মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জামায়াতের মিথ্যাচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য মায়া কান্নার শেষ নেই একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের! কেবল তাই নয়, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কর্মসূচী পালন করে বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য সরাসরি ভারতকে দায়ী করেছে আলবদর-আলশামস-রাজাকার বাহিনীর নেতৃত্বদানকারী এই দলটি। বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র এই জামায়াত একই সঙ্গে বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জামায়াত ও পাক হানাদার বাহিনী যুক্ত নয় বলে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। পুরো অপরাধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবার বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে জামায়াত নেতাদের আবিষ্কার, স্বাধীনতার পর ভারতের তাঁবেদারী মেনে নিবে না মনে করেই বৃহৎ এই শক্তি তাদের হত্যা করেছে।
বুধবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে এই ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন জামায়াত নেতারা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি নূরম্নল ইসলাম বুলবুল। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুল হালিম, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদওয়ান উলস্নাহ শাহিদী, প্রচার সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মতিঝিল থানার আমির মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, পল্টন থানার আমির মোকাররম হোসেন প্রমুখ। সভায় দেখা গেল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য জামায়াত নেতাদের মায়াকান্না। নূরম্নল ইসলাম বুলবুল বলেন, বুদ্ধিজীবীরা হচ্ছেন জাতির বিবেক ও দেশের শ্রেষ্ঠ সনত্মান। বুদ্ধিজীবীরা জাতির সম্পদ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ যাতে দক্ষ অভিজ্ঞ সরকার গঠন করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্যই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার রাজনীতি শুরম্ন হয়েছে। আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। শোকসনত্মপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি। এই জামায়াত নেতা বুুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে বলেন, ৩ ডিসেম্বর থেকে দেশে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের পতাকা উড়ছিল। ১২ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির আত্মসমর্পণের সিদ্ধানত্ম হয়। ১৩ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকা শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৪ ডিসেম্বর তাহলে কারা বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে জাতি তা জানতে চায় মনত্মব্য করে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ১৪ ডিসেম্বর পর্যনত্ম দেশেই অবস্থান করে নিরাপদ মনে করেছিলেন। তাঁরা ভারতে যাওয়া নিরাপদ মনে করেননি। স্বাধীনতার পর ভারতের তাঁবেদারী মেনে নিবে না মনে করেই ওই বৃহৎ শক্তি তাদের হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, জহির রায়হান ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুরে হারিয়ে যান। তখন ক্ষমতায় কারা ছিলেন? জহির রায়হান নিখোঁজ বা নিহত হওয়ার পেছনে যাদের হাত রয়েছে তারাই ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। তাই আওয়ামী লীগ ঘটনার দিকে নজর না দিয়ে ব্যক্তি বা দলবিশেষকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চলেছে। আবদুল হালিম বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে এজন্যই পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও এর বিচার না করা রহস্যজনক।