মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
সংবিধান সংশোধন বিল ॥ পাস হচ্ছে দ্রুততম সময়ে
আজই উত্থাপন হচ্ছে
সংসদ রিপোর্টার ॥ বহুল আলোচিত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিল পাসের সমস্ত আয়োজন চূড়ান্ত। ইতোমধ্যে বিল পর্যালোচনা শেষে স্থায়ী কমিটি তাদের রিপোর্ট চূড়ান্ত করে ছাপার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। রিপোর্ট চূড়ান্ত করার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন কমিটির কো- চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে বিলটি পাসের জন্য ইতোমধ্যে রিহার্সেলও অনুষ্ঠিত হয়েছে সংসদে। আজ বুধবার রিপোর্টটি সংসদে উত্থাপিত হবে এবং খুব দ্রুততার সঙ্গেই বিলটি সংসদে পাস হবে বলে জানা গেছে।
অনেকটা দ্রম্নততার সঙ্গেই চূড়ান্ত করা হলো বহুল আলোচিত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিলের ওপর সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট। রিপোর্ট চূড়ান্ত করার জন্য সংসদ থেকে ১৫ দিনের সময় দেয়া হলেও মাত্র তিন দিনের মাথায় মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটি বৈঠক করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। জাতীয় নির্বাচনকালীন জটিলতা এড়াতে নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে একটি নতুন উপ-দফা এবং সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন পূর্বে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রহিত করতে নতুন দুটি দফা সংযুক্ত করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন বিলের রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত নতুন এ উপ-দফায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য না শুনে নির্বাচনী মেয়াদে অর্থাৎ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলের গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যনত্ম আদালত নির্বাচন সংক্রানত্ম একতরফা কোন রায় দিতে পারবে না।
তড়িঘড়ি করে কেন স্পর্শকাতর বিলটি পাস করা হচ্ছে এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশেস্নষণ। সরকার রাজনৈতিক কৌশল থেকেই দ্রম্নততম সময়ে বিলটি পাসের মাধ্যমে বিরোধী দলকে চাপের মুখে ফেলতে চাইছে, নানা পৰ থেকেই এসব বলাবলি হচ্ছে। তবে সরকারী দলের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের শুরম্ন থেকে এ পর্যনত্ম অসংখ্যবার বিরোধী দলকে সংসদে বা কমিটিতে এসে তাদের মতামত তুলে ধরার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। 'সমঝোতার পথ' উন্মুক্ত রেখেই বিশেষ কমিটি সংসদে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। এ অবস্থায় শাসক দল আশা করেছিল, বিল আকারে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সংসদে উপস্থাপনের পর বিরোধী দল থেকে কোন না কোন ফর্মে আলোচনা বা সমঝোতার জন্য প্রসত্মাব দেয়া হবে। কিন্তু বিরোধী পৰ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ার কারণেই সরকার আর বিলম্ব না করে বিলটি পাস করার সিদ্ধানত্ম নিয়েছে বলেই সূত্রগুলোর দাবি।
তবে এ বিলটি পাসের ফলে বিরোধী দলের সঙ্গে সকল ধরনের সংলাপ বা সমঝোতার সম্ভাবনা রম্নদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এমনটা মনে করছেন না সরকারী দলের নীতিনির্ধারকরা। শুধু সরকার কিংবা বিরোধী দলের নীতিনির্ধারকরাই নন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশেস্নষকরাও নিশ্চিত, উভয়পৰ সমঝোতায় রাজি হলে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যে কোন সিদ্ধানত্ম পুনর্বার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অনত্মভর্ুক্ত করার পথ উন্মুক্ত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সদ্যবিলুপ্ত সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আগামী নির্বাচনের এখনও আড়াই বছর সময় রয়েছে। সংবিধান সংশোধন বিল পাস হয়ে গেলেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে না। বিরোধী দল সংসদে প্রসত্মাব দিলে তা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রয়োজনে যতবার ইচ্ছা ততবার সংবিধান সংশোধন করা হবে। আইন করা হবে, বিধি করা হবে। এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টির কোন সুযোগ নেই। তবে সংসদে না এসে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে কোন সমস্যার সমাধান হবে না।
সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট চূড়ানত্ম সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন-২০১১ রিপোর্ট চূড়ানত্ম করতে তিনটি উপ-দফা অনত্মভর্ুক্ত করার বিষয়ে বৈঠকের পর আইন, বিচার, সংসদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সাৰাত করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সচিব আশফাক হামিদ উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের পর চূড়ানত্ম রিপোর্টটি প্রতিবেদন আকারে ছাপানোর জন্য প্রেসে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার বাজেট পাসের দিন সংসদে বিলটি সংশোধিত আকারে উপস্থাপন এবং আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার প্রতিবেদন চূড়ানত্ম করার আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠকে আহ্বান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে। বিলের প্রতিটি অনুচ্ছেদ চুলচেরা বিশেস্নষণ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বহুল আলোচিত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিলের রিপোর্ট চূড়ানত্ম করে।
চূড়ানত্ম রিপোর্টে 'অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকার' ব্যবস্থার কোন বিষয় উলেস্নখ থাকছে না। তবে সরকারের মেয়াদকালে শেষ ৯০ দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ কারণে সরকারের শেষ তিন মাসে জাতীয় নির্বাচনের সময় সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা এড়াতে নতুন একটি উপদফা যুক্ত করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সবের্াচ্চ ৬০ দিনের বিরতিতে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নতুন উপ-দফা সংযুক্ত করে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠনের পরিবর্তে ইসি তিন সদস্যের কমিশন গঠনের পূর্বের বিধান বহাল রাখার প্রসত্মাব দিলেও তা গৃহীত হয়নি। অর্থাৎ উত্থাপিত সংবিধান সংশোধন বিল অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার কমিশনারসহ পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রসত্মাবই বহাল থাকছে চূড়ানত্ম রিপোর্টে।
বিলের রিপোর্ট চূড়ানত্ম করতে কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা ও কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনকালীন নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে ইসির তিনটি প্রসত্মাবের মধ্যে দুটি প্রসত্মাব গ্রহণে একমত পোষণ করেন সংসদীয় কমিটি। বৈঠক থেকে বেরিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিইসি শামসুল হুদা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ইসির প্রসত্মাবে একজন নারীসহ মোট ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন নিয়োগের ব্যাপারে ইসির পৰ থেকে বলা হয়েছে। এছাড়া 'নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফল ঘোষণা পর্যনত্ম আদালত এ সংক্রানত্ম কোন শুনানি গ্রহণ করতে পারবে না'_ ইসির এমন প্রসত্মাবেও সহমত পোষণ করেছেন কমিটির সদস্যরা। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে একাধিক আসনে একই ব্যক্তির নির্বাচন ঠেকাতে যে প্রসত্মাব দেয়া হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর বিরম্নদ্ধাচরণের কারণে তা প্রত্যাহারের কথাও জানিয়েছেন সিইসি।
এদিকে বিশেষ কমিটির উপেৰা ও স্থায়ী কমিটির প্রসত্মাব গ্রহণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি শামসুল হুদা বলেন, বিশেষ কমিটির সঙ্গে ইসির চিঠি চালাচালি হলেও কোন আলোচনা হয়নি। এ কারণে ওই কমিটি হয়ত আমাদের প্রসত্মাবগুলোর যৌক্তিকতা বুঝতে পারেনি। এবার স্থায়ী কমিটির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হওয়ায় বিষয়গুলো তারা বুঝতে পেরেছেন।
এ প্রসঙ্গে কমিটির কো- চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ইসির দুটি প্রসত্মাব গ্রহণের ব্যাপারে আমরা নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছি। কমিটির রিপোর্ট চূড়ানত্ম করা হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সরকারের শেষ ৯০ দিন সময়কে 'অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকার' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকারের মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন বসবে না। এ সংক্রানত্ম একটি উপ-দফা প্রসত্মাবিত বিলে যুক্ত হবে। এছাড়া সংসদের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফল গেজেট আকারে প্রকাশ পর্যনত্ম নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধানত্মের বিষয়ে কোন ব্যক্তি উচ্চ আদালতে প্রশ্ন তুলতে পারবে না_ এ বিষয়ক অন্য দফা যোগ হচ্ছে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিলের প্রতিবেদন পেশের পরও কেউ যদি সংশোধনী দিতে চায় তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে সংসদে। সংসদ তা গ্রহণ করতে পারে, নাও করতে পারে।
অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকারের ব্যাখ্যা ও দায়িত্ব মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করার বিধান বাংলাদেশে এবারই প্রথম নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান বাহাত্তরে প্রণীত হলেও মেয়াদ শেষের আগের তিন মাসে কোন সংসদ নির্বাচনই হতে পারেনি। তাই এবার বিলের প্রসত্মাব অনুসারে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে তা হবে এ পদ্ধতিতে দেশের প্রথম নির্বাচন।
এ প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, অনত্মর্বতীকালীন এ সরকার ব্যবস্থা বাহাত্তরের সংবিধানেই আমাদের ফাউন্ডার ফাদাররা রেখে গেছেন। এটি বলবত আছেই। সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ পর্যনত্ম অনত্মর্বতর্ী সরকারের উলেস্নখ রয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচন করার অধিকার নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়েছে। সেই ইসিকে সকলকেই সহায়তা করতে হবে। প্রয়োজনে ইসি যা চাইবেন রাষ্ট্রপতি সে সাহায্যই করবেন।
অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, নির্বাচনের সময় যে সরকারই থাকে, সে সরকারই অনত্মর্বর্তী হয়ে যায়। ওই সরকারের সংশিস্নষ্ট মন্ত্রীরা নির্বাচন করতে পারবে। সুরঞ্জিত বলেন, ইসি নির্বাচন পরিচালনা করবে। সে সময় যে সরকার থাকে তারা রম্নটিন মাফিক কাজ করবে। দৈনন্দিন কাজের বাইরে সে সরকার কোন নীতিনির্ধারণ করতে পারবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতসহ সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় এ বিধানই রয়েছে। এরপরও এ কাজ করার জন্য যদি অন্য কোন আইনের প্রয়োজন হয়, কোন কোড অব কন্ডাক্ট করার প্রয়োজন হলে সেটি করা যাবে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরম্ন জনকণ্ঠকে বলেন, শেষ তিন মাসে সংসদ বহাল থাকলেও সরকার রম্নটিন কাজের বাইরে আইন প্রণয়ন, প্রকল্প গ্রহণ বা কোন নথিতে স্বাৰর করতে পারবে না। সমসত্ম কিছু পরিচালনা হবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে। সে হিসাবে প্রশাসনের ওপর সরকারের কোন প্রভাব থাকবে না। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও সব ৰমতা নির্বাচন কমিশনের থাকবে বলে নিরপেৰ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোন পৰপাতিত্ব্বের অভিযোগ আসবে না।
চূড়ানত্ম রিপোর্টে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তসহ সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববতী নব্বই দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং এই সময়ে সরকার এবং সংসদের ৰমতা সীমিত করে দেয়ার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে বিলে। এখানে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর মেয়াদী সরকার শেষ তিন মাসে এসে শুধুমাত্র রম্নটিন কাজ করবে। নির্বাচন সংশিস্নষ্ট সব কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। মেয়াদ শেষ হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন হলেও বিদ্যমান সরকারই পাঁচ বছর মেয়াদ পর্যনত্ম ৰমতায় থাকবে। এরপর নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ উপ-ধারা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যে কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নূ্যনতম একবারের জন্য হলেও সংসদ অধিবেশন আহ্বানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটা থাকলে জাতীয় নির্বাচন বিঘি্নত বা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এসব ভাবনা থেকেই সংবিধান সংশোধনী বিলে বেশ কিছু পরিবর্তন, সংশোধন ও সংযোজনী আনার প্রসত্মাব করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সুপারিশে সরকারের মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিন আগে অর্থাৎ নির্বাচনী সময়ে অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রহিত করার কথা বলা হয়েছে।