মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
রাজশাহী মহানগর জুড়েই জনসভা
মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১২টা অতিক্রমের পর থেকে মানুষ আসতে থাকে রাজশাহী নগরীতে। গন্তব্য তাদের ঐতিহাসিক মাদ্রাস ময়দানে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জনসভা। দুপুর একটার পর থেকে মানুষের ঢল নামে রাজশাহী শহরে। দল বেঁধে বাদ্য বাজিয়ে মিছিল নিয়ে হাজারো মানুষ আসতে থাকে। ক্রমেই সস্নোগানে সস্নোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পদ্মা বিধৌত হযরত শাহমখদুম রূপোস (রহ.) পুণ্যভূমি রাজশাহী। লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে বিভাগীয় শহর রাজশাহী।
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ির বহর আসতে থাকে রাজশাহী শহরে তিনটি প্রবেশপথ দিয়ে। কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষ, কামার কুমার জেলে তাঁতি থেকে শুরম্ন করে সব বয়সের মানুষের সমাগম ঘটে রাজশাহীতে। বেলা দেড়টার পরই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ।
'জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু' 'প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই দিতে হবে ইত্যাদি সস্নোগান নিয়ে পিপীলিকার মতো মানুষের সারি দেখা যায় রাজশাহীতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল বিশাল ছবি সংবলিত লিফলেট, পোস্টার আর ব্যানার নিয়ে রাজশাহীতে গণমানুষের ঢল-যেন অতীতের সব গণজমায়েতকে হার মানায় রাজশাহীতে স্মরণকালের বিশাল জনসভা। সাধারণ মানুষ বলছে অতীতেও রাজশাহীতে জনসভা হয়েছে তবে এবারের মতো জনসমুদ্র কখনো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে জনমানুষের জোয়ারে পরিণত হয়েছে রাজশাহী নগরী। এ জোয়ার বাঁধভাঙ্গা ঢেউয়ের মতো। মানুষের জোয়ারে দিনভর উৎসবের নগরীতে রূপ নেয় রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানের গণ্ডি পেরিয়ে নগরীজুড়ে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট থেকে আসা বৃদ্ধ সোলাইমান (৭০) বলেন, রাজশাহীর মাদ্রসা ময়দানের জনসভায় আওয়ামী লীগের সকল জনসভায় তিনি এসেছেন। তবে এবার এসে একসঙ্গে যত মানুষ দেখলেন তা কখনও তিনি দেখেননি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এতো মানুষ কোথায় থেকে আসলো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ভাষণ শোনার জন্য আর অনেকদিন পর সরাসরি তাঁকে দেখতে তিনি কষ্ট করে বাসের ছাদে চড়ে এসেছেন। কিন্তু মানুষের ভিড়ে নেত্রীকে দেখতে পাবেন কিনা সন্দেহ তার।
শুধু কানসাটের বৃদ্ধ সোলাইমান নয়, রাজশাহী বিভাগের প্রায় প্রতিটি জেলার উপজেলা আর ইউনিয়নপর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় দলবেধে যোগ দেন হাজার হাজার নারী পুরম্নষ শিশু থেকে সব বয়সি সব পেশার মানুষ। অনেকে মাদ্রাসা মাঠের পেঁৗছার আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জনসভা শুরম্নর আগেই ভরে যায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান। পরে মানুষ অবস্থান নেই মাঠের চারপাশে।
মাদ্রাসা মাঠের অনত্মত এক কিলোমিটার আশপাশেও পা ফেলায় জায়গা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। এছাড়া রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি, বিন্দুর মোড়, লক্ষ্মীপুর বর্ণালী কাশিয়াডাঙ্গা আর সাহেববাজার এলাকাও পরিপূর্ণ হয়ে যায় মানুষের সমাগমে। মূল জনসভাস্থলেও বাইরেও মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো নগরীই পরিণত হয় জনসভায়।
আয়োজক কমিটি জনসভায় বাইরে অনত্মত তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাইক আর বিভিন্ন স্পটে ১২টি বড় পর্দা স্থাপন করায় সরাসরি জনসভা দেখানো হয়েছে। মাদ্রাসা ময়দানে জনসভা হলেও পুরো নগরীই পরিণত হয় জনসভায়।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতারা পরিকল্পনা করে মানুষের গাড়ি বহর শহরের বাইরে রাখায় শহরে যানজটের সৃষ্টি না হলেও পুরো নগরীতে হয় জনজট। মানুষ আর মানুষে একাকার হয়ে যায় রাজশাহী।
রাজশাহীর প্রবেশ পথের তিনটি স্থান দিয়ে মানুষ হেঁটে হেঁটে শহরে প্রবেশ করে মানুষ। পদ্মা নদী পেরিয়ে নৌকাযোগেও আসে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। শহরে যানজট এড়াতে শহরের বাইরে দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বহরের গাড়ি স্টপেজ করলেও মানুষ হেঁটে জনসভায় যোগ দেয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দে উৎসবে।
জনসভা প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন বলেন, মানুষের ঢল দেখে তিনি অভিভূত। জনসভা পুরোপুরি সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য তিনি রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা আর বিশ্বাস থাকার কারণেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দল বেধে নেচে গেয়ে আনন্দ উলস্নাস করেছে জনসভাকে সফল করেছে।