মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
বেপরোয়া বাস-_সড়ক ভবনের সামনে দুই পথচারী নিহত
সিএনজি চাপায় বাবার সামনেই শিশুকন্যার নিথর দেহ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ধানমণ্ডির লেক থেকে এক ব্যক্তির বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার হয়েছে। রমনায় বেপরোয়া দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই পথচারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ১০ যাত্রী। এ ঘটনায় ৰুব্ধ জনতা বাস দুটি ভাংচুর চালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যাত্রাবাড়ীতে পিতার হাত ধরে রাস্তা পার হওয়ার সময় সিএনজির ধাক্কায় ৬ বছরের এক শিশুর মর্মানত্মিক মৃতু্য হয়েছে। উত্তরায় বিদু্যতস্পৃষ্ট হয়ে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পুলিশ ধানম-ি থানাধীন কলাবাগান ক্লাব মাঠসংলগ্ন লেক থেকে অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যক্তির বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে ধানম-ি থানার এসআই জানান, সকালে কলাবাগান ক্লাব মাঠসংলগ্ন ধানম-ি লেক থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির নগ্ন লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃতু্যর ঘটনা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সে কি লেকে গোসল করতে গিয়ে মারা গেছে। নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদনত্মের রিপোর্ট হাতে পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে। তদনত্ম চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যনত্ম কোন মামলা হয়নি।
এদিকে এদিন দুপুর পৌনে ১২টায় রমনা থানাধীন সড়ক ভবনের সামনের মোড়ে চয়েস ট্রান্সপোর্ট নামে একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ ১১-২৬০৩) বেপরোয়া গতিতে ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্ট নামে আরেকটি বাসকে (ঢাকা মেট্রো-জ ১৪-০১৫১) ওভারটেক করছিল। এই দুইটি বাস পালস্না দেয়ার সময় চয়েস ট্রান্সপোর্ট নামে বাসটি অপর বাসটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিল দুই যুবক। পরে ইউনাইটেড পরিবহন বাসটি ওই দুই পথচারীকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃতু্য ঘটে। এতে ওই বাসে থাকা প্রায় ১০ যাত্রী আহত হয়। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাস ২টি ভাংচুর চালায়। এ সময় বিৰুব্ধ জনতা সড়কটি কিছুৰণের জন্য অবরোধ করে রাখে। এতে সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, নিহতেদের বয়স ২০ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে তাদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদনত্মের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রমনা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ীগামী চয়েস পরিবহনের একটি বাস ও একই রম্নটের ইউনাইটেড সার্ভিসের অপর একটি বাসকে ওভারটেক করার সময় দুইটি বাসই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্কের রেলিংয়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এ সময় ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার সময় ওই দুই যুবককে বাসটি চাপা দেয়। পরে দুই যুবকের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাস ২টি আটক করে থানায় আনা হয়েছে। অপর দিকে একইদিন বিকেল ৩টায় আলী উলস্নাহর ৬ বছরের কন্যাসনত্মান জান্নাতুল ফেরদৌস উপমা বাবার হাত ধরে যাত্রাবাড়ী থানাধীন গোলাপবাগ বিশ্বরোডসংলগ্ন মাঠের কাছে রাসত্মা পার হচ্ছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে সিএনজিচালিত অটোরিঙ্া শিশু উপমাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিতার হাত থেকে শিশু উপমা ছিটকে পড়ে রাসত্মায়। পিতার সামনে উপমার নিথর রক্তাক্ত দেহ রাসত্মার ওপর পড়ে থাকে। পুলিশ জানায়, নিহত পিতা আলী উলস্নাহর গোলাপবাগে একটি মুদি দোকান রয়েছে। তিনি গোলাপবাগ এলাকার ২৩/এ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে থাকেন। দুই বোনের মধ্যে নিহত উপমা বড়। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল কাশেম জানান, পরিবারের আবেদনে ময়নাতদনত্ম ছাড়াই শিশু উপমার লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃতু্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু সিএনজিটি দ্রম্নত পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে সোমবার রাতে উত্তরা মডেল থানাধীন ৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর বাড়িতে মিজানুর রহমান (২৭) ইলেক্ট্রিকের কাজ করছিলেন। এ সময় মিজানুর রহমান হঠাৎ বিদু্যতস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃতু্য ঘটে। এ খবর পেয়ে উত্তরা থানার এসআই আতাউর রহমান তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের বাড়ি জামালপুর জেলায়।