মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে উৎসে আয়কর কমল, সুদের হার বাড়ল সঞ্চয়পত্রে
অর্থবিল পাস
সংসদ রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ, রফতানি খাতে উৎসে করহার কমিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০১১ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রেৰিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রসত্মাবিত বাজেটের বেশকিছু খাতে করহার প্রত্যাহার, হ্রাস ও বৃদ্ধি করেছেন।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার্য ফ্ল্যাটের উৎসে আয়কর হ্রাস, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বৃদ্ধি, তামাক রফতানির ওপর শুল্কহার বৃদ্ধি, পোল্ট্রি খাতে কর অবকাশ সুবিধা বৃদ্ধি প্রভৃতি। এর পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডারের সরঞ্জামাদির মূল্য কমিয়ে আনার জন্য সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘোষণাও দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, পোল্ট্রি শিল্প বিকাশের জন্যও মৎস্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসত্মাবিত বাজেটের ওপর সংসদে প্রায় এক মাস ৪৯ ঘণ্টা আলোচনার পর অর্থ বিল পাস করা হয়। আজ জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হবে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে তাদের অর্থ বিলের ওপর দেয়া সংশোধনীগুলো উত্থাপিত হয়নি। একমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কিছুৰেত্রে সংশোধনী দিলেও অর্থমন্ত্রীর আপত্তির কারণে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। তবে সরকারী দলের এ্যাডভোকেট ফজলে রাবি্ব মিয়া, মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ও ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু অর্থ বিলের কয়েকটি ৰেত্রে সংশোধনী দিলে তা গ্রহণ করা হয়।
পরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সরকারের আর্থিক প্রসত্মাবাবলী কার্যকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনকল্পে আনীত 'অর্থ বিল-২০১১' উত্থাপন করলে সংশোধিত আকারে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। অর্থ বিল পাসের পর স্পীকার সংসদের অধিবেশন আজ বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।
অর্থ বিল পাসের আগে বিভিন্ন খাতে কর হ্রাস, বৃদ্ধি ও প্রত্যাহারের প্রসত্মাব করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজস্ব আদায়ের লৰ্য তিন বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা এখন আদায় করছি ১২ শতাংশের কিছু উর্ধে। এটাকে আমরা ২০ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের নীতি হলো আমাদের রাজস্ব আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকেই আহরণ করতে হবে। বিশ্বে উন্নত বাজার ব্যবস্থায় আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। আবার জাতীয় উৎপাদনকেও সুরৰা দিতে হবে। সেদিকটিও বাজেটে বিবেচনা করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, পোল্ট্রি এবং মৎস্য শিল্প নিয়ে বাজেট পেশের পরবর্তীকালে বিশেষ আলোচনার ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়াও কিছু বিষয়ে কর্মসূচী নেব। যেমন রেশম, সবজি ও মৌমাছি। এ ছাড়া বাজেট সংশোধন করে পোল্ট্রি শিল্পকে ২০১৩ সালের জুন পর্যনত্ম কর অবকাশ সুবিধা দিচ্ছি। পোল্ট্রি খাতে ৫ ভাগ করারোপের প্রসত্মাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পোল্ট্রি ফিডের ৭০ ভাগ ভুট্টা ও সয়াবিন। অন্য যেগুলো পোল্ট্রি ফিড রয়েছে সেগুলোর ওপরও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা ৫০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদনের দিকে এগুচ্ছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। আমার বাজেট বক্তৃতায়ও বলেছি। প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল ও স্পেয়ার পার্টসের ওপর সুবিধা দিয়েছি। সিলিন্ডার সংশিস্নষ্টদের সঙ্গেও কথা বলব। আরও কিছু সুবিধা দেয়া যাবে। তিনি বলেন, আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কিন্তু রফতানি প্রবৃদ্ধির পেছনেই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। রফতানির ওপরে উৎসে কর প্রসত্মাবিত ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৭ এবং পোশাক শিল্পের জন্য তা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ করা হলো।
