মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
তিন দিন ধরে জেরা করে মূল পয়েন্টে আসতে পারেনি সাঈদী পক্ষ
যুদ্ধাপরাধীর বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রথম সাৰী মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম হাওলাদেরকে আসামি পক্ষের আইনজীবীর জেরা অব্যাহত রয়েছে। চতুর্থ দিনে আসামি পৰের আইনজীবী সাৰীকে সরকারের নিকট সাহায্যের আবেদন ও তার মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও প্রশ্ন করেন। সাক্ষী এ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসামির আইনজীবী যে দাবি করেছেন তা সঠিক নয়। তিনি যে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন, তৎকালীন এমপি সাঈদী অনুমোদন করেছেন। তবে ব্যক্তি সাঈদী হিসেবে নয়, সংসদ সদস্য সাঈদী হিসেবে। এটা নিয়ন্ত্রণ করত জেলা কমান্ডার।
ট্রাইবু্যনাল এক পর্যায়ে সাঈদীর আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তিন দিন ধরে একজন সাক্ষীকেই জেরা করছেন, বৃহস্পতিবারও তা চলবে। এখনও আপনারা বলছেন, আমরা আমাদের পয়েন্টে আসছি। এতে সাক্ষীর ওপরও চাপ পড়ে, এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন। এ পর্যায়ে আসামি পৰের আইনজীবী বলেন, আমরা একটি প্রশ্নও খামাখা করছি না। সব প্রশ্নেরই পয়েন্ট আছে। ট্রাইবু্যনাল তা দেখতে পাবে।
সাৰী মাহবুবুল আলম হাওলাদার আরও বলেন, আসামি পৰের আইনজীবী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সুন্দরবন এলাকার দায়িত্বে থাকা সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আহমেদ তাকে কোন দায়িত্বও দেননি, এটা সত্য নয়। পিরোজপুর মুক্ত হবার পর ৮, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর মেজর জিয়ার নেতৃত্বে পিরোজপুর এলাকার শানত্মি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের ধরা হয় এবং স্টিমারে করে সুন্দরবন নিয়ে সেখানে অবস্থিত কিলিং স্কোয়াড গঠন করে তাদের হত্যা করা হয় এটাও সঠিক নয়। চতুর্থ দিনের মাথায় সাৰীকে জেরা করতে সাৰী এ সমসত্ম কথা বলেন। বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল জেরা বৃহস্পতিবার পর্যনত্ম মুলতবি করেন।
বুধবার সকাল ১০টায় আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের কার্যক্রম শুরম্নর পর সাঈদীর আইনজীবী কফিল উদ্দীন চৌধুরী পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবকে জেরা শুরম্ন করেন। এর আগেই সাঈদীকে ট্রাইবু্যনালে হাজির করা হয়। হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীর বিরম্নদ্ধে মাহবুব আলম হালদারই এ ট্রাইবু্যনালে প্রথম সাক্ষী। এর আগে তিনি ট্রাইবু্যনালকে জানিয়েছিলেন, একাত্তরে মুক্তিবাহিনীর হয়ে পিরোজপুর এলাকায় পাকিসত্মানী হানাদার ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন। নিম্নে মাহবুবুল আলমের জেরা দেয়া হলোর:-
প্রশ্ন : সুন্দরবন এলাকা পিরোজপুর জেলায় নয়।
উত্তর : জি, সুন্দরবন পিরোজপুর জেলায় নয়।
প্রশ্ন : এটা সাতৰীরা, খুলনা, বাগেরহাট এবং ভারতের একটা অংশজুড়ে অবস্থিত।
উত্তর : সঠিক জানি না।
প্রশ্ন : আপনি মেজর জিয়াউদ্দিন এর ক্যাম্পের কথা বলেছেন। এই ক্যাম্পটি সুন্দরবন কতটুকু ভিতরে।
