মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া প্রত্যাখ্যান প্রকৃচির
'প্রশাসনে জটিলতা বাড়বে'
স্টাফ রিপোর্টার ॥ খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন-২০১০ প্রত্যাখান করেছে প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক সমন্বয় কমিটি (প্রকৃচি) নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা থেকে এই তিন পেশার বিশিষ্টজনরা খসড়া আইনটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে কৌশলে বাধাগ্রসত্ম করতে একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আইনটি পাস করার অপচেষ্টা করছে। সব শ্রেণীর পেশাজীবীদের পরামর্শ নিয়ে সিভিল সার্ভিস আইন, ২০১০ পাস করার পরামর্শ দেন তাঁরা। প্রকৃচির পৰ থেকে আলাদা একটি সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয় মতবিনিময় সভায়।
রাজউকের চেয়ারম্যান নূরম্নল হুদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শওকত মমিন শাহজাহান এমপি, প্রকৌশলী ফজলুল আজিম এমপি, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় কমিটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান এমপি, ডা. মোসত্মফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি, কেআইবি সভাপতি অধ্যাপক ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ, মহাসচিব কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, আইইবি সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সবুর, একই সংগঠনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল কাশেম প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএমএ'র সাধারণ সম্পাদক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।
কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শওকত মমিন শাহজাহান এমপি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে স্বাধীনতার পর গুটিকয়েক মানুষের স্বাধীনতার স্বাদ পূরণ হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন-২০১০ দিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের কথা চিনত্মা করে প্রকৃচিকে সিভিল সার্ভিস আইন নিয়ে আলাদা খসড়া প্রসত্মাব পেশ করতে হবে।
প্রকৌশলী ফজলুল আজিম এমপি খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন ২০১০-কে একশ্রেণীর আমালাদের ষড়যন্ত্র উলেস্নখ করে বলেন, খসড়া এই আইনটি পাস হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাবে। আইনটি খসড়া তৈরি করার আগে প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ না করায় ৰোভ প্রকাশ করেন ফজলুল আজিম। তিনি বলেন, সিভিল সার্ভিস আইনের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ আইন পাস করার আগে সরকারের উচিত হবে সংশিস্নষ্ট পেশার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে নেয়া। অন্যথায় আইনটি পরবতর্ীতে অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার মূল কারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় কমিটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কোন পরিকল্পনা সরকার সঠিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারে না। খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন পাস হলে এই জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনত্মব্য করেন তিনি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নিজ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন দিয়ে কোনভাবে প্রশাসনিক জটিলতা দূর হবে না বলে মনত্মব্য করেন ডা. মোসত্মফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি। প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক এই তিন পেশার বিশিষ্টজনদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আলাদা আইনের খসড়া সরকারের কাছে উপস্থাপন করার পরামর্শ দেন সরকারী দলের এই সাংসদ। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। দেশটা এখনও আমলারা পরিচালিত করেন উলেস্নখ করে কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, যতদিন রাজনীতিকদের দ্বারা দেশ পরিচালিত না হবে ততদিন কাঙ্ৰিত লৰ্যে পেঁৗছানো যাবে না। জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব ও ৰমতা কমিয়ে জনকল্যাণমুখী সিভিল সার্ভিস আইন পাস করার পরামর্শ দেন এই কৃষিবিদ। আইইবির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেছেন, প্রকৃচি খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন, ২০১০-কে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ এই আইন দিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই অর্জন সম্ভব নয়। কেআইবি মহাসচিব কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, তড়িঘড়ি করে সিভিল সার্ভিস আইন ২০১০ পাস করা হলে প্রশাসনে কঠিন জটিলতা সৃষ্টি হবে। তাই সরকারের উচিত হবে আরও যাচাইবাছাই করে আইনটি পাস করা।