মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
টিপাইমুখ বাঁধে ক্ষতিকর কিছু থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান
প্রেস ব্রিফিংয়ে দীপু মনি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার আগে আমাদের জানতে হবে এটিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু আছে কি না? তাই এ নিয়ে যৌথ সমীক্ষার প্রসত্মাব ভারতকে দেয়া হয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু থাকলে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করব। প্রয়োজন হলে এবং প্রভিশন থাকলে এটা নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও যাব।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি টিপাইমুখ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, স্বাধীতার পরবর্তী সময়ে বিএনপি ১৫ বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। তারা যদি যথাসময়ে এ ব্যাপারে পদৰেপ নিত তাহলে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আজকের এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। এটা লজ্জ্যাজনক। স্বপদে থাকতে পদৰেপ নেননি, তবে দেরিতে হলেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, তার এ সহযোগিতাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, 'গত ২২ অক্টোবর স্বাৰর করা সে দেশের অভ্যন্তরীণ চুক্তিটি কার্যকর হতে গেলে ভারত সরকারের অনুমোদন পেতে হবে। আর টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে করা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর তা সম্পন্ন হতে ৮৭ মাস সময় লাগবে।'
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের ২১ মে ভারত জানিয়েছে, টিপাইমুখে শুধু জলবিদ্যুত প্রকল্প হবে ও বন্যানিয়ন্ত্রণ করা হবে। পানি আটকে রাখার জন্য কোন বাঁধ দেয়া হবে না বা সেচ কাজের জন্য পানি সরিয়ে নেয়া হবে না। পানি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া না হলেও আমরা এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান চাই। ভারতের কাছে এ ব্যাপারে অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছি। সেটা পেলে আমাদের অবস্থান আমরা পরিষ্কার করতে পারব। আর যৌথ স্টাডি হলে এ ব্যাপারে বিভ্রানত্মি নিরসন হবে।
তিনি বলেন, ক্ষতিকর না হলে টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে তা যৌথ সমীক্ষার পরে বোঝা যাবে।
ডা. দীপু মনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যনত্ম দুই দেশের মধ্যকার যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হয়েছে ৩৭টি। এরমধ্যে ১৩টি বৈঠক হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর সময়ে। বিএনপির দশ বছরে হয়েছে মাত্র দুটি বৈঠক। ওই দুই বৈঠকের কোনটিতেই বিএনপি এ ব্যাপারে কোন আপত্তি করেনি। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আট বছরে হয়েছে চারটি বৈঠক। এর বাইরেও মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক হয়েছে। এ সব বৈঠকে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা, তিসত্মার পানি বণ্টন, টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সকল বৈঠকের কারণেই ভারত অববাহিকা ভিত্তিক যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার চুক্তি করেছে। আমরা আশা করছি, এই যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ তো নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে মিলেও বাঁধ নির্মাণ করছে। এতে তো আমাদের কোন আপত্তি নেই, তবে ভারতের বাঁধে আপত্তি কেন। টিপাইমুখে ১৬২ দশমিক ৮ মিটার উঁচু বাঁধ হচ্ছে, আর নেপালের যে বাঁধটিতে বাংলাদেশও অংশীদার সেখানে তো সাড়ে তিন শ' মিটার উঁচু বাঁধ হচ্ছে। কই, নেপালের বাঁধ নিয়ে তো কারও আপত্তির কথা শুনি না?'
টিপাইমুখ নিয়ে সমালোচনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনত্মব্য করে দীপু মনি বলেন, 'প্রায় গায়ের জোরেই সমালোচনা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, টিপাইমুখ প্রকল্পে যাই হোক না কেন, এ নিয়ে যৌথ সমীক্ষা করার প্রসত্মাব দেয়া হয়েছে।
তিসত্মার পানি বণ্টন নিয়ে মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের মতো টিপাই নিয়ে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চিনত্মা-ভাবনা এখনও তাঁর নেই বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'জাতীয় স্বার্থের চেয়ে সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে টিপাইমুখ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জনস্বার্থে এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিন্দুমাত্র কোন সুযোগ নেই।'
দেশের স্বার্থ রক্ষা করে মাথা নিচু না করলেই দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় বলে মনত্মব্য করে তিনি বলেন, 'ভারতের সঙ্গে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান সমস্যার সমাধান আওয়ামী লীগই করেছে। আওয়ামী লীগ গঙ্গার পানি চুক্তি করেছে, সীমানত্ম সমস্যার সমাধান করেছে।
তিনি বলেন, 'অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনার চুক্তি ও বাংলাদেশী পণ্যের ভারতে প্রবেশসহ যত দাবি ভারতের কাছে আমাদের ছিল, তার প্রায় সবই পূরণ হয়েছে। ভারতেরও কিছু চাওয়া-পাওয়ার আমাদের কাছে আছে। তবে আমাদের দাবিদাওয়ার স্বার্থ রক্ষা করেই আমরা ভারতের দাবিদাওয়া পূরণ করছি।'
ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বার বার আশ্বসত্ম করার পর আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করেছি কেন_ এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, '২০০৯ সালের মে মাসেই ভারত একটি চিঠি দিয়ে আমাদের বলেছে, টিপাইমুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবিদু্যত ছাড়া আর কিছু হবে না। এতে বাংলাদেশের ক্ষতিকর কিছু থাকবে না। আমরা এতে আশ্বসত্ম হতে চাই। আনত্মর্জাতিক সম্পর্কে একটি দেশের দ্বারা অপর দেশকে আশ্বসত্ম করা একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাপার।'
প্রধানমন্ত্রীর প্রসত্মাবিত উচ্চ পর্যাযের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সফরের দিন তারিখ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নির্ধারণ করা হবে। সময় হলেই আপনাদের জানানো হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আনক্লসের বিধান মেনেই সমুদ্রসীমা বিরোধ মেটাতে আনত্মর্জাতিক আদালতে গেছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলোচনার ভিত্তিতেই নদীর পানি বণ্টনে চুক্তি করা হবে।'