মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
লেনদেনে ভারসাম্য রক্ষায় আইএমএফ ৩০ কোটি ডলার দেবে
প্রতিনিধি দল আসছে কাল
মিজান চৌধুরী ॥ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২২শ' ৫০ কোটি টাকা (৩০ কোটি মার্কিন ডলার) সহায়তা পাওয়া যাবে। এই সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিয়েই আগামীকাল শনিবার আসছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। সহায়তার অর্থ লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবহারের জন্য দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
লেনদেনের ভারসাম্য রৰায় আইএমএফ থেকে ১শ' কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আগামী তিন বছরের জন্য এই অর্থ দেয়া হবে। প্রতিবছর প্রতিশ্রুতির অর্থের মধ্যে ৩০ কোটি ডলার করে ছাড় দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ প্রতিনিধি দল শর্ত সাপেৰে এই অর্থ দেবে। এর মধ্যে বিদ্যুত, জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা ও ভ্যাট আইন সংস্কারের শর্ত রয়েছে।
ওই শর্ত মতে, বৃহস্পতিবার সরকার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য ৩৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর আগে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। ভোক্তার সহনীয় পর্যায়ে রেখে ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়। ভ্যাট আইনও সংস্কার করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আইন সংঙ্কার করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন এক কর্মকর্তার মতে, আইএমএফের দেয়ার শর্ত অনেকটা পূরণ করা হয়েছে। যদিও আইএমএফ বলতে পারে এটি যথেষ্ট নয়। তবে শর্ত পুরো পূর্ণ না করা হলেও আমরা বলতে পারব সরকার শর্ত পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশী সহায়তা এ মুহূর্তে অর্থনীতির জন্য খুব প্রয়োজন। আইএমএফের এই সহায়তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, পদ্মা সেতু খাতে বড় ধরনের বিদেশী সহায়তা বন্ধের কারণে চাপের মুখে পড়ে অর্থনীতি। এর সঙ্গে অন্যান্য প্রকল্পে সহায়তাদাতা সংস্থাগুলো বন্ধ রেখেছে। বিশ্বব্যাংক বাজেট সহায়তায় এই এক শ' কোটি ডলার দেয়ার কথা। কিন্তু ওই অর্থ এখনও পর্যন্ত দেয়া হয়নি। অন্যান্য বড় প্রকল্পে বিদেশী সহায়তা বন্ধ রয়েছে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। এই চাপ মোকাবেলায় বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ বাড়াতে সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আইএমএফের এই সহায়তায় কিছুটা চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।
গত অক্টোবরের প্রথম দিকে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিকসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আইএমএফসহ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান ও অর্থ সচিব মোহাম্মদ তারেক অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে লেনদেন ভারসাম্য রৰায় এক শ' কোটি ডলারের একটি ইসিএফ (বর্ধিত ঋণ সুবিধা) নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
অবশ্য বৈঠক শেষে দেশে ফিরে ড. আতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, খুব শীঘ্রই এ ঋণ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। এ ঋণ দেশের লেনদেনে ভারসাম্য ঠিক করতে সহায়তা করবে। আইএমএফের ইসিএফ ঋণ একটি 'ভাল ঋণ'। কোন দেশের লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে ইসিএফ পাওয়া যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৃহস্পতিবারের হিসাব মতে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ হচ্ছে ৯৭০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমানে প্রতিমাসে গড়ে তিন শ' কোটি ডলারের ওপরে আমদানি ব্যয় হচ্ছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৮০১ কোটি ডলার।
এ সময় রফতানি আয় হয়েছে ৬১৯ কোটি ডলার। শুধু সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৪.৬৬ শতাংশ।
এর মধ্যে জ্বালানি তেলের আমদানি বেড়েছে ১০৭.২৯ শতাংশ। বর্তমান সরকার রেন্টাল বিদু্যত কেন্দ্র স্থাপনের কারণে প্রচুর জ্বালানি তেল আমদানি করছে। যে কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লেনদেন ভারসাম্যে অনেকটা আঘাত হেনেছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টে নেগেটিভ ৩শ' কোটি ডলারে রয়েছে।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক হাজার কোটি ডলারের নিচে চলে আসছে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো দুষ্কর হয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এটা লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা প্রকাশ করছে।
তবে আইএমএফ এই অর্থ দেবে লেনদেনের ভারসাম্য রৰা করতে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ শতাংশে বেশি রাজস্ব আদায়কে ইতিবাচক বলে মনে করছে আইএমএফ। তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট চললেও বাংলাদেশ বেশ ভাল করছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে সব সংস্কার কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সেগুলো বাসত্মবায়িত হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকা সফর করে যাওয়া আইএমএফের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেছে। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এবং এ খাতের আরও সংস্কারের পদক্ষেপও আইএমএফের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা গেছে, আইএমএফ প্রতিনিধি দল দেশের রফতানি আয়, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যালেন্স অব পেমেন্টের অবস্থা পর্যবেৰণ করবেন। এ সব তথ্যের আলোকে আইএমএফ ফিরে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রদান করবে। এরপর অর্থ ছাড় করা হবে।