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারের সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে আমরা এই বাজারকে সংহতকরণের পদৰেপ নিয়েছি। অনেক সংস্কার করেছি। আরও করব। সরকারী খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাজারে আসার প্রসত্মাব দিয়েছে। আগে যাদের চেষ্টা করেও পারিনি। গত দু'মাসে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল। ৫ থেকে ৬ হাজারের মধ্যে সূচক রয়েছে। এটা যদি স্থিতিশীল না হয়ে থাকে, তাহলে আমি মনে করি শেয়ারবাজার বোঝার ৰেত্রে গ-গোল রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় যে শিৰা তা হলো যেসব কোম্পানি ঝুঁকিতে পড়বে না। ওসব কোম্পানিতে বিনিয়োগে যাবেন না। সরকারী কর্তব্য বিধিবিধান, আইনকানুন ও তা প্রয়োগ করা। সেগুলো আমরা চেষ্টা করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রেজারি বন্ডে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। তবে প্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করলে ১০ ভাগ কর রেয়াতের সুবিধা পাবে। একই ধরনের সুবিধা দেয়া হয়েছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ৰেত্রেও। অর্থাৎ প্রদর্শিত আয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে রেয়াত পাওয়া যাবে। আর অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অপ্রদর্শিত আয়কে বাজারে আনার অনেক চেষ্টা করেছি। ২০১০ সালে মাত্র ৯২২ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি যাতে কর ফাঁকি বন্ধ হয়। মানুষকে কর প্রদান হয়রানিমুক্ত করতে চাই।
অর্থমন্ত্রী জানান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভিত্তিতে ফ্ল্যাট-বিল্ডিং-স্পেস রেজিস্ট্রেশনের ৰেত্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসাযীদের ওপর উৎসে আয়কর সংগ্রহের হার পরিবর্তন করা হয়েছে। বাজেটে প্রসত্মাবিত ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল এবং দিলকুশায় বাণিজ্যিক ভবনের ৰেত্রে প্রতি বর্গমিটার উৎসে আয়কর ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে আট হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ধানম-ি, লালমাটিয়া, উত্তরা, বসুন্ধরা, ডিওএইচএস, মহাখালী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কাওরানবাজার ও চট্টগ্রামের খুলশি, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদ ও পাঁচলাইশে প্রতি বর্গমিটারে উৎসে কর ১৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৬ হাজার এবং অন্যান্য এলাকার ৰেত্রে এই কর ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিম্নমানের সিগারেটসেবীদের নানাভাবে নিরম্নৎসাহিত করা হচ্ছে। তাই সিগারেটের ওপর আয়কর ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছি। তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিগারেট কোম্পানির ৰেত্রে তা হবে ৩৫ শতাংশ। এতে তামাক সেবন কমানোর লৰ্যের দিকে আমরা অগ্রসর হব। তামাক রফতানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক অব্যাহত রাখছি। তিনি বলেন, ফার্নিচার, মোটরসাইকেল, জাহাজভাঙা শিল্পের ওপর পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রসত্মাবিত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, পিকআপের বহুমাত্রিক ব্যবহারের কারণে শুল্কহার কমানো হয়েছে। পিকআপের ক্যাপাসিটির ওপর নির্ভর করে এক হাজার সিসির ওপর সম্পূরক শুল্ক ছিল না। সেটি প্রসত্মাবিত বাজেটে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে তা প্রত্যাহার করে শূন্য করা হয়েছে। একইভাবে সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি অনুয়ায়ী ৫টি সত্মরে সম্পূরক শুল্ক হার কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। একটি সামাজিক ভ্যালু প্রিমিয়াম দিচ্ছি। পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলনামূলকভাবে বেশি হবে। বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা থাকায় যে বৈষম্য ছিল তা কমবে। তবে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কিছু বাড়ানো হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্র ক্রেতা মাসিক ৯২০ টাকা পেতেন। এখন পাবেন মাসে প্রতি লাখে ৯৬০ টাকা। পেনশনার তিনমাসে প্রতি লাখে পাবেন ২ হাজার ৮১৫ টাকা। ওয়েজ আর্নাস মেয়াদানত্মে পাবে ৫৬ হাজার ২শ' ৫০ টাকা। বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ৪৭ হাজার ২৫০ টাকা পেত, এখন পাবে ৫৫ হাজার। তিন বছরের মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র তিনমাসে পেত ২ হাজার ২৫০ টাকা। এখন পাবে ২ হাজার ৫৭৫ টাকা। পোস্টালে মেয়াদানত্মে পেত ২৭ হাজার টাকা। এখন পাবে ৩০ হাজার ৭৮০ টাকা।
অর্থমন্ত্রী যা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেন, আগামী অর্থবছরের প্রসত্মাবিত বাজেট নিয়ে বিভিন্ন রকম আলোচনা হয়েছে। বাসত্মবায়ন সমস্যা নিয়েও প্রতিবছর আমি আলোচনা করি। এবারেও করছি। বাজেট বাসত্মবায়নের জন্য বিভিন্ন পদৰেপ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে কি ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন তা বলা হয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য একটি 'রিসোর্স এনভেলাপ'ও দিয়েছি। টাকারও অভাব হবে না। মন্ত্রণালয়গুলোকে যথাযথভাবে দিকনির্দেশনা দিলে বাসত্মবায়নেরও সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় এক মাসের মধ্যে তার বার্ষিক কর্মসূচী প্রণয়ন করে তার সংস্থাগুলোকে বলে দিতে হবে। তাহলে শেষ তিন মাসের আগেই এই বাজেটের দুই তৃতীয়াংশ খরচ করা যাবে। বিভাগ থেকে দফতর পরিদফতরে টাকা যায় না। তা যাতে যায় সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। ক্রয় কার্যক্রমে দেরি হয়। বৈদেশিক সাহায্য ব্যবহার করতে পারি না। ক্রয় কাজে আরও মনোযোগী হলে ভাল হবে। তাই আমরা অনলাইনে টেন্ডারিংয়ের সুযোগ করে দিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বৈদেশিক সাহায্য আমাদের প্রচুর জমা হয়ে আছে। ১২ বিলিয়ন ডলার আমরা খরচ করতে পারিনি। এর তিনটি কারণ, প্রথমত আমাদের কার্যক্রম যথাযথ নয়। দ্বিতীয়ত, ওদের যেসব আইন-কানুন আছে সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সীমিত। ওরাও অনেক সময় বিলম্বে কিছু করে। যে কারণে ত্রৈমাসিকভাবে আমরা উন্নয়ন সহযোগীসহ বসে ঠিক করব কতদূর খরচ হতে পারে। আমাদের দৰতাও বেড়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যা আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। বাজেট বক্তৃতার ৪র্থ অধ্যায়ে বাজেট অর্থায়নের বিশদ বিবরণ দেয়া হয়েছে। অভ্যনত্মরীণ অর্থ আদায় করব ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি। বৈদেশিক সাহায্য পাবো ৭ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি রেখেছি ৫ শতাংশ। ২০১০ সালেও রেখেছি ৫ শতাংশ। এ বছরেও রেখেছি। আগামী বছরেও ৫ শতাংশ রেখেছি। তবে বাসত্মবে ৫ শতাংশের কম হবে। আরও লৰণীয় যে, রাজস্ব আদায় বাড়ছে। এ বছরে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কাজেই আগামী বছরে রাজস্ব আদায়ের লৰ্য অর্জিত হবেই।
তিনি বলেন, উৎপাদন, রফতানি, রেমিটেন্স, বিনিয়োগ কমেছে বলে আলোচনা আছে। যা একেবারেই মিথ্যা কথা। কোনটাই কমেনি। বরং রফতানি-আমদানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যা আগে কখনও বাড়েনি। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যদি উচ্চাভিলাষী না দেই, তবে আপনাদের উচিত হতো আমাকে ঝেটিয়ে বিদায় করে দিতে।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, পিপিপিকে যে উদ্দেশে বাজেটে স্থান দেই, তা সফল হয়েছে। আমাকে সকলে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিচালনায় অনেক ঝুঁকি রয়েছে। আমি সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছি। তাদের ধন্যবাদ। মূল্যস্ফীতি আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এটি অনেকটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দুটি ৰেত্রে-খাদ্য ও জ্বালানির কারণে এটি হয়েছে। আমরা যখন ৰমতায় আসি তখন জ্বালানি ছিল ৫৯ ডলার, এখন যা ১শ'র বেশি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা গরিব জনগণকে দেখা। তাদের ক্রয়ৰমতার মধ্যে খাদ্যসামগ্রীর মূল্য ধরে রাখা। রেমিটেন্স কমেনি। এ বছরে প্রায় ৫ লাখ জনশক্তি রফতানি করতে সৰম হবো। আগামী বছরে রফতানি-আমদানি চলতি বছরের মতো ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ত হবে না, তবে সেটি আমাদের লৰণীয় রয়েছে। টাকা ও ডলারের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনত্মর্জাতিকভাবে ডলারের দাম বেড়েছে। সেটি আমাদের জন্য ভাল। আমদানি-রফতানির হিসাব করলে ডলারের দাম ব্যালেন্স হয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কয়লানীতি ডিসেম্বরের মধ্যে করার কথা বলছি। কয়লানীতির জন্য কয়লাভিত্তিক বিদু্যত কেন্দ্রের কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। ইতোমধ্যে কয়লার ওপর ভিত্তি করে বিদু্যত উৎপাদনে সমীৰা চালিয়েছি। ২০১৫ সালের মধ্যে হয়ত আমরা কয়লাভিত্তিক বিদু্যত পাবো। বাজেটে এ বিষয়ে আমি পথ নকশা দিয়েছি এবং সে অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিদু্যতের জন্য এবারে আমাদের খরচ বেড়েছে। তবে ৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে দেড় হাজার মেগাওয়াট ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। বিদু্যতে ক্রমান্বয়ে দাম বাড়ানোর যে প্রসত্মাব দিয়েছি তাতে অনেকেই বলেছে যে ফতুর হয়ে যাবে। যা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, কৃষি বরাদ্দ কমেছে, তাতে আমি শঙ্কিত নই। তবে কৃষির জন্য যখনি কোন কিছু চাওয়া হয় তা আমরা গুরম্নত্ব দেই। মানবসম্পদ খাতের কিছু অংশ শিৰা খাতে ব্যয়ের প্রসত্মাব করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন গ্রামে ডাক্তারদের নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ব্যবস্থা তিনি চান। তাই নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে। সে উদ্যোগও ঘোষণা করেছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এবারে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশে বিশেষ গুরম্নত্ব দিয়েছি। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। তবে আমি কথা বলেছি, আশা করি ভাল পদৰেপ নিতে পারব। ভূমি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের শিল্পায়নের জমি নেই। কৃষি জমি চলে যাচ্ছে আবাসনের জন্য। তাই আমরা এ বছরে এসব সমাধানে কিছু ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।