মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
বিভক্ত ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানে অপারগতা জানিয়ে ইসির চিঠি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন আয়োজনে অপারগতা প্রকাশ করে বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে নির্বাচন করতে না পারার তিনটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে 'সময় স্বল্পতা'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সময় স্বল্পতাসহ তিনটি কারণের উলেস্নখ করে ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, '৯০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দৰিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্তমান কমিশন না করার তিনটি কারণ উলেস্নখ করে চিঠিতে বলা হয়- আগামী ৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কশিমনার ড. এটিএম শামসুল হুদা ও অপর নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অপর কমিশনার সাখাওয়াত হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ কারণে বর্তমান কমিশনের বিভক্ত ডিসিসির পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন করার কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা গেলেও ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বিধায় এ নির্বাচন বর্তমান কমিশনের করা যথার্থ হবে না।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সংস্কারের অংশ হিসেবে কমিশন সকল স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার নীতি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া ইভিএম সম্পর্কে কমিশন জনসচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কুমিলস্না সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ সকল স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। কুমিলস্নায় সকল কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করায় এই মুহূর্তে বিভক্ত ঢাকা সিটিতে ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কারণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করার মতো পর্যাপ্ত ইভিএম কমিশনের হাতে নেই। অন্যদিকে কুমিলস্না নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করায় গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিন এসব ইভিএম সিলগালা করে রেখে দিতে হবে বিধায় সে সব ইভিএম ডিসিসিতে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিভক্ত ঢাকা সিটিতে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২০৭৪ ও ভোট কৰ ১০ হাজার। বিশাল এ নির্বাচনে অল্প সময়ের মধ্যে ইভিএম সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে ইভিএম ছাড়া নির্বাচন করতে হবে। যা কমিশনের সংস্কার কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।
তৃতীয়ত, বর্তমান ইসি গঠনের পর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন, সমূদয় সিটি নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিরপেৰভাবে সম্পন্ন করতে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়। এ বিষয়ে কমিশন সভায় নীতিগত সিদ্ধানত্ম হয়। বর্তমানে চলমান কুমিলস্না সিটি নির্বাচনে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তারা নিয়োজিত থাকায় ডিসিসি নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করতে গেলে ইসির সকল কাজ স্থবির হয়ে পড়বে যা কখনও কাম্য নয়।
চিঠিতে উলেস্নখিত কারণ তিনটির পর বলা হয়- পরবর্তী নতুন কমিশন দায়িত্বভার গ্রহণের পর যাতে দ্রম্নততর সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে পারে সেই জন্য সকল প্রস্তুতি রেখে যাওয়া হচ্ছে। গত ২৯ নবেম্বর স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন) সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণে আলাদা দুটি সিটি কর্পোরেশন হয়। গত ১ ডিসেম্বর এ আইনের গেজেট প্রকাশের পর দুই কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের তালিকা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ইতোমধ্যে দুইজনকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ৪ ডিসেম্বর কমিশনকে চিঠি দেয়।
তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা সোমবারই সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, মেয়াদের শেষ সময় চলে আসায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে না। সে সময়ই সিইসি জানান, সময় স্বল্পতাসহ অনত্মত তিনটি কারণে বর্তমান ইসির মেয়াদে বিভক্ত ডিসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনাগ্রহের কথা চিঠির মাধ্যমে সরকারকে জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের হাতে যে সময় আছে তাতে দু'ভাগে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে পারছি না। আমরা তফসিল দিয়ে বিদায় নেব, নতুনরা এসে অসুবিধায় পড়তে পারে।
তবে এর পরদিন মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে এক প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন বিষয়ে হঁ্যা-না করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। সংশোধিত আইনে গেজেটের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনে নতুন ইসি ভোট করবে।