উত্তর : জানা নেই। আমি বেশির ভাগই শরণখোলা ক্যাম্পে যোগাযোগ করতাম।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন, সুন্দরবন মেজর জিয়াউদ্দিনের ক্যাম্পে গেছেন। উনাকে না পেলে কালাম সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ওই ক্যাম্প অফিস কেমন ছিল। বা ক্যাম্পের আকৃতি কেমন ছিল।
উত্তর : পূর্বের তৈরি ঘর ছিল। এটা ফরেস্ট অফিস।
প্রশ্ন : আপনি ওই ঘরে যখন যেতেন, ওখানে মেজর জিয়াউদ্দিনের অফিসটাতে অন্যান্য কমান্ডারের নামের বোর্ড ছিল কিনা।
উত্তর : ক্যাম্প এলাকাভিক্তিক দাযিত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাম সম্বলিত বোর্ড ছিল না।
প্রশ্ন : ওখানে চোখে পড়ার মতো উলেস্নখযোগ্য ব্যক্তির কোন ছবি ছিল।
উত্তর : ছিল না। সৌন্দর্য রৰার জন্য কোন ছবি ছিল না।
প্রশ্ন : উনার টাইপিস্ট বা পিএস ছিল না।
উত্তর : টাইপিস্ট বা পিএ দেখি নাই।
প্রশ্ন : একাত্তরের পরে স্বাভাবিক অবস্থায় সুন্দর বনের এলাকায় যে ক্যাম্প ছিল, সেখানে যাওয়া আসা কত সময় লাগত।
উত্তর : স্বাভাবিকভাবে এক দিনের ভিতর লাগত। কোন কোন দিন জোয়ার ভাটার কারণে বেশি সময় লাগত।
প্রশ্ন : স্বাভাবিক কোন সার্ভিস ছিল না।
উত্তর : না। বিশেষ ব্যবস্থায় যেতে হতো।
প্রশ্ন : আপনার সঙ্গে যে নৌকা ছিল মাঝি-মালস্না কারা ছিল। সংখ্যা কত।
উত্তর : রইস উদ্দিন, শহীদ উদ্দিন আমরা গোয়েন্দা হিসেবে ছিলাম।
প্রশ্ন : আপনি ওখানে গিয়ে রাত্রি যাপন করতেন।
উত্তর : শারীরিক কারণে থেকেছি।
প্রশ্ন : ওখানে থেকেছেন, অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
উত্তর : ক্যাম্পে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে।
প্রশ্ন : ৬টি ক্যাম্প ছিল।
উত্তর : প্রাথমিক পর্যায়ে ৩টি ক্যাম্প ছিল। পরিস্থিতি ক্রমে জঙ্গলের ভিতর ক্যাম্প বাড়ানো হয়। তবে সঠিক বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : সুন্দর বন ক্যাম্পে জিয়াউদ্দিন এর অধীনে কতজন কমান্ডার ছিল।
উত্তর : সম্পূর্ণ জানি না।
প্রশ্ন : আনুমানিক বলতে পারেন।
উত্তর : পারব না।
প্রশ্ন : মেজার জিয়াউদ্দিন উনি আপনাদের এলাকার লোক। আপনার বাড়ি থেকে উনার বাড়ি কত দূর।
উত্তর : জি। সাড়ে ৫ মাইল। তবে কম বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন : উনার সঙ্গে পরিচয় কবে থেকে।
উত্তর : ছাত্রজীবন থেকে উনার সঙ্গে পরিচয়। এখন অনেক দিন থেকে পরিচয় নেই।
প্রশ্ন : আপনি ক্যাম্পে গিয়ে কিভাবে ডাকতেন।
উত্তর : ওসত্মাদ বলে ডাকতাম। এখনও তাই বলি।
প্রশ্ন : সুন্দর বনের মধ্যে অনেক নাম আছে। যে ক্যাম্পে ছিল খোনের নাম জানেন কি। জানলে কি নাম।
উত্তর : সঠিক বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ক্যাম্পে আসা যাওয়ার সময় আক্রানত্ম হয়ে আহত হয়েছিলেন।
উত্তর : এমন হয়নি। যাওয়া আসার সময় সতর্ক ছিলাম। নৌকায় একবার বিপদ হয়।
প্রশ্ন : ওই সময় ক্যাম্পের নিরাপত্তা বলয় ছিল কিনা। জিয়াউদ্দিনের পাহারায় কমান্ডো ছিল।
উত্তর : নিরাপত্তা বলয় বা কমানোড বাহিনী ছিল না।
প্রশ্ন : আপনি তার অফিসে গেলে তার পাশে কে থাকত। তার নাম জানলে বলেন।
উত্তর : মহিউদ্দিন তালুকদার, আবদুল গনি পসারী, চুন্নু খান, গৌতম হালদার, মুনীর মাস্টার, শংকর সেন মাঝে মধ্যে যেতেন।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিন সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধপরিচালনার জন্য বিভাগ উপবিভাগের নাম ভাগ করেছিলেন। এদের নাম বলতে পারবেন।
উত্তর : সামছুল হক এ্যাডভোকেট, ভা-ারিয়ার আজিজ। অন্যান্য বলতে পারব না।
