মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২৭ ভাদ্র ১৪১৮
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে পাঁচ কিমি দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তি
ডুবোচরে দশ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ওয়ানওয়ে পদ্ধতিতে ফেরি চলাচল শুরু
নিজস্ব সংবাদদাতা মানিকগঞ্জ ॥ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পদ্মায় নাব্য সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করায় শনিবার ভোর চারটার দিকে দৌলতদিয়া চ্যানেলে কেরামত আলী ফেরি আটকে পড়ার পর থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পাটুরিয়া হয়ে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হওয়ার পথে। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ডুবোচরে আটকে থাকার পর দুপুর দুটার দিকে দৌলতদিয়া চ্যানেলে স্থাপিত একটি ড্রেজার সরিয়ে নেয়া হলে ওয়ানওয়ে পদ্ধতিতে সীমিত লোড নিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়। তা সত্ত্বেও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। নাব্য সঙ্কটের কারণে শনিবার ভোর চারটায় দৌলতদিয়া চ্যানেলে কেরামত আলী ফেরি আটকে পড়ার পর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল সাতটার দিকে হামিদুর রহমান নামের আরেকটি রো রো ফেরি আটকে পড়ে। তবে বেলা দু'টার দিকে দৌলতদিয়া চ্যানেলের স্থাপিত ড্রেজার সরিয়ে নেয়ার পর ওয়ানওয়ে পদ্ধতিতে সীমিত লোড নিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখতে বিআইডব্লিউটিএ-এর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন।
ভোর চারটায় দৌলতদিয়া চ্যানেলে ফেরি আটকে পড়ার পর থেকে শতাধিক যানবাহন নিয়ে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, শাহ্ মখদুম, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, শাহ্ আলী ও আমানত শাহ্ নামের পাঁচটি ফেরি মাঝ নদীতে নোঙ্গর ফেলে থাকতে বাধ্য হয়। বাকি ৫টি ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে অপেৰায় ছিল। এ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দুই ঘাটে সহস্রাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। ঘাট দুটিতে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগ পোহায় হাজার হাজার যাত্রী। বেশ কিছু দূরপালস্নার কোচ ঘাটের পরিস্থিতির খবর পেয়ে উল্টো পথেই ফিরে গেছে।
ওয়ানওয়ে পদ্ধতিতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও বিআইডবিস্নউটিসির কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ রুটে ফেরি চলাচল যে কোন সময় আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার আশরাফউল্লা খান অভিযোগ করেন ড্রেজিং ইউনিটের গাফিলতির কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে দৌলতদিয়া চ্যানেলে ড্রেজিং শুরম্ন হয়। অথচ তারা ফেরি চলাচলের মতো ড্রাফট সৃষ্টি করতে পারেনি। তিনি জানান ফুল লোড নিয়ে একটি ফেরির ড্রাফটের প্রয়োজন কমপৰে ৮ ফিট। অথচ দৌলতদিয়া চ্যানেলে ড্রাফট রয়েছে মাত্র ৬ ফিট। ফলে হাফ লোড নিয়ে ফেরি চালাতে হচ্ছে। ম্যানেজার আশরাফউলস্না খান জানান, দ্রম্নত ড্রেজিং করে নাব্য ফিরে না আনতে পারলে ফেরি চালানো সম্ভব হবে না।
