মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
সরকারী স্কুল ও কলেজে দু'হাজার কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ
বিভাষ বাড়ৈ ॥ দীর্ঘ প্রায় সাত বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সরকারী শিৰা প্রতিষ্ঠানের জনবল সঙ্কট উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরম্ন হচ্ছে। সরকারী স্কুল, কলেজ এবং সংশিস্নষ্ট শিৰা প্রতিষ্ঠান বা অধিদফতরের বিভিন্ন সত্মরের কর্মচারী ও অফিস সহকারী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার নিয়োগ দেয়া হবে প্রায় ২ হাজার কর্মচারী, অফিস সহকারী ও পিয়ন। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরম্ন করতে ইতোমধ্যে শিৰা মন্ত্রণালয়কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাকর্ুলার জারি করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা অধিদফতরকে (মাউশি) চিঠি দিয়েছে শিৰা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ বিষয়টিকে শিৰার স্বার্থে অত্যনত্ম জরম্নরী উলেস্নখ করে বলেছেন, শীঘ্রই এ বিষয়ে সাকর্ুলার জারি করবে অধিদফতর। কর্মচারী সঙ্কটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিৰা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল তাই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শিৰাঙ্গনে। এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক আরও বলেন, এই নিয়োগ কেন্দ্রীয়ভাবে হবে নাকি জেলা পর্যায়ে নিয়োগ কমিটি নিয়োগ দেবে তা ভেবে দেখা হচ্ছে। কারণ কেন্দ্রীয়ভাবে হলে নানা তদ্বিরসহ নানা বিষয় সামনে চলে আসে। জেলা পর্যায়ে নিয়োগ দেয়া হলে কেমন হবে তা ভেবে দেখা হচ্ছে। তবে যাই হোক সরকারী শিৰা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী সঙ্কটের কারণে নানাভাবে শিৰায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই সমস্যার দ্রম্নত সমাধান চায় সরকার। মাউশি সূত্রে জানা গেছে সারাদেশের ৩১৭টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৫৩টি সরকারী কলেজ, ১৮টি সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ১৬টি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট জেলা শিৰা অফিস, শিৰা অধিদফতরের ও এর ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানে এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ১ হাজার ৯৬৫ কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে। যেসব পদে নিয়োগ দেয়া হবে সেগুলোর মধ্যে সহকারী গ্রন্থাগারিক (ক্যাটালগ) ছয় রকম প্রদর্শক, ক্রীড়া শিৰক, ষাট মুদ্রাৰরিত, উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর হিসাব রৰক, স্টোর কিপার এবং এমএলএসএস (নিম্নমান সহকারী) অন্যতম। শিৰা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০৪ সালে সংশিস্নষ্ট শিৰা প্রতিষ্ঠানে সর্বশেষ কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন শূন্যপদে অফিস সহকারী ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার জন্য ২০০৭ সাল থেকে সংস্থাপন (বর্তমানে জনপ্রশাসন) মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু নানা অজুহাতে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। পরবতর্ীতে গত ২৪ নবেম্বর সংস্থাপন মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। এতে বিভিন্ন শর্তানুযায়ী সকল মন্ত্রণালয়/ বিভাগ এবং অধীনস্থ দফতর/অধিদফতর/পরিদফতর/সংস্থা/কার্যালয়ের রাজস্ব খাতে শূন্য পদ পূরণের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হতে ছাড়পত্র গ্রহণ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। ফলে এখন থেকে সংশিস্নষ্ট কর্মচারী নিয়োগ সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে বিভিন্ন শিৰা প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি অফিস সহকারী ও কর্মচারীর পদ শূন্য আছে। শিৰা মন্ত্রণালয় ২০০৭ সালের চাহিদাপত্র বা তথ্যানুযায়ী এক হাজার ৯৬৫ কর্মচারী নিয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে।
এদিকে কেবল কর্মচারী সঙ্কট নয়। আইনের বাসত্মবাযন না থাকায় চরম শিৰক সঙ্কটের মুখে পড়ে আছে দেশের সরকারী কলেজের শিৰা কার্যক্রম। ২৫১টি সরকারী কলেজে পড়ে আছে ৪ হাজার শূন্য পদ। নিয়মের অর্ধেক শিৰকও নেই কোন কলেজে। বিধান অনুসারে ৪৫ শিৰাথর্ীর জন্য একজন তো দূরের কথা অনেক কলেজে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিৰকের বিপরীতে শিৰাথর্ী আছে ১৫ থেকে ৪৫ হাজার। অথচ, বিধান অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারী কলেজে প্রতি ৪৫ জন শিৰাথর্ীর জন্য একজন শিৰক থাকার কথা। কোন বিষয়ে ডিগ্রী (পাস) ও অনার্স থাকলে ১০ জন এবং স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স কোর্স হলে থাকার কথা ১২ জন শিৰক। বিশেষ বিসিএস পরীৰার উদ্যোগ ভেসত্মে যাওয়ার পর এবার শিৰক সঙ্কটে পাঠদান দুঃসাধ্য মনত্মব্য করে সঙ্কট সমাধানের সুপারিশ করেছে শিৰা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।