মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০১১, ৭ শ্রাবণ ১৪১৮
ফেরদৌস ও চঞ্চল চৌধুরী শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, পপি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
চলচ্চিত্র পুরস্কার '০৯ ॥ সুলতানা জামান পেলেন আজীবন সম্মাননা পুরস্কার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত মনপুরা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০৯-এ শ্রেষ্ঠ ছবির মনোনয়ন পেয়েছে। যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন ফেরদৌস এবং চঞ্চল চৌধুরী । শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছেন সাদেকা পারভিন পপি। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য আজীবন সম্মাননা দেয়া হচ্ছে বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুলতানা জামানকে।
তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০৯-এর জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২৬ ক্যাটাগরিতে ২৮ জনকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আগামী শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে নির্মাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ছবির জন্য সরকার অনুদান দেবে। তিনি বলেন, এখন আমাদের চলচ্চিত্রের দুর্দিন চলছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিল্পের যাত্রাকালে যে ক'জন নায়িকা দাপটের সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে এফডিসি মাতিয়ে রেখেছিলেন তাঁদের অন্যতম ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুলতানা জামান। বাংলা চলচ্চিত্রের তৃতীয় ছবিতেই অভিনয় করেন খ্যাতিমান এ শিল্পী। ছবির নাম ছিল 'মাটির পাহাড়'। পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম ছবি 'মুখ ও মুখোশ' ব্যাবসা সফল না হওয়ায় ফতেহ লোহানী পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি 'আকাশ আর মাটি'তে কলকাতার শিল্পীদের অভিনয় করানো হয়। কিন্তু এ ছবিটিও ব্যবসা করতে না পারায় আরেক পরিচালক মহিউদ্দিন এবং প্রযোজক বিশিষ্ট চিত্র সাংবাদিক এসএম পারভেজ ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁদের ছবিতে পূর্ব পাকিসত্মানের শিল্পী ও কলাকুশলীরা অভিনয় করবেন। সেই হিসেবেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যাত্রার তৃতীয় ছবিতেই নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুলতানা জামান। তার সহ অভিনেতা ছিলেন নায়ক ছিলেন কাফি খান। উলেস্নখ্য, সে সময়ের উন্নত প্রযুক্তি ছাড়া ভারতীয় হিন্দী এবং পশ্চিম পাকিসত্মানের উদর্ু ছবির দাপটের কাছে মার খাচ্ছিল বাংলা ছবি। তারপরও সুলতানা জামান বেশ দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গিয়েছেন।
'মনপুরা' পাঁচটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। চিত্রনাট্যের জন্য গিয়াসউদ্দিন সেলিম সেরা চিত্রনাট্যকারের মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যান্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। একই ছবির খলনায়ক মামুনুর রশীদও পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ খলনায়কের স্বীকৃতি। ছবিটির গানের জন্য যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরস্কার পাচ্ছেন কৃষ্ণকলি ও চন্দনা মজুমদার। ছবিটির প্রযোজনার জন্য শ্রেষ্ঠ প্রযোজকের পুরস্কার পাচ্ছেন অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু।
সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড নির্মিত 'গঙ্গাযাত্রা' আটটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে। অসাধারণ নির্মাণ শৈলী এবং কাহিনীর জন্য শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ও সেরা কাহিনীকার মনোনীত হয়েছেন ডায়মন্ড। গঙ্গাযাত্রা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ফেরদৌস সেরা অভিনেতা আর সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন পপি। সৈয়দা অহিদা সাবরীনা গঙ্গাযাত্রায় অভিনয় শিশুশিল্পী হিসেবে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। এছাড়া ছবিটি শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক মোঃ কলমতর, শ্রেষ্ঠ মেকাপম্যান খলিলুর রহমান এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জার জন্য দিলীপ সিং পুরস্কার পাচ্ছেন।
স্বামী-স্ত্রীর ওয়াদা ছবিতে গানের কণ্ঠ এবং সুরের জন্য সেরা গায়ক এবং সেরা সুরকারের পুরস্কার পাচ্ছেন কুমার বিশ্বজিৎ। শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হয়েছে আলম খান। আমার প্রাণের প্রিয়া ছবিতে নৃত্য পরিচালনার জন্য শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক হয়েছেন তানজিল।
বৃত্তের বাইরে ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পাশর্্ব অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শহীদুল ইসলাম সাচ্চু। 'চাঁদের মতো বউ' এ অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পাশর্্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন নিপুন। 'মন বসে না পড়ার টেবিলে' অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান।
শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হয়েছেন চাঁদের মতো বউ'র মুজতবা সউদ। শ্রেষ্ঠ গীতিকার হয়েছেন 'স্বামী-স্ত্রীর ওয়াদা'র কবির বকুল। শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক সুজন মাহমুদ ও শ্রেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে জুনায়েদ হালিম পুরস্কার পাচ্ছেন। এরা তিনজনই বৃত্তের বাইরে ছবিতে কাজ করে পুরস্কার পাচ্ছেন। এছাড়া গ্রিয়তমেষু চলচ্চিত্রে পল্টু চরিত্রের অভিনেতা জারকান শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পীর (পুরম্নষ) পুরস্কার পেয়েছে।
পুরস্কারের জন্য মনোনীতরা একটি রেপিস্নকা, পদক, সনদপত্র ও নগদ অর্থ পাবেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজীবন সম্মাননার জন্য নগদ এক লাখ, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য ১০ হাজার এবং অন্য ক্যাটাগরির জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তথ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অবৰয়ের হাত থেকে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে রৰার চেষ্টা করছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল উলেস্নখ করে তিনি বলেন, অশস্নীল ছবি তৈরি এবং নানাভাবে স্থবিরতা তৈরি করে সুস্থ বিনোদনের এ শক্তিশালী মাধ্যমটিকে পঙ্গু করে দেয়া হয়। দীর্ঘ চার বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানও বন্ধ থাকে। সরকার ভাল চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহ দিচ্ছে উলেস্নখ করে তিনি সংশিস্নষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা দেশে ভাল ছবি তৈরি করতে না পারলে নানাভাবে বাইরের ছবি এসে সেই স্থান দখল করে নেবে যা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। বর্তমান প্রজন্মকে দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের কাছে জাতির গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উপস্থাপন করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন যে, চলচ্চিত্র এদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক মুক্তির আন্দোলনে গুরম্নত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ জন্য বঙ্গবন্ধু তিনি ১৯৫৭ সালে প্রাদেশিক আইন সভায় 'পূর্ব পাকিসত্মান চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন' সৃষ্টির জন্য বিল আনেন যা পরে পাস হয়। মূলত বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আজকের এফডিসি গঠিত হয়। সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাতারা নব উদ্যোমে নতুন জীবন লাভ করেছেন। বর্তমান সরকার তাদের অনুপ্রাণিত করতে বিশেষ অনুদান বৃদ্ধি ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিভিন্ন দিক সমৃদ্ধ করেছে।