মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
কৃষ্ণার সফরকালে দশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে
ফিরোজ মান্না ॥ ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণার বাংলাদেশ সফরে দশটি বিষয় গুরুত্ব পাবে। ইসু্যগুলোর মধ্যে রয়েছে তিস্তার পানি বণ্টন, ১৬২ ছিটমহল বিনিময়, অপদখলীয় জমি হসত্মানত্মর, ট্রানজিট, বাণিজ্য ঘাটতি, বিদু্যত শেয়ারিং, রেলওয়ের উন্নয়ন, সীমানত্মে হত্যাকা- বন্ধ, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, ভুটান-নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিটে ভারতীয় ভূখ- ব্যবহার। এর বাইরে অভিন্ন নদী মনু, মহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমারের পানি বণ্টন বিষয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া ইছামতি নদী খননের বিষয়েও ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অনেক ইসু্য সমাধানের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ানত্ম হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং দিলস্নীতে যে ৫০ ইসু্য সমাধানের যৌথ ঘোষণা দিয়েছিলেন-ওই ইসু্যগুলোর অনেক কিছুর সমাধানে দুই দেশ একযোগে কাজ করছে। তবে এর মধ্যে অনেক কিছু রয়েছে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। সীমানত্ম হত্যা বন্ধের ব্যাপারে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এর পর থেকে সীমানত্মে হত্যা অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে। দুই দেশের সীমানত্মরৰীদের নিয়ে একটা মাস্টার পস্ন্যান তৈরি করা হচ্ছে। এই পস্ন্যান তৈরি হওয়ার পর সীমানত্মে হত্যাকা- বন্ধ হবে। সাড়ে ৬ কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানত্ম সমস্যা দ্রম্নত নিষ্পত্তি করা হবে। তিসত্মা-ফেনী নদীর বণ্টন চুক্তি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় সম্পন্ন হবে। এছাড়া মনু, মহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমারের পানি বণ্টন বিষয়টিরও সমাধান হতে পারে। ইছামতি নদী খননের ব্যাপারেও ভারত আশ্বাস দিয়েছে। অমীমাংসিত ১৬২ ছিটমহল বিনিময়ের ব্যাপারে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে অপদখলীয় ভূমি হসত্মানত্মর সমস্যা দূর করার বিষয়টিও গুরম্নত্ব পেয়েছে। বিদু্যত শেয়ার করার একটি চুক্তি ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে হয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব মিজারম্নল কায়েস সম্প্রতি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর পর ঢাকায় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে অনেক সমস্যা সমাধারণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। বাকিগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধানত্মের ব্যাপার। মন্ত্রিপর্যায়ে এসব আলোচনা হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এ বছর বাংলাদেশ সফরে আসার আগে ভারতের আরও কয়েকজন গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রী ঢাকায় আসবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর শেষে ভারতের পানি সম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করবেন। মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকেই অনেক ইসু্য সমাধান হতে পারে। তবে গুরম্নত্বপূর্ণ কয়েকটি চুক্তি স্বাৰর হবে প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের সফরের সময়।
তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সীমানত্ম এলাকার মানুষের প্রত্যাশাকে গুরম্নত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে ছিটমহলগুলোতে গণনার কাজ চলছে। বাংলাদেশ-ভারতের সীমানত্মের জমি জরিপ কাজ চলছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সীমানত্মের অপদখলীয় জমি জরিপসহ সীমানত্ম সমস্যা দেখার জন্য রয়েছে জয়েন্ট বর্ডার ওয়ার্কিং গ্রম্নপ (জেবিডবিস্নউজি)। গ্রম্নপের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে থাকা ১৬২ ছিটমহল বিনিময়সহ অপদখলীয় জমিগুলো চিহ্নিত করার সীদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। ফলে একে অপরের কাছে থাকা অপদখলীয় জমি ও ছিটমহলের জরিপ কাজ চলছে। এখনই জমি বিনিময় করা হচ্ছে না। মনে রাখতে হবে, ছিটমহলগুলোতে মাথা গণনার কাজ হচ্ছে দু'দেশের মানুষের স্বার্থ রৰার্থে। যখনই ছিটমহলগুলো বিনিময়ের প্রক্রিয়া শুরম্ন হবে তখনই বর্তমান জরিপ এবং 'হেড কাউন্টিং' গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য আটটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি প্রকল্পের অর্থায়ন করবে জাইকা। বাকি ৭ প্রকল্প বাসত্মবায়নের টাকা দেবে ভারত সরকার। প্রকল্পগুলো হচ্ছে টঙ্গী-ভৈরববাজার পর্যনত্ম ডবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, লাকসাম ও চিনকী আসত্মানার মধ্যে ডবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ (জাইকা), ১৮০টি ব্রডগেজ বগি অয়েল ট্যাঙ্ক ওয়াগন এবং ৬ টি ব্রডগেজ ব্রেক ভ্যান সংগ্রহ (ভারত), ১২৫টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ (ভারত), ১০টি ব্রডগেজ ডিজেলইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ (ভারত), ৫০টি ফ্ল্যাট ওয়াগন এবং ৫টি ব্রেক ভ্যান সংগ্রহ (ভারত), ৩০ টি ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ ও ১০ সেট ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট সংগ্রহ। এই ৮ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫৩৩ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা। এখানে সরকারী বরাদ্দ রয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। এছাড়া ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদু্যত আমদানি এবং বাগেরহাটের রামপালে ১৩ শ' মেঘাওয়াট বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণার সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।