মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
জুলাইয়ের মধ্যে মাসুল নির্ধারণ
ট্রানজিট
মিজান চৌধুরী ॥ জুলাইয়ের মধ্যে ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট মাসুল নির্ধারণ করা হবে। ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট সংক্রান্ত যে কোর কমিটি করা হয়েছে তারা ট্রানজিটের সম্ভাব্য রম্নট, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এ খাতে ব্যয়সহ বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি করলেও এর অর্থনৈতিক সমীৰাটি এখনও বাকি রয়ে গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগেই কাজটি শেষ করতে চাইছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রম্নহুল আমিন সরকার জানান, অর্থনৈতিক সমীৰা করার জন্য যে উপকমিটি করা হয়েছিল তার প্রধান দেশের বাইরে থাকায় সমীৰাটি এখনও করা সম্ভব হয়নি। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফরের আগেই যাতে এটি সম্পন্ন হয় তার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। জুলাইয়ের মধ্যেই অর্থনৈতিক সমীৰা সম্পন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন।
উলেস্নখ্য, ভারতের সঙ্গে ট্রানজিটের ৰেত্রে ফি নেয়া হবে কি না এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক এখনও চলছে। সর্বশেষ সোমবার ইআরএফের এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী নিশ্চিত করেন যে, ভারতকে ট্রানজিটের বিনিময়ে অবশ্যই ফি দিতে হবে।
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার ট্রানশিপমেন্ট সংক্রানত্ম ৫ ধারা অনুসারে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট সম্পর্কের ৰেত্রে যে কোন ধরনের শুল্ক আরোপের বিধান নেই। সেখানে ট্রানশিপমেন্টকে রাজস্ব আদায়ের হাতিয়ার বিবেচনা না করে বাণিজ্য উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে এটিকে দেখার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে সরকারের নীতিনির্ধারকরা শুরম্ন থেকেই বলে আসছেন যে ট্রানজিটের বিনিময়ে কোন ধরণের শুল্ক আরোপ করা যাবে না।
তবে বিশেস্নষকদের দাবি শুল্ক আরোপ না করা গেলেও ট্রানজিটের বিনিময়ে এমন অনেক ধরনের ফি বা মাসুল আছে যেটি আদায় করার ৰেত্রে কোন ধরনের বাধা নেই। ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমানকে প্রধান করে যে কোর কমিটি করা হয়েছে এবং ওই কোর কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে সরকারের কাছে সেখানেও এসব ফি ও লেভি আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে জলপথে ট্রানজিটের বিপরীতে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের চার্জ যেমন : কনসার্ভেন্সি চার্জ, ল্যান্ডিং এ্যান্ড শিপিং চার্জ, পাইলটেজ চার্জ, ক্যানেল চার্জ, টার্মিনাল হ্যান্ডলিং চার্জ, বার্থিং চার্জ এবং সরকারী ট্যাঙ্, ভ্যাট ও অন্যান লেভি আরোপ করতে পারে বলে উলেস্নখ করা হয়েছে।
কিন্তু এ ফি বা মাসুলের পরিমাণ কত হবে সেটি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ড. গওহর রিজভী বলেন, ট্রানজিটের ৰেত্রে ফির পরিমাণ কত হবে তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য কোথাও নেই। এটি নির্ধারণ করা অত্যনত্ম জটিল একটি বিষয়। এৰেত্রে ধারণার ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারণ হতে পারে বলেও জানান তিনি।