প্রশ্ন : উনি কি গোয়েন্দা বিভাগকে আলাদা করেছিলেন। তার একজন প্রধান করেছিলেন।
উত্তর : জানা মতে আলাদ কমান্ডার ছিলেন। তার নাম মহিউদ্দিন কালাম।
প্রশ্ন : ওই কমান্ডার সুন্দরবনের কোন এলাকায় ছিল।
উত্তর : আমার জানা মতে গোয়েন্দা শাখার আলাদা কোন ক্যাম্প ছিল না।
প্রশ্ন : ওই সময় পরিতোষ কুমার পাল নামে কারও সঙ্গে পরিচয় ছিল।
উত্তর : এখন মনে নেই।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধকালীন বাবুল গাজী নামে কারও চিনতেন।
উত্তর : পারেরহাটে এলাকায় বাবুল গাজী নেই।
প্রশ্ন : তাম্বুলবুনিয়া, পাংগাসিয়া নাম শুনেছেন।
উত্তর : পাংগাশিয়ার নাম শুনেছি।
প্রশ্ন : পাংগাসিয়া কি বাড়ি, না পাহাড়।
উত্তর : বলতে পারব না। তবে গ্রাম হতে পারে।
প্রশ্ন : তাম্বুল বুনিয়া চেনেন।
উত্তর : না।
প্রশ্ন : পিরোজপুরে থানাভিত্তিক কমান্ড করেছিল। আপনার থানায় মেজর জিয়াউদ্দিন কতর্ৃক কমান্ডার কে ছিলেন।
উত্তর : আমাদের থানা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন শামসুল হক বর্তমানে এ্যাডভোকেট।
প্রশ্ন : পাশের থানার উজিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কে ছিলেন।
উত্তর : আমি বলতে পারব না।
প্রশ্ন : স্বরূপকাঠি, কাউখালী, মঠবাড়িয়া থানায় কে নিয়োগ ছিল।
উত্তর : ভান্ডারিয়ারটা শ্মরণ আছে। তার নাম সুবেদার আজিজ। বাকিগুলোর কমান্ডার কে ছিলেন এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই।
প্রশ্ন : আপনি নিজে যুদ্ধ করেননি। গোয়েন্দা ট্রেনিং নিয়েছিলেন কি করে।
উত্তর : ক্যাম্পে গোয়েন্দার উপর স্বাভাবিক ট্রেনিং নিয়েছি।
প্রশ্ন : কোন ক্যাম্প থেকে কোন সময় ট্রেনিং নিয়েছেন।
উত্তর : জুনের শেষে সুন্দরবন ক্যাম্পে। সুবেদার মধুর অধীনে ট্রেনিং নিয়েছি।
প্রশ্ন : ওই ক্যাম্পটি সুন্দরবনের কোন জায়গায় অবস্থিত।
উত্তর : আমাকে ট্রেনিং দেয়ার জন্য কোন এলাকায় হয়েছে, তা বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, মজিদ খান, হারম্ননুর রহমান, জাহাঙ্গীর মাহবুবকে তাদের চিনেন।
উত্তর : সরাসরি চিনি না। বিসত্মারিত বলতে পারব না।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় এ রকম নামের সঙ্গে লোকজনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।
উত্তর : পরিচয় হয়েছিল কিনা, নাম ঠিকানা না বললে বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনি এই ট্রাইবু্যনালে যে অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগ দায়েরের সময় (২০/৭/১০) সেখানে বলেননি, আউয়াল সাহেব গোয়েন্দার দায়িত্বে ছিলেন।
উত্তর : আমি ২০/৭/২০১০-এর বিষয়টি ছিল মূল বিষয়। কে দায়িত্বে ছিল, সেটা চিনত্মা করিনি।
প্রশ্ন : ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর শত্রম্ন মুক্ত হয়। সেটা মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে কয়টায় মুক্ত হয়।
উত্তর : মনে নেই। জানতাম সঠিক খেয়াল নেই।
প্রশ্ন : ৮ ডিসেম্বর পারেরহাট ছিলেন। মেজর জিয়াউদ্দিন পারেরহাটে এসেছিলেন।
উত্তর : পিরোজপুরে শত্রম্ন মুক্ত হবার পরে পারেরহাটে আসছিলেন। আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। তবে এই মুহূর্তে সময় বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ৮ তারিখের কয়দিন পরে এসেছিলেন।
উত্তর : সঠিক বলতে পারব না। তবে ৮ তারিখ নয়।
