মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
বুদ্ধিজীবী হত্যা ॥ পাক সেনাদের চেয়েও বেশি সক্রিয় ছিল রাজাকার আলবদর ॥ মন্তব্য মওদুদের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বুদ্ধিজীবী হত্যায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর চেয়ে তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার- আলবদররা বেশি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বুধবার বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে জন্য রাজাকার- আলবদরদের দায়ী করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও একবারের জন্যও তিনি বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারী রাজাকার- আলবদরদের বিচার দাবি করেননি। তবে তিনি আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারী এবং বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষাকারী উল্লেখ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। উলেস্নখ্য, মাত্র কয়েক দিন আগে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ৩ তারিখে বিএনপির পৰে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল' বাতিলের দাবি করেছেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অবস্থান করা এই মওদুদ আহমেদ। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, পরাজয় অবশ্যম্ভাবী বুঝতে পেরেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবী নিধনের পরিকল্পনা করে। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে পাকিস্তানী বাহিনীর চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা। রাজাকার-আলবদররাই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে চিহ্নিত করে। সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে না গিয়ে আত্মসমর্পণ করে পালিয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে জাতীয় ঐক্য ছিল আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিতভাবে সেই ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. ওসমান ফারম্নক, শওকত মাহমুদ, বিএনপির শিৰাবিষয়ক সম্পাদক খায়রম্নল কবির খোকন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপু এবং ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রৰার দল বলে দাবি করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, বেকারত্ব দূর করে বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করেছে, ধূলিসাত করেছে। আওয়ামী লীগ সংবিধানকে খ- খ- করে গণতন্ত্রকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অধিকারী বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রৰাকারী হিসেবে দাবি করার কোন অধিকার আওয়ামী লীগের নেই। এ অধিকার আওয়ামী লীগ সেদিনই হারায় যেদিন তারা গণতন্ত্রকে নস্যাত করেছে। মওদুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রৰাকারী দল হলো বিএনপি। এটা ভবিষ্যতেও আমাদের রৰা করতে হবে। এটা হচ্ছে আমানত। বিএনপিই মুক্তিযুদ্ধের পৰের শক্তি_ দাবি করে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মওদুদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সামনের সারিতে যত নেতা আছেন আর আমাদের দলের সামনের সারিতে যত নেতা আছেন তার মধ্যে আমাদের দলে সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা অনেক বেশি।
মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ কখনই জনগণের কল্যাণে কাজ করেনি। আগেও তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এবারও তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। ফখরম্নল বলেন, একাত্তরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শহীদ জিয়া জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। পঁচাত্তরেও শহীদ জিয়া জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছিলেন। তাই তাঁরই উত্তরসূরি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান 'ফ্যাসিস্ট' সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আলোচনাসভা শেষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রামাণ্যচিত্র ও বিজয় মেলার উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর।