মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২৭ ভাদ্র ১৪১৮
পেঁয়াজের বাজার হঠাৎ অস্থির ॥ খাতুনগঞ্জে বেচাকেনা বন্ধ
মহসিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামসহ সারাদেশে হঠাৎ করে পিঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। শনিবার সকাল থেকে অনেকটা পিঁয়াজ বেচাকেনা বন্ধ করে দিয়েছে বিভিন্ন স্থানের আড়তদাররা। ফলে খাতুনগঞ্জের আড়তেই আমদানি করা ভারতের পিঁয়াজের দাম একলাফে প্রতিকেজিতে ১২ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আড়তদাররা জানিয়েছেন, স্থলবন্দর দিয়ে পিঁয়াজের কোন চালান আসছে না। আগামী মঙ্গলবারের আগে পিঁয়াজের চালান সীমান্তের স্থলবন্দরে শুল্কায়নেরও সম্ভাবনা নেই। ফলে হঠাৎ করে পিঁয়াজ মজুদ করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। অবশ্য পচনশীল হওয়ায় চড়া দামেই পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে নিয়ন্ত্রিতভাবে। আড়তদাররা জানিয়েছেন, ভারত পিঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে রাখায় চট্টগ্রামের বাজারে আকস্মিকভাবে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প কোন উৎস এ মুহূর্তে না থাকায় পিঁয়াজের বাজার আকাশচুম্বী।
খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের প্রায় ২৫টি আড়তে চাহিদা অনুযায়ী পিঁয়াজের মজুদ রয়েছে। এখানে দৈনিক প্রায় দেড় শ' টন পিঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। আড়তগুলোতে এর চেয়েও বেশি পিঁয়াজের মজুদ থাকার পরও হঠাৎ করে সীমান্তের পিঁয়াজ সরবরাহকারী আমদানিকারকরা আড়তগুলোতে পিঁয়াজ বেচাকেনা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তারা এখানকার আড়তদারদের জানিয়ে দেন, শুক্রবার থেকে এলসির বিপরীতে পিঁয়াজের কোন চালান আসছে না। সীমান্তের ওপারে বিপুল পরিমাণ পিঁয়াজবাহী গাড়ি অপেক্ষমাণ থাকার পরও সেখানকার শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় এসব পিঁয়াজ বাংলাদেশের স্থলবন্দরে আনা যায়নি। বরং শনিবার হিলি, ভোমরা, সোনা মসজিদ এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের বিপরীত দিকে অপেক্ষমাণ পিঁয়াজবাহী গাড়িগুলো ফেরত গেছে। এতে শুক্রবারের পর স্থলবন্দর থেকে কোন পিঁয়াজের চালান চট্টগ্রাম আড়তমুখী হয়নি। শনিবার পর্যনত্ম আগে আমদানি করা পিঁয়াজের চালান আড়তে উঠানো হয়েছে। তাই এ মুহূর্তে পচনশীল এ পণ্যটির মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও আগামী কয়েকদিনের চাহিদা পূরণে মারাত্মক ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে। এ আশঙ্কায় পিঁয়াজের বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সীমানত্মের আমদানিকারকরা চট্টগ্রামের আড়তদারদের পরামর্শ দেয়। বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রামের আড়তে ভারত থেকে আমদানি করা নাসিকের পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল প্রতিকেজি ২৯-৩০ টাকায়। শনিবার সকালে তা একলাফে ৪০/৪২ টাকায় উন্নীত হয়েছে। আড়তে পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধির খবরে খোলাবাজারেও তার প্রভাব পড়তে থাকে। খুচরা ব্যবসায়ীরা আড়ত থেকে পর্যাপ্ত পিঁয়াজ এ মুহূর্তে কিনে না আনলেও বাজারে আড়তের চেয়ে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে একলাফে পিঁয়াজের দর উঠে গেছে ৪৫ টাকায়। আমদানি করা পিঁয়াজের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদিত পিঁয়াজের দরও বেড়ে গেছে। আগে দেশীয় পিঁয়াজের দাম ৩৫ থকে ৩৭ টাকা ছিল আড়তে। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার প্রভাবে দেশীয় পিঁয়াজের দামও প্রতিকেজিতে ৭/৮ টাকা বেড়ে গেছে।
খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানিয়েছেন, ভারত থেকে পিঁয়াজ রফতানি বন্ধের কোন সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। সে দেশের শুল্ক কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে কোন চালান বাংলাদেশে আসছে না। ওপারের পিঁয়াজ সরবরাহকারীদের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আড়তদাররা জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত কয়েকদিন কলকাতা ও নাসিক অঞ্চলে প্রবল বর্ষণের কারণে পিঁয়াজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহনে প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানির কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পিঁয়াজের সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। স্থানীয়ভাবে পিঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তারা রফতানি অনুৎসাহিত করছে। এ নিয়ে শনিবার বিকেলে আমদানিকারকদের সভা বেনাপোলে অনুষ্ঠিত হয়। সীমানত্মের সরবরাহকারীরা তাদের জানিয়ে দেন, সোমবারের আগে পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ রবিবার সে দেশে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শুল্কায়ন অনুমতি প্রাপ্তির সম্ভাবনা কম। অতিরিক্ত দরে পিঁয়াজ রফতানির অনুমতি মিললেও তা সোমবার বিকেল গড়াতে পারে। এতে মঙ্গলবারের আগে নতুন ট্যারিফে পিঁয়াজ রফতানি অনুমতির পর চালান স্থলবন্দরে প্রবেশের সম্ভাবনা কম। কিন্তু ঐ সময় পর্যন্ত পিঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ এবং আমদানি পাইপলাইনে না থাকায় বাজারে সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। এতে আড়তদাররা মনে করছেন, বাজারে পিঁয়াজ সঙ্কট মারাত্মক রূপ নিতে পারে।