প্রশ্ন : জিয়াউদ্দিন যেহেতু কমান্ডার ছিলেন। সেই কমান্ডার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ পূর্বক বই 'মুক্তিযুদ্ধের সেই উম্মাতাল দিনগুলো' লিখেছিলেন। সেটা দেখেছেন।
উত্তর : পড়িনি, শুনেছি।
প্রশ্ন : পিরোজপুর জেলা পরিষদ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পিরোজপুর ইতিহাস গ্রন্থ বের করে।
উত্তর : বের করেছে কি না জানি না।
প্রশ্ন : পিরোজপুরের ইতিহাস, মেজর জিয়াউদ্দিন লিখিত বই আপনি জেনে শুনে গোপন করেছেন। যেহেতু ওই বইয়ে আপনার কথা নেই।
উত্তর : সত্য নয়। জেলা পরিষদ কতর্ৃক পিরোজপুরের ইতিহাস গ্রন্থ নামক বই সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু আমার কথিত কোন বক্তব্যের সত্যতা উলেস্নখিত বই দুটিতে না থাকায় এবং উক্ত বইয়ে আমার কোন পরিচয় না থাকায় সত্য গোপন করার জন্য আমি ওই বই দুটি সম্পর্কে জানি না ভাবে বক্তব্য দিয়েছি। এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ সরকার তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কবি হাসান হাফিজুর রহমানের বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র নামে গ্রন্থ বের করে। সেই গ্রন্থ ৭, ৮, ১০ খ-ে পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আছে। সেটা পড়েছেন কিনা।
উত্তর : আমি পড়িনি। ইহা সত্য নয় যে, ওই গ্রন্থসমূহে পিরোজপুরের যুদ্ধকালীন সময়ের প্রকৃত ঘটনা বলা হয়েছে এবং সেখানে আমার কথিত কোন বক্তব্য না থাকায় আমি সত্য গোপন করার উদ্দেশে ওই দলিলপত্র নামে কবি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বই পড়িনি মর্মে বলেছি।
প্রশ্ন : পিরোজপুর শত্রম্ন মুক্ত হলে ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর রাজাকার, শানত্মি কমিটির সদস্যদের স্টিমারে করে নিয়ে সুন্দরবনে হত্যা করা হয়।
উত্তর : ইহা সত্য নয় যে ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ ডিসেম্বর মেজর জিয়াউদ্দিন-এর নেতৃত্বে পিরোজপুর এলাকার শানত্মি কমিটি সদস্য, রাজাকার, আলবদর, স্বাধীনতা বিরোধীদের ধৃত করেন। এবং স্টিমার করে সুন্দরবনে নিয়ে সেখানে অবস্থিত কিলিং স্কোয়াড গঠন করে, তাদের হত্য করা হয় এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : এই সময় (৮ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর) মধ্যে মামলার উলেস্নখিত রাজাকার মূলত সেকান্দার সিকদার, দানেশ মোলস্না, মোসলেম ম-ল, দেলাওয়ার হোসাইন, মলিস্নক সৈয়দ মোঃ আফজালসহ এখানে কুখ্যাত রাজাকারদের গ্রেফতার করা হয়।
উত্তর : সত্য নয়। একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেকেন্দার সিকদার। অন্যান্যরা পালিয়ে যান।
প্রশ্ন : স্বাধীনতা উত্তর-এর পরে রাষ্ট্রীয়ভাবে যুদ্ধাপরাধী ছিল এবং সহযোগিতা করেছে তাদের বিরম্নদ্দে মামলা হয়েছে।
উত্তর : এটা জানা নেই।
প্রশ্ন : বড় রাজাকার ছিল। পলাতক ছিল, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে।
উত্তর : শুনেছি। গোলাম আযমসহ বিশেষ ব্যক্তিদের।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিন তখন মেজর ছিলেন না। তার সঙ্গে কোনভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না বলেই ভুল বলছেন।
উত্তর : সত্য নয়। জিয়াউদ্দিন সে সময় মেজর ছিলেন না। তার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে কোন পরিচয় ছিল না।
