মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
শহীদের রক্ত ও সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সঙ্গে বেইমানী করবেন না
অন্যথায় যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতার দায়ে মানুষ আপনারও বিচার চাইবে ॥ খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ ত্যাগ করার জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'একাত্তরের লাখো শহীদের রক্ত এবং সম্ভ্রম হারানো লাখো মা-বোনের সঙ্গে বেইমানী করে যুদ্ধাপরাধীদের রৰার চেষ্টা করবেন না। নইলে যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতার দায়ে দেশের জনগণ একদিন আপনারও (খালেদা) বিচার চাইবে। বহু চেষ্টা করেছেন বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রৰা করতে, কিন্তু পারেননি। যুদ্ধাপরাধীদেরও রৰা করতে পারবেন না। কেননা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আজ যুবসমাজ, নতুন প্রজন্মসহ সারাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে। বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে।'
'আওয়ামী লীগের কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি'_ খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যুদ্ধ করেনি তো কে যুদ্ধ করেছে? একাত্তরে কে মুক্তিযুদ্ধ করেছে তা ইতিহাসই সাৰী। যিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মাঠে নেমেছেন, সেই খালেদা জিয়ার কাছ থেকে দেশের মানুষকে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিতে হবে না। তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রীকে বলেন, উনি নাকি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন! তিনি (খালেদা) কোথায় যুদ্ধ করেছেন? মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে পাক হানাদারদের মেহমানদারিতে থেকে তিনি (খালেদা) কি জানজুয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন? দেশবাসী তা জানতে চায়।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলৰে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রসত্ম করতে ষড়যন্ত্র-চক্রানত্মকারীদের বিরম্নদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের পুত্র সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির অঙ্গীকার' শীর্ষক এ আলোচনাসভা পরিচালনা করেন নূহ-উল-আলম লেনিন ও অসীম কুমার উকিল।
জিয়া অরফানেজের নামে বিরোধীদলীয় নেত্রীর এতিমদের টাকা আত্মসাতের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রকৃত চেহারা আজ জাতির সামনে ধরা পড়েছে। এরপরও তিনি (খালেদা) বড় গলায় কথা বলছেন। লজ্জা-শরম থাকলে বড় গলায় কথা বলতে পারতেন না। 'চোরের মায়ের বড় গলা'_ উনাকে (খালেদা) দেখলে তাই মনে হয়। তিনি বলেন, এতিমদের টাকা চুরি করে বিরোধীদলীয় নেত্রী মামলা খেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় দুনর্ীতি করে অর্জিত কালো টাকা জরিমানা দিয়ে সাদা করেছেন।
তিনি বলেন, তাঁর (খালেদা) দুই ছেলে দুনর্ীতির অর্থ পাচার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে দুই ছেলের অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই কর্মকর্তা এসে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর পুত্রদের অর্থ পাচারের ঘটনায় সাৰী দিয়ে গেছেন। এতেও উনার (খালেদা) লজ্জা নেই। বিরোধীদলীয় নেত্রীর দুই পুত্র মানি লন্ডারিংয়ে (অর্থ পাচার) অনার্স করেছে, উনি নিজে দুনর্ীতিতে মাস্টার্স করেছেন। এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। ৰমতায় থাকতে জনগণের অর্থসম্পদ দু'হাতে লুণ্ঠন করে নিজেরা বিলাসিতা করেছেন, জনগণকে কিছুই দিতে পারেননি। এখন যুদ্ধাপরাধী, দুনর্ীতিবাজ ও খুনীদের রৰায় মাঠে নেমেছেন। কিন্তু দেশের মানুষ তা হতে দেবে না।
'বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি'_ বিরোধী দলের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশে দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রাম আর ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমার পরিবারের প্রত্যেকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শেখ কামাল সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছে, শেখ জামাল বন্দীদশা থেকে পালিয়ে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধ করেছে। শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। নিবিড়ভাবে তিনি গেরিলা যুদ্ধের তত্ত্বাবধান করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা রাজপথে থেকেছি।
প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, একাত্তরের ২৫ মার্চে জিয়াউর রহমান কোথায় ছিলেন, কী করছিলেন? বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর যখন সারাদেশে বাঙালীরা পাক হানাদারদের বিরম্নদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যারিকেড সৃষ্টি করছিল, তখন চট্টগ্রামে পাকবাহিনী নির্বিচারে গুলি করে বাঙালীদের হত্যা করেছিল। ওই হত্যাযজ্ঞে পাকবাহিনীর একজন ছিলেন জিয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবহারের জন্য সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র-গোলাবারম্নদ খালাস করতে গিয়েছিলেন ওই জিয়া।
শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু ভুল সিদ্ধানত্মের কারণে তাঁকে (জিয়া) কয়েকবার বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর মুক্তিযুদ্ধকালীন রণৰেত্রে কখনই জিয়ার যুদ্ধ করার কোন প্রমাণও নেই। অনেকেই তখন জিয়াকে 'মেজর রিট্রিড' বলত। কারণ যুদ্ধৰেত্রের তিন কিলোমিটার দূরে দূরে নাকি তিনি থাকতেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা হয়েছে, জিয়াউর রহমান মেজর থেকে মেজর জেনারেল হয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই। আর খালেদা জিয়াও স্বাধীনতার পর জিয়ার স্ত্রী ছিলেন, তাও বঙ্গবন্ধুর দয়ায়। আজ বড় বড় কথা তাঁর (খালেদা) মানায় না।
