মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
অপ্রদর্শিত আয় আসছে শেয়ারবাজারে
বাজেটের ওপর প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী ভাষণ
সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা কারোর কথায় না ভুলে কিছু বলার থাকলে সংসদে এসে উপস্থাপনের জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পরও আপনারা যদি কোন ন্যায্য কথা বলেন, আমরা তা বিবেচনা করব। তাই কারোর কথায় ভুলে গণতন্ত্রকে বিপদের দিকে ঠেলে দেবেন না। ফাঁক গলিয়ে কেউ এসে নাক গলাবে, কোন অনির্বাচিতরা এসে আবারও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে, সেই সুযোগ আর কাউকে দেব না। যা করার জনগণের প্রতিনিধিরাই করবে, জাতীয় সংসদই করবে। অন্য কেউ নয়।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে সোয়া ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তৃতায় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিসের আশায় বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছেন তা জানি না। তিনি কি ভুলে গেছেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে জেল খাটিয়েছেন, দুই ছেলেকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে কিভাবে দেশছাড়া করেছে? কিসের আশায় আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছেন? আমরা কী আবারও গণতন্ত্রের ধ্বংসের সুযোগ করে দেব? আমরা কী ওই শ্রেণীকে আবারও সুযোগ দেব? তারা ঘোঁট পাকাবে, অপকর্ম ও ষড়যন্ত্র করবে? তা আমরা আর হতে দেব না। যা কিছু করার তা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই করবে। যা কিছু হবে তা সব সংসদেই হবে।
তিনি বলেন, অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। সেটাই বলবত থাকবে। জনগণের প্রতিনিধিরাই থাকবে। কারণ জনগণের প্রতিনিধি মানেই জনগণের ৰমতায়ন। যা করবে, সংসদ করবে। জনগণের প্রতিনিধিরাই এখানে থাকবে। কেউ এস নাক গলাবে তা হতে দেব না। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির জন্ম হয়নি, হয়েছে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। তাই বিরোধীদলীয় নেত্রী গণতন্ত্রের ভাষা একটু কম বোঝেন। তবে বাসত্মবতা বুঝে তিনি (খালেদা জিয়া) যত তাড়াতাড়ি জনগণের ভাষা শুনবেন ততই দেশের মঙ্গল। আদালতের রায় মেনে যে কোন বিষয়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি। আর এটা করতে হলে তো বিরোধী দলকে সংসদে আসতে হবে।
পুঁজিবাজারকে স্বাভাবিক করতে এখানে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রসত্মাব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শেয়াবাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার অনেক পদৰেপ নিয়েছে। তবে শেয়ার কারসাজির ঘটনায় বিএনপি জড়িত উলেস্নখ করে তিনি বলেন, অনেক ব্রোকারেজ হাউসের মালিক বিএনপির সমর্থক। এরা বিনিয়োগকারীদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বিরোধী দল হরতাল ডাকলেই শেয়ারবাজারে ধস নামানো হয়। এতে মনে হয়, একটি অপরটির সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হুজুগে নয়, যাচাই-বাছাই ও জেনেশুনেই আগামীতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবেন।
স্পীকার এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সকাল ১১টা থেকে প্রসত্মাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরম্ন হয়। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুবিধাসহ বেশকিছু স্পর্শকাতর স্থানে কর কমানোর প্রসত্মাব করেন।
শেখ হাসিনা বিদেশের আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র ও তাঁর মন্ত্রীর ঘুষ কেলেঙ্কারির কথা উলেস্নখ করে বলেন, যা কিছুই ঘটে তার জন্য সরকার দায়ী, এই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে কেউ যুক্ত হলে অবশ্যই তাকে শাসত্মি পেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালত সিমেন্স কোম্পানির কাছে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বিরোধী দলের নেতার পরিবার জড়িত বলে প্রমাণ হয়। এফবিআইয়ের তদনত্মে তাদের নামও বের হয়, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে সেই ঘুষের টাকা গচ্ছিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, চায়না হার্বালের কাছ থেকেও ঘুষ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জোট সরকারের আমলের এক মন্ত্রী নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন, এটি কানাডার একটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘুষ-দুর্নীতিতে যারা জড়িত এসব ধরা পড়ছে দেশে নয়, আনত্মর্জাতিক আদালতে। আনত্মর্জাতিক আদালতে নাম এলে দেশের আদালতে তার বিচার হবে, এটাই স্বাভাবিক। আনত্মর্জাতিক আদালতে কেউ দোষী সাব্যসত্ম হলে আমরা কিভাবে দায়ী হই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এখানে আমাদের অপরাধ কী? বিএনপির নেতারাও জানেন বিরোধীদলীয় নেত্রীর পুত্র ও মন্ত্রীরা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত। তাই রায় ঘোষণার আগেই ব্যানার বানিয়ে আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। চুরি করবে তারা, আর আমরা চোর ধরতে পারব না, এটা কেমন কথা? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত, তাদের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই চোর ধরে দিলে আমাদের দোষ কোথায়?
বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ছেলেদের চোর বানিয়েছেন কেন? ছেলেদের চুরি করার শিৰা দিলেন কেন? রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় পড়াশোনা করে তারা কী শিৰা নিল? সরকারে থেকে সরকারী টাকা চুরি করা ও ঘুষ নেয়া? তিনি বলেন, শুধু ঘুষ-দুর্নীতিই নয়, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, ঘুষ-দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ সবকিছুর সঙ্গেই জড়িত বিএনপি-জামায়াত জোটের মন্ত্রী-নেতারা। আজ প্রমাণ হচ্ছে, আগামীতে আরও প্রমাণ হবে। এ নিয়ে আমাদের ওপর অযথা গোস্বা করে কী লাভ?
গত তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন টার্ম তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রেখে তিন জোটের রূপরেখার সঙ্গে বিএনপিই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। '৯৬-এ হয়েছিল সামরিক কু্য, আর ২০০১ সালে হলো বেসামরিক কু্য। এরপর দলীয় এক লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করতে বিএনপির বিচারপতিদের বয়স বাড়াল, এক কোটি ভুয়া ভোটার তালিকা ও বিতর্কিত এক ব্যক্তিকে সিইসি করে প্রহসনের নির্বাচন করার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেয়নি। আসল ওয়ান ইলেভেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আকাঙ্ৰা নিয়ে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছিলাম, তা কখনও বাসত্মবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের নিয়ে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ১৫ ফেব্রম্নয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে বিএনপি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা করেছিল, তাতে অনেক যে ত্রম্নটি ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পর আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের পরিবর্তে দুই বছর থাকল। তারা দশ বছর ৰমতায় থাকতে চেয়েছিল। যারা সংবিধান প্রণয়নের দাবিদার, তারাই ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দু'বছর ৰমতায় রেখেছিল।
তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর অনেক রকম খেলা শুরম্ন হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্টাটাস দেয়া হবে, বাড়ি-গাড়ি আরাপ-আয়েশে থাকবেন- এমন অনেক অফার আমাকে দেয়া হয়েছিল। আমি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছি, আমি কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। আমি চাই নির্বাচন। আর আমাদের সেই কঠোর অবস্থানের কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছে।
বিএনপির কালো টাকা সাদা করার বিরোধিতা হাস্যকর উলেস্নখ করে সংসদ নেতা বলেন, কালো টাকার ব্যাপারে বিরোধী দল দেখছি এখন অনেক সিরিয়াস! যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া), অর্থমন্ত্রী ও ছেলেরা জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করছেন, এখন কেন তাদের চেতনার উদয় হলো জানি না। তিনি বলেন, জনগণের কাছে বিএনপির চেহারা স্পষ্ট। তাদের কোন নীতি-আদর্শ নেই, ঘুষ-দুর্নীতি-লুণ্ঠন আর মানুষ হত্যা করাই তাদের নীতি। দেশের কল্যাণ নয়, তারা সবসময়ই দেশের অকল্যাণ চায়।
সংবিধান সংশোধন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বহুবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। বিএনপি আমলে ছয়বার, জাতীয় পার্টির আমলে চার বার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। আমরা যেভাবে সংবিধান সংশোধন করছি, অতীতে কেউ এমন ধৈর্য ধরে সংশোধন করেনি, তড়িঘড়ি করেই করেছে। দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, সুশীল সমাজ, সংবিধান প্রণেতা, সাবেক প্রধান বিচারপতি, সম্পাদকসহ অনেকের সঙ্গে মতামত গ্রহণ করার পর সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোন প্রসত্মাব বা আপত্তি থাকলে সংসদে দিলে আমরা শুনতে রাজি। কিন্তু বিরোধী দল আইন মানে না, আদালতের রায় মানে না, সংসদ-সংবিধান কিছুই মানে না। গতবার নির্বাচনে হারার পর খালেদা জিয়া অভিযোগ করলেন নির্বাচন নাকি অবাধ ও নিরপেৰ হয়নি! যদি নির্বাচন নিরপেৰ না-ই হয় তবে কেন আবার কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছেন? ২০০৮ সালের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন, আবার সেই তত্ত্বাবধায়ক চান। এটি চাওয়ার আগে আপনাকে (খালেদা জিয়া) বলা উচিত ছিল, গত নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমালোচকরা বলেন, এটা নাকি ঘাটতির বাজেট। বাজেট ঘাটতি নতুন কিছু নয়, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই ঘাটতি বাজেট দেয়া হয়। ঘাটতি বাজেট দিলেই তা বাসত্মবায়ন হবে না, এ ধারণা ঠিক নয়। তিনি বলেন, গত বাজেটে দেয়ার সময়ও অনেকেই বলেছিল, এ মন্ত্রী ততটা স্মার্ট ও গতিশীল নয়, তাই বাজেট বাসত্মবায়ন করতে পারবে না। কিন্তু আমরা তা ভুল প্রমাণ করেছি। আমার মন্ত্রীরা দুর্নীতিতে স্মার্ট না হলেও কাজে যথেষ্টই স্মার্ট। গত বাজেটের এডিপি ৯৩ ভাগ বাসত্মবায়ন করেছি, আগামীতেও করব ইনশালস্নাহ্।
বিশ্ব মহামন্দার কথা উলেস্নখ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামন্দা ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির মধ্যে আমরা ৰমতা গ্রহণ করি। এর পরও চেষ্টা করে যাচ্ছি দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে আমরা মানুষের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি, জনগণের ক্রয়ৰমতা বেড়েছে। ব্যাপক কর্মসংস্থানও বেড়েছে। শহর-গ্রামে প্রায় ১০ ভাগ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। খাদ্যেমূল্যের উর্ধগতির মোকাবেলা করতে প্রয়োজনে উন্নয়ন কর্মকা- বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে মানুষকে খাওয়াব। নানা কর্মসূচী ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের কাছে খাদ্য পেঁৗছে দিচ্ছি। বিদেশ থেকে দ্বিগুণ দাম দিয়ে খাদ্যদ্রব্য কিনে অর্ধেক দামে মানুষের মাঝে খাদ্য দিচ্ছি।
খাদ্যশস্যর জন্য আর যাতে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে না হয় সেজন্য কৃষি উৎপাদনে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। মহামন্দার কারণে অনেক উন্নত বিশ্ব প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে না পারলেও আমরা ৬ দশমিক ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি। আগামীতে ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সৰম হব ইনশালস্নাহ্।
দুই বছরে ৩১টি বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ করেছি, যার থেকে মাত্র আড়াই বছরে ১ হাজার ২২ মেগাওয়াট নতুন বিদু্যত সংযোগ দিয়েছি। আরও ২৬টি বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। তা থেকে আরও তিন হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট বিদু্যত জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। এছাড়া আরও ২৪টি বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য আনত্মর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের কোন সরকার মাত্র আড়াই বছরে এতো বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি। আমরা পেরেছি তার একটাই কারণ হচ্ছে আমরা কমিশন বা দুর্নীতি করতে ৰমতায় আসিনি। আমরা নিজের দিকে দেখি না, জনগণের দিকে দেখি। তাই দ্রম্নততার সঙ্গে সবকিছু বাসত্মবায়ন করতে পারছি।
চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপ এক বছরের পরিবর্তে দু'বছর করার প্রসত্মাব করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে এক বছর নয় দু'বছর ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এক বছর নিজ কলেজে, অন্য বছর নিজ গ্রামে থেকে চিকিৎসকদের চিকিৎসা না দিলে সার্টিফিকেট পাবে না। এটা করতে অনেক অর্থ ব্যয় হলেও অনত্মত এক বছর গ্রামের মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সারাবিশ্বে এতদিন বাংলাদেশ মানে ছিল দুর্নীতিবাজ, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসীদের দেশ। কিন্তু মহাজোট সরকারের আড়াই বছরে সেই দুর্নাম ঘোচাতে আমরা সৰম হয়েছি। দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, মাতৃ ও শিশু মৃতু্যহার হ্রাস এবং উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাছে উন্নয়নের রোল মডেলের দেশ হিসেবে পরিচিত পাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ সম্ভাবনার দেশ। সারাবিশ্বেই আজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আরও এগিয়ে যাবে ইনশালস্নাহ্।