উত্তর : আদৌ সত্য নয়। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি আমাকে গোয়েন্দার দায়িত্ব নিয়োগ করেন এবং আমি কখনও সুন্দরবনে যাইনি এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার এলাকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সে জন্য জনগণ দরখাসত্ম দিয়েছিল।
উত্তর : সঠিক নয়। আমার বেলায় এমন করেনি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ করতে পারে অন্যদের বিষয়ে। আমার বেলায় নয়।
প্রশ্ন : আপনি মুক্তিবার্তায় কোন সংখ্যায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্ত হন।
উত্তর : আমি খালেদা জিয়ার সময়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্ত হয়েছি।
প্রশ্ন : ২০০৪, ২০০৫ সালে যে সাহায্যের আবেদন করেন, সেখানে সুপারিশ নিয়েছিলেন আলস্নামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের কাছ থেকে।
উত্তর : ২০০৪, ২০০৫ সালে যে সাহায়্যের আবেদন করি তাতে সুপারিশ করেছেন তৎকালীন এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তবে ব্যক্তিগত সাঈদী হিসেবে নয়, সংসদ সদস্য সাঈদী হিসেবে। জেলা কমান্ডার নিয়ন্ত্রণে এটা করা হয়েছে।
প্রশ্ন : আপনি যেহেতু বিএনপি আমলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছেন সাঈদীর সুপারিশে। আউয়াল সাহেব মৌখিক নির্দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা বন্ধ করেছে।
উত্তর : সত্য নয় যে, খালেদা জিয়ার সময়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হওয়ায় এবং বিভিন্ন সময়ে সাঈদীর সুপারিশে নেয়ায় বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি এম এ আউয়াল জনগণের দরখাসত্মের ভিত্তিতে আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মৌখিক নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। ইহা সত্য না নয়।
প্রশ্ন : যেহেতু কর্মহীন বেকার সে জন্য এমপির কাছে যান। যেয়ে বলেন আমাকে বাঁচান। ভাতা চালু করেন।
উত্তর : সত্য নয়। আমি সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল সাহেবের কাছে গিয়ে, অসহায় বেকার আপনি যাহা বলবেন তাই করব। আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু করে দিন। এ কথা সত্য নয়।
প্রশ্ন : এই দুর্বলতার সুযোগে আউয়াল সাহেব উর্ধতন কতর্ৃপৰের সঙ্গে আলোচনা করে, আপনাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা সৃষ্টি করেছে।
উত্তর: সত্য নয়। আমার উলিস্নখিত দুর্বলতার কারণে এমপি এম এ আউয়াল সাহেব সরকারের উর্ধতন কতর্ৃপৰের সঙ্গে যোগসাজশে আমাকে দিয়ে এই ভুয়া মামলা দায়ের করেছে এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন: দেশে ৬২ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে।
উত্তর: জানা নেই।
প্রশ্ন: আপনি আপনার পিরোজপুরের ৩১/৮/৯ তারিখের মামলায় এবং ট্রাইবু্যনালের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন বর্তমান সাঈদী লেখেননি।
উত্তর: কাগজ না দেখে বলতে পারব না।
প্রশ্ন: সাঈদীর নামের ব্যাপারে সাৰ্য প্রমাণকালে যেভাবে বলেছে এই কথা অন্যভাবে বলা হয়নি।
উত্তর: জি সঠিক।
প্রশ্ন : দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আপনার এলাকা থেকে তিনবার এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
উত্তর: জি।