যুদ্ধাপরাধীদের পৰ নেয়ায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, উনার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বড়ই মনোকষ্ট। উনার স্বামী জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইয়াহিয়ার দূত শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী, দেড় শ' মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাকারী আবদুল আলীমকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। যাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জিয়া অবৈধভাবে ৰমতা দখল করেছিল, পরবতর্ীতে প্রায় ১৮টি কু্যর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর শত শত মুক্তিযোদ্ধা অফিসার, সৈনিকদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল জেনারেল জিয়া। নাগরিকত্ব না থাকা গোলাম আযমদের দেশে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক অধিকারও দিয়েছিল। জিয়ার স্ত্রী হিসাবে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারা বাংলাদেশ আজ জেগে উঠেছে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজ আজ নতুন করে জেগে উঠেছে। নতুন প্রজন্মও আজ স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও প্রকৃত ঘটনা জানতে চায়। তারা শিকড়ের সন্ধান চায়। আজ লাখো শহীদ পরিবারের আকুতি, সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের প্রাণের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন বাংলার মাটিতেই হয়। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব এবং দেশের মাটিতেই বিচার কাজ সম্পন্ন হবে। বিরোধীদলীয় নেত্রী তাদের রৰা করতে পারবেন না।
একাত্তরের মতোই ২০০১ সালে ৰমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা, মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছিল, বিএনপি-জামায়াত জোট ৰমতায় এসে একই কায়দায় নির্বিচারে হত্যাকা-, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে নির্যাতন চালিয়েছে। ৰমতায় এসে মানুষ হত্যার ইয়াহিয়া খানের ফেলে যাওয়া খাতা যেন খুলে বসেছিলেন খালেদা জিয়া। সারাদেশকেই তারা নরকে পরিণত করেছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের পৰালম্বন ত্যাগ করার জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানী করবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের সাহায্য না করে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে থাকুন। নইলে দেশের মানুষ আপনাকে ৰমা করবে না। সকল ষড়যন্ত্র-চক্রানত্ম মোকাবেলা করে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলবই।
ভোগবিলাস ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ হোন : আশরাফ দেশের বর্তমান সময়ে অলসতা, আরাম-আয়েস ও ভোগবিলাস ত্যাগ করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য দলের নেতাকমর্ী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ৰমতায় থাকতে নিজেদের অলসতা ও ভোগবিলাসের কারণে আমরা বঙ্গবন্ধুকে রৰা করতে পারিনি। আর যেন সেই ভুল না হয়, সেজন্য নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের এটাই হয়ত শেষ সুযোগ। আগামীতে হয়ত সেই সুযোগ আমরা পাব না। কেননা মুক্তিযোদ্ধা, প্রত্যৰ সাৰী, এমনকি যুদ্ধাপরাধীদেরও বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। একে একে অনেকেই চলে যাচ্ছেন। আগামীতে হয়ত অনেকেই থাকবে না। তাই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রথম ধাপ যাতে আমরা বর্তমান সরকারের আমলেই শেষ করে যেতে পারি, সেজন্য স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রৰায় জাতীয় ও আনত্মর্জাতিক শক্তি, অর্থনৈতিক ও ষড়যন্ত্রের শক্তির বিরম্নদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা লড়াই করে যাচ্ছেন। ৰমতায় গেলে আমরা অলসতায় ভুগি, ধরাকে সরা জ্ঞান করি। অনেকেই নিজেদের আখের গোছাতে বেশি সময় ব্যয় করি। এ আরাম-আয়েস ও ভোগবিলাস সবাইকে ত্যাগ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করতে হবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া আজ বেসামাল হয়ে পড়েছেন। ৰমতায় থাকতে এতিমের টাকা পর্যনত্ম তিনি মেরে খান! পুত্রদের দুনর্ীতির ভয়াল চিত্র আজ দেশ-বিদেশে প্রমাণিত। দুনর্ীতিবাজ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কোন শক্তিই ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না।
মতিয়া চৌধুরী অভিযোগ করেন, গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদসহ কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের জামিনদার হয়ে খালেদা জিয়া আজ মাঠে নেমেছেন, কিন্তু কোন লাভ হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের চরম শাসত্মি পেতেই হবে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া খালেদা জিয়া লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। '৭১ ও '৭৫-এর ঘাতকচক্র ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রৰায় জনগণের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। জনগণই তার জবাব দেবে।
সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রম্নত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে বলেন, দেশী-বিদেশী শত ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দ্রম্নত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে সমস্যা হতে পারে। খালেদা জিয়া ও তার তল্পিবাহকরা যুদ্ধাপরাধীদের রৰায় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। জাতি আজ খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্পষ্ট জানতে চায়, তাঁর প্রধান সেনাপতি কে? গোলাম আযম, নিজামী ও সাঈদীরা? যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দিলে দেশের মানুষ তা কখনই সহ্য করবে না।