মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মঈনুদ্দিনের বিচার হবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড
শংকর কুমার দে ॥ বুদ্ধিজীবী হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীর অপরাধে অভিযুক্ত ইংল্যান্ডে অবস্থানকারী চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আমেরিকায় অবস্থানকারী আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালে বিচার হবে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল ও পুলিশের উচ্চ পর্যায় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুদ্ধিজীবী নিধনের উপর ডেভিড বার্গম্যান ওয়ার ক্রাইম ফাইল ডকুমেন্টারি নির্মাণ করে তা লন্ডনের টুয়েনটি টুয়েনটি টেলিভিশন চ্যানেল ফোরে প্রচার করেছে। এই মামলায় আসামি করা হয় আলবদর বাহিনীর লন্ডন প্রবাসী চৌধুরী মাইনউদ্দিন ও নিউইয়র্ক প্রবাসী আশরাফুজ্জামানকে। লন্ডনের টুয়েনটি টুয়েনটি টেলিভিশন চ্যানেল ফোরে প্রচার করা ডকুমেন্টে ঘাতকদের স্বরূপ উম্মোচিত করেছে। আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের তদনত্ম কর্মকর্তারা বুদ্ধিজীবী ও যুদ্ধাপরাধী দুইটি অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
এই দুইজন ছিলেন জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা, একাত্তরের ঘাতক ও আলবদর নেতা। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ জন শিৰক ও বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগের তদনত্ম করা হচ্ছে। অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক সনত্মোষ ভট্টচার্য, ড. ফজলুল মহিউদ্দিন, ড. আবুল খায়ের, সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেন, অধ্যাপক সিরাজুল হক, ড. মুতুর্জা, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, শহীদুলস্না কায়সার, ড. মনিরম্নজ্জামানসহ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকা-ের অভিযোগে তাদের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম হচ্ছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাদেরই শিৰককের ধরে নিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই দুইজন আলবদর হিসেবে যোগদান করে পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে যখন বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে তখন তাদের অনেকেই চিনে ফেলেছিল বলে জানা গেছে।
তদনত্মকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ইংল্যান্ডে অবস্থানরত চৌধুরী মঈনুদ্দিন জামায়াত সম্পৃক্ত লন্ডনের বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত। চৌধুরী মঈনুদ্দিন লন্ডনে অবস্থিত মুসলিম এইডের চেয়ারম্যান এবং সেখানকার মসজিদভিত্তিক কমিটিগুলোর তদারকির ভূমিকায় আছেন। আলবদরের নেতা হিসেবে তার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অপরদিকে আমেরিকা প্রবাসী আশরাফুজ্জামান খানের বাসা থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার করা ডায়েরিতে বুদ্ধিজীবী হত্যা করার জন্য লিস্ট পাওয়া যায়। জলস্নাদের ডায়েরিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে এই আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পর্ব চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পর্বের পাশাপাশি যারা যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-- এই দুইটি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম করা হচ্ছে। চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান তাদের অন্যতম। এই দুইজন ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় বসবাস করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি একটু জটিল ও কঠিন। তারপরও এ দুই জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইংল্যান্ড ও আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করা হচ্ছে। চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জা-মানকে দেশে ফিরিয়ে আনা না গেলে তাদের অনুপস্থিতিতেই আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালে বিচার করার প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া হচ্ছে।