মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৭
আজ সেই বিডিআর হত্যা দিবস
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ সেই ভয়াল ও বীভৎস বিডিআর হত্যা দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কিত ভয়ঙ্কর দিন। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের ইতোমধ্যে দুই বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু এই দুই বছরেও কথিত বিদ্রোহের নামে রক্তাক্ত পিলখানা বীভৎস পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের দুঃসহ স্মৃতি মন থেকে মুছতে পারেনি কেউ।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে নজিরবিহীন নৃশংস ঘটনা ঘটে। বিডিআরের বিদ্রোহী জওয়ানরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যা করে ৫৬ সেনা কর্মকর্তাকে। পিলখানার এই নারকীয় ঘটনার খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন বিডিআর দফতরে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিডিআররা হামলার ভয়ে প্রসত্মত থাকে। পরদিন ২৬ ফেব্রম্নয়ারি দুপুর পর্যনত্ম এ অবস্থা অব্যাহত থাকে। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। দুই দিনের বিভীষিকা থামিয়ে অস্ত্র সমর্পণ করে বিদ্রোহীরা। এরপর থেকে জাতির বাকরম্নদ্ধ হওয়ার পালা। পাষ- বিদ্রোহীরা প্রায় দুই দিন ধরে বিডিআরে প্রেষণে কর্মরত মহাপরিচালকসহ ৫৬ সেনা কর্মকর্তা, র্যাবে কর্মরত একজন সেনা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাকর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রী, বিডিআরের মহাপরিচালকের স্ত্রী, বিডিআরের আট সদস্য এবং পিলখানার ভেতরে দু'জন এবং বাইরে চারজন বেসামরিক লোকসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। তাঁদের কারও কারও লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেয়, অন্যদের গণকবর, এমনকি মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলারও চেষ্টা করে তারা। সেনা কর্মকর্তাদের বাসায় ভাংচুর, লুটপাট, অগি্নসংযোগ, নির্যাতনের মতো নৃশংস সকল ঘটনা একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকে।
এদিকে ২৫ ফেব্রম্নয়ারি ঘটনার শুরম্ন থেকে অত্যনত্ম বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মাত্র দুই দিনের মধ্যে আরও বড় বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সৰম হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার। বিরামহীনভাবে টানা দুই দিন তিন বাহিনী প্রধানসহ সংশিস্নষ্ট সকলের পরামর্শ নিয়ে এবং প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড় পর্যবেৰণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। আটকেপড়া সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারবর্গকে উদ্ধার করতে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য সরকারবিরোধীদের ক্রমাগত চাপের মুখেও অপেৰাকৃত শানত্মিপূর্ণ সমাধানের প্রতি অটল ছিলেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের উদ্দেশে টেলিভিশনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ 'জাদুমন্ত্রের' মতো কাজ করে। এ ভাষণের পর মনোবল ভেঙ্গে যায় বিদ্রোহীদের। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের দফায় দফায় বৈঠকও দ্রুতগতিতে বয়ে আনে ইতিবাচক ফল। কোন সেনা অভিযান ছাড়াই বিডিআর জওয়ানদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে রক্তৰয়ী বিডিআর বিদ্রোহের। একই সঙ্গে পরিসমাপ্তি ঘটে আরও জানমালের ৰয়ৰতির আশঙ্কা।
এ ঘটনার পর দেখা দেয় সেনানিবাসে উত্তেজনা। নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধৈর্যের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের নানা ৰোভ ও দাবিদাওয়ার কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বসেই পলাতক বিডিআর সদস্যদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান 'অপারেশন রেবেল হান্ট' এ সেনা সদস্য অনত্মর্ভুক্ত করা, সেনা আইনে দোষীদের বিচার, বিডিআর পুনর্গঠনসহ নানা বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। গঠন করা হয় আলাদা দু'টি তদনত্ম কমিটি।
এদিকে ২৫ ফেব্রম্নয়ারি বিডিআর পিলখানায় সংগঠিত বর্বরোচিত হত্যাকা-ে নিহত সেনাসদস্যদের শাহাদাত বার্ষিকী পালন উপলৰে বেশকিছু কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রী, তিনবাহিনীর প্রধানগণ ও বিডিআরের মহাপরিচালক কর্তৃক শহীদদের কবরে পুষ্পসত্মবক অর্পণ, সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জুমা মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত।