মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
'ওয়ানডে ও টি২০ স্ট্যাটাস' পেয়ে ইতিহাস গড়ল সালমা বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্র ৯ উইকেটে পরাজিত
মিথুন আশরাফ ॥ ম্যাচ শেষ হতেই শুরু হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জেনারেল ম্যানেজার নিজামউদ্দিন সুজনের ফোন বাজা। কে ফোন দিয়েছেন? বিসিবির প্রেসিডেন্ট আহম মোস্তফা কামাল। কার উদ্দেশে? বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুনের উদ্দেশে। কেন? 'ডু অর ডাই' ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৯ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ যে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে! প্রথমবারের মতো 'ওয়ানডে স্ট্যাটাস' অর্জন করেছে। সঙ্গে 'টি২০ স্ট্যাটাস'ও পেয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে তাই মাঠ থেকে বের হওয়ারও সুযোগ পাননি সালমা। সুজনের মাধ্যমে মাঠের ভেতরই ফোনে বিসিবি প্রেসিডেন্ট সালমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলেন। পুরস্কারের মঞ্চে আসার জন্য হাঁটছেন আর সালমা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলছেন!
কি বলেছেন প্রেসিডেন্ট? জানাচ্ছেন সালমা খাতুন, 'ম্যাচ শেষ হতেই তিনি (প্রেসিডেন্ট) জেনে গেছেন আমরা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়ে গেছি। তাই শুভেচ্ছা জানালেন।' এ অর্জনের বিনিময়ে কী কিছু পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন? সালমা জানালেন, 'এখনও পাইনি। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুক্রবার দেখা করার কথা আছে।' বোঝা গেল সালমারা তাদের প্রাপ্য কিছু পাবেন। সবচেয়ে মজার বিষয়_ সালমা যখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলছেন তখন দলের ক্রিকেটাররা একজন আরেকজনের সঙ্গে মজা করে বলছেন, 'এই আমরা কী পেয়েছি?' উত্তরে বার বার আসছে, 'ওয়ানডে স্ট্যাটাস, ওয়ানডে স্ট্যাটাস!' ক্রিকেটাররা বার বার কারও না কারও মুখ থেকে তাদের অর্জনের কথা শুনতে চেয়েছেন। 'নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল!' তাও আবার দু'দুটো কানা মামা (ওয়ানডে ও টি২০ স্ট্যাটাস)। বিশাল না হলেও উলেস্নখযোগ্য প্রাপ্তি তো অবশ্যই।
এত বড় প্রাপ্তি দেশকে এনে দিয়েছেন সালমারা। ওয়ানডে স্ট্যাটাসের সঙ্গে টি২০ স্ট্যাটাসও পেয়ে গেছেন। এখন বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলবেন তারা। সে অর্জন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েই। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিকেএসপি-২ মাঠে টস জিতেই ব্যাট করে যুক্তরাষ্ট্র। খাদিজাতুল কুবরার (৪/২০) স্পিন মায়ার জালে ৪৭.৩ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ১৮.৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে অনায়াসেই ৭৯ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
এ জয় শেষে বাংলাদেশ দলের কোচ মমতা মাবেন আনন্দ প্রকাশ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন, 'দল ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করতে হবে বোর্ডকে।'
যুক্তরাষ্ট্র কোচ রবিন সিংকে হতাশ দেখাল। তবে বাস্তবতাও যেন মেনে নিয়েছেন তিনি, 'একটা ভাল সুযোগ ছিল। তবে বাংলাদেশই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে। তাই স্বাগতিক হিসেবে তাদেরই জয় প্রাপ্য ছিল।'
ম্যাচ জয়ের পর এসব কথার আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আনন্দ করাই ক্রিকেটারদের মূল লক্ষ্য ছিল। এত বড় প্রাপ্তির পর সেটা হওয়াও স্বাভাবিক। তবে সবার দৃষ্টিতে বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান আবদুলস্নাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। তাই তাকে থাকতেই হবে। থেকেছেনও। এছাড়া কোন বোর্ড কর্তার টিকিটিও দেখা যায়নি মাঠে! মহিলা ক্রিকেটের এমন পথ চলার দিনে বোর্ড কর্তারা অনুপস্থিত থেকেছেন। এমন মুহূর্তে তাদের এ আচরণ অবাক করেছে সবাইকে।
এরপরও এসব বিষয় খুব বেশি নাড়া দেয়নি যখন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটাররা জেতার আনন্দে মেতেছেন। সবাই সালমা, কুবরা, শুকতারাদের উলস্নাসে যেন একত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। বিকেএসপির সবুজ ঘাসে ভরা মাঠ এবং সবুজ প্রানত্মরগুলোও যেন হাস্যোজ্জ্বল। তেমনি সবার মুখে হাসি। শুধু হতাশায় নু্যব্জ হয়ে থেকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটাররা। তাদের এ হতাশা ম্যাচ হারায়। আর বাংলাদেশ জেতায় সালমারা হেসেছেন। ইতিহাস গড়েছেন তারা। সঙ্গে ওয়ানডে ও টি২০ স্ট্যাটাস পেয়েছেন। তবে 'মুকুট পরার চেয়ে তা ধরে রাখা কঠিন।' এখন সেই স্ট্যাটাস ধরে রাখার সংগ্রামে নামতে হবে সালমাদের।
সালমা বললেন, 'আমরা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছি্। এখানেই শেষ নয়। এ স্ট্যাটাস এখন ধরে রাখতে হবে। আশা করছি আমরা পারব।' শুভ কামনা বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলকে। বাংলাদেশ পুরুষ দল ১৯৮৬ সালে প্রথম ওয়ানডে খেলেছে। শনিবার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল খেলবে প্রথম ওয়ানডে। এখন দেখার বিষয়, নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক ওয়ানডে ম্যাচটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারে কি না সালমা, রুমানা, শুকতরা, কুবরারা?