প্রশ্ন: প্রত্যেকবার আলস্নামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হিসেবে পোস্টারিং করেন।
উ্ত্তর: ওই নামেই করেছে। প্রত্যেক বার আলস্নামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নামে পোস্টার ও লিফলেট বিলি করেছেন এবং সভা করেছেন।
প্রশ্ন: তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাবু সুধাংশু শেখর হালদার সাঈদীর বিরম্নদ্ধে দুই বার নির্বাচনী মামলা করেছেন। সে মামলায় অনেক অভিযোগ থাকলেও নাম ও স্বাধীনতা বিরোধী অভিযোগ করেননি।
উত্তর: বাবু সুধাংশু শেখর হালদার তার মামলায় সাঈদীর বিরম্নদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনেছিলেন। তার নামের ব্যাপারে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে অভিযোগ আনেননি। কোন সভাতেও বাবু সুধাংশু শেখর হালদার সাঈদীর বিরম্নদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে অভিযোগ এনেছেন কিনা আমি জানি না।
প্রশ্ন: ওনার নির্বাচনকালে সময়ে ৰতিগ্রসত্ম পরিবারের লোকজন তার বিরম্নদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন কিনা।
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: ওমেদপুর বিশাবালী হত্যার কথা বলেছেন, সেই ক্যাম্পে সাঈদী বিপুল ভোটে বিজয় হয়েছিল।
উত্তর: হঁ্যা।
প্রশ্ন: টেংরাখালী কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোট পান।
উত্তর: টেংরাখালী এবং পারেরহাট নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট নয়।
প্রশ্ন: আপনার এলাকার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট শহীদুল আলম নিরম্ন এবং মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বাদশা, আব্দুস সালাম বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান ও খুসরম্ন আলমকে চিনেন।
উত্তর: এ্যাডভোকেট শহীদুল আলম নিরম্ন, মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বাদশা, এদের চিনি। বাহাদুর এবং খসরম্নকে চিনি না। আব্দুস সালাম বাতেন নামে আমাদের এলাকায় কেউ মুক্তিযোদ্ধা ছিল না।
প্রশ্ন: খসরম্ন আলম ছিলেন পারেরহাট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
উত্তর: তাকে কমান্ডার হিসেবে দেখিনি।
প্রশ্ন: এই সব মুক্তিযোদ্ধার নেতৃত্বে বিরাট একটি বাহিনী ছিল। যারা নির্বাচনে সাঈদীকে সহায়তা করেছে।
উত্তর: সত্য নয় যে, আমাদের এলাকায় যেসব বিশিষ্ট মুক্তিবাহিনী ছিল যাদের নাম উলেস্নথ করতাম, তারাসহ একটি বিরটি বাহিনী সাঈদী সাহেবের প্রত্যেক নির্বাচনে তার পৰে কাজ করেছেন এবং আমি অভিযোগ করার পূর্বে তার বিরম্নদ্ধে এলাকার কোন দিন যুদ্ধাপরাধী বা অন্য কোন অভিযোগ আনেননি । এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন: যুদ্ধাকালীন সময়ে আপনাদের এলাকায় এসডিপি ও ফয়েজুর রহমান শহীদ হন।
উত্তর: শুনেছি।
প্রশ্ন: তার স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ স্বাধীনতার পরে একটি মামলা করেছে।
উত্তর: জানি না। আয়েশা ফয়েজ স্বাধীনতার পরে ফয়েজ সাহেব হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের নাম উল্লেখ করে পিরোজপুর থানায় মামলা করেছিল কিনা জানি না।
প্রশ্ন: তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বামীহারা স্মৃতি 'জীবন যে রকম ' ২০০৮ লেখেন।
উত্তর: আমার জানা নেই যে আয়েশা ফয়েজ ২০০৮ সালে জীবন যে রকম লিখেছে সেটা জানি না।