার পথে তিনি এস্কিমোদের দেখা পান। তাঁদের কাছ থেকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি একটি প্রশিৰিত কুকুর সঙ্গে নেন দলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। মানব দেহকে উষ্ণ রাখতে সক্ষম এমন কিছু সরঞ্জামও সঙ্গে করে নেন।
অন্যদিকে স্কটের দল মটরযানের ব্যবস্থা করেছিল যা কিছুদূর যাওয়ার পর বিকল হয়ে যায়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে নবেম্বর মাসে স্কটের অভিযাত্রী দল দক্ষিণ মেরম্নর দিকে রওনা হয়। ১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসে স্কটের দল দক্ষিণ মেরম্ন পেঁৗঁছে দেখেন, আগেই এ্যামুন্ডসেন সেখানে পেঁৗঁছেছেন।
দক্ষিণ মেরম্ন প্রসঙ্গে রবার্ট স্কট তাঁর ডায়েরি লিখেছিলেন, হে ঈশ্বর, এ এক ভয়ঙ্কর জায়গা। দৰিণ মেরম্ন সফরকালে স্কটের দলকে নানা ভয়ঙ্কর সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৪২ ডিগ্রীর নিচে। প্রচ- ঠা-ায় অভিযাত্রীদের মধ্যে তিন জন তাঁবুতেই মারা যান। তাঁরা তাঁবু থেকে বেরই হতে পারেননি। এক পর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা সব খাবার ফুরিয়ে যায়। আরেকজনের পায়ে গ্যাঙরিন হয় এবং তাতে পচন ধরে। রবার্ট স্কটের ডায়েরিতে শেষ লেখার তারিখ ছিল ২৯ মার্চ। সে বছরের নবেম্বর মাসে রবার্ট স্কট এবং তাঁর দুই অভিযাত্রীর শবদেহ উদ্ধার করা হয় ঐ তাঁর থেকে। এ্যামুন্ডসেন দেশে ফিরে আসেন এবং পান জাতীয় বীরের সম্মান। পরে তিনি ১৯২৬ সালে উত্তর মেরম্নতে পেঁৗছান। এর ঠিক দুই বছর পর ইটালির অভিযাত্রী উম্বেরতো নোবিলকে উদ্ধার করতে গিয়ে মারা যান রোয়াল্ড এ্যামুন্ডসেন। ইতি ঘটে দক্ষিণ মেরম্নর প্রথম অভিযাত্রীর। খবর ওয়েবসাইটের।