ড্রেজিং ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তারেক জানান, দুটি ড্রেজিং আনা হলেও কারিগরি ত্রম্নটির কারণে একটি দিয়ে ড্রেজিং করা সম্ভব হয়নি। অপরটি দিয়ে কিছু অংশ ড্রেজিং করা হয়েছিল। কিন্তু স্রোতের কারণে সেটিও কার্যত বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে দ্রম্নত সিলটেশনের কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে উর্ধতন কতর্ৃপৰ আসার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বেলা দেড়টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহম্মেদ, মেম্বার অপারেশন জিলস্নুর রহমান এবং ড্রেজিং ইউনিটের চীফ ইঞ্জিনিয়ার আঃ মতিন ঘাট পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তাঁরা সাংবাদিকদের জানান, দৌলতদিয়া চ্যানেলে দ্রম্নত আরও ড্রেজার নিয়োগ করা হবে। তাঁরা আশা করেন ড্রেজিং শুরু করতে পারলেই নাব্য সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা যাবে।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি ॥ স্টাফ রিপোর্টার মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান নাব্য সঙ্কটে মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস দফায় দফায় বিঘি্নত হওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সোয়া ৬ ঘণ্টা পর শনিবার সকাল ৭টায় চালু হলেও আবার বিকেলে সার্ভিসটি দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরম্নটের নাওডোবা টার্নিংয়ে সরু চ্যানেলে বিকেল সাড়ে ৩টায় মাওয়াগামী রামশ্রী ২২ যান নিয়ে ডুবোচরে আটকে যায়। এতে পুরো ফেরি সার্ভিসই বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় মাঝ পদ্মায় রো রো ফেরি বরকত ও রম্নহুল আমিন এবং ফেরি কপোতী শতাধিক যান নিয়ে আটকা পড়ে। ফেরি উদ্ধারকারী জাহাজ আইটি ৩৯১ ফেরিটিকে টেনে নামায়। এর পর বিকেল ৫টা থেকে আবার ফেরি চলাচল শুরম্ন হয়।
মাওয়ার বিআইডবিস্নউটিসির ম্যানেজার সিরাজুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এর আগে নাব্য সঙ্কটের কারণে শুক্রবার রাত পৌনে ১টায় এই ফেরিটি একই স্থানে মাওয়ায় আসার পথে আটকা পড়ে। এতে মাওয়ার পুরো ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। সোয়া ৬ ঘণ্টা পর এটি উদ্ধারের পর ফেরি সার্ভিস সচল হয়। এ সময়ে ২শ' যান নিয়ে ১০ ফেরি আটকা পড়ে। এতে ৮ সহস্রাধিক মানুষ পড়ে চরম বিপাকে। দীর্ঘ সময় ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় উভয় পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট।
ফেরি চলাচলকারী একমাত্র চ্যানেল কবুতরখোলা-কাউলিয়ারচর-নাওডোবা-হাজরা-চরজানাজাত সরম্ন হওয়ার কারণে আর কোন ফেরি চলার উপযোগী থাকে না। মাগুরখ- চ্যানেল নাব্য সঙ্কটে ইতোমধ্যেই বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই সরম্ন চ্যানেলে কোন ফেরি আটকা পড়লেই পুরো ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। পানি কমতে থাকায় এই ফেরি রুটে নাব্য সঙ্কট এখন চরম আকার ধারণ করেছে বলে বিআইডবিস্নউটিসি জানায়। বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার জানান, মাগুরখ- চ্যানেলে এখন পানি এতটাই কম যে লঞ্চও চলতে পারছে না। এখন একমাত্র অবলম্বন কবুতরখোলা চ্যানেলটি। কিন্তু এই চ্যানেলে প্রশসত্মতা কম থাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে ফেরি চলাচল করছে। তীব্র স্রোতের কারণে চ্যানেলে ড্রেজিং করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
মাওয়ায় যানজট ॥ দফায় দফায় ফেরি চলাচল বিঘি্নত হওয়ায় মাওয়ায় সৃষ্টি হয় যানজট। মাওয়ার বিআইডব্লিউটিসি'র ম্যানেজার সিরাজুল হক বিকেলে জানান, নাব্য সঙ্কটে দু'দফায় পৌনে ৮ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। নাইটকোচগুলো রাতে পারাপার হতে পারেনি। শনিবার দিনের বেলায় এগুলো পার করা হলেও উভয় ঘাটে দুই শতাধিক যান পারাপারে অপেক্ষায় রয়েছে।