মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৭
নিষ্প্রাণ সংসদেও স্বতন্ত্র সদস্যের ওয়াকআউট, কথা বলতে না দেয়ার প্রতিবাদ
সংসদ রিপোর্টার ॥ বিরোধী দলবিহীন নিষপ্রাণ সংসদে বৃহস্পতিবার কিছু সময়ের জন্য হলেও উত্তাপ ছড়ান একমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলতে না পারার প্রতিবাদে নবম জাতীয় সংসদে এই প্রথম তিনি সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। ওয়াকআউটের সময় ফজলুল আজিমের উদ্দেশ্য ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী বলেন, 'ফ্লোর পেয়ে আপনি অনন্তকাল কথা বলবেন এটা হতে পারে না।'
এদিকে লিবিয়া ও সোমালিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সর্বশেষ অবস্থা কী তা নিয়ে সরকার থেকে কোন সংসদে বক্তব্য না আসায় ৰোভ প্রকাশ করে বলেন, "আল্লাহ'র ওয়াস্তে লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের ব্যাপারে পরিপূর্ণ বিবৃতি দিন। সংসদকে জানান সেখানে কী হচ্ছে?"
মাগরিবের নামাজের বিরতীর পর ৭১ বিধিতে দুই মিনিটের আলোচনা শেষে জাসদের কার্যকরী সভাপতি সংসদ সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল পয়েন্ট অব অর্ডারে লিবিয়াতে বাংলাদেশীদের অবস্থা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিপূর্ণ বিবৃতি দাবি করে বক্তব্য রাখেন। এরপর একই ইসু্যতে কথা বলতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিম পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে চান।
স্পীকার তাঁকে ফ্লোর দিলে তিনি বৃহস্পতিবার সংসদের বেসরকারী দিবস উলেস্নখ করে বলেন, "এইদিন আমরা সময় নিয়ে কথা বলব। সরকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আসি। কিন্তু চলতি নবম জাতীয় সংসদে দেখছি বৃহস্পতিবারের প্রায়ই ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা সংসদে অনুপস্থিত থাকেন। আজ (গতকাল) ট্রেজারি বেঞ্চে একজন মাত্র সদস্য উপস্থিত রয়েছেন।
ফজলুল আজিম তাঁর পয়েন্ট অব অর্ডারের মূল বক্তব্য শুরম্ন করার আগেই চীফ হুইপ ফ্লোরের জন্য দাঁড়ালে ডেপুটি স্পীকার ফজলুল আজিমকে বসতে বলেন। তখন ফজলুল আজিম বলেন, "মাননীয় স্পীকার, পয়েন্ট অব অর্ডার তুললে যদি কথা বলতে আপত্তি জানান, তাহলে কথা বলব না।" এ সময় স্পীকার মাইক বন্ধ করে দেন এবং চীফ হুইপকে ফ্লোর দেন।
চীফ হুইপ ফ্লোর পেয়ে ফজলুল আজিমের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বেসরকারী দিবসে সরকারী দলের কোন কার্যসূচী থাকে না। এখানে সরকারী দলের আসনগুলো খালি এটা বলার কোন সুযোগ নেই। বেসরকারী দিবস বলেই সরকারকে নিয়ে কথা বলবেন এটার কোন কারণ দেখি না। যেসব মন্ত্রীর কার্যক্রম রয়েছে তারা তো সংসদে উপস্থিত রয়েছেন। পরে চীফ হুইপ নির্ধারিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে স্পীকারকে অনুরোধ করে বসে পড়েন।
চীফ হুইপের বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ ফজলুল আজিম আবারও ফ্লোর চান। তখন স্পীকার ফ্লোর না দিয়ে বলেন, "আপনাকে ফ্লোর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আপনি ফ্লোর নিয়ে অননত্মকাল কথা বলবেন তা হতে পারে না।" এ সময় ফজলুল আজিম স্পীকারকে উদ্দেশ্য করে মাইক ছাড়াই বলেন, "চীফ হুইপ যেভাবে বলছেন আপনি সেভাবে সংসদ চালাচ্ছেন। চীফ হুইপের কথা মত সংসদ চালাতে চাইলে চালান। আমি প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।" ফজলুল আজিম ওয়াকআউট করে আর অধিবেশনে ফেরেননি। পরে স্পীকার দিনের অন্য কার্যক্রমে চলে যান।
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, লিবিয়ার মিসরাকায় ৩৭ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে এমন খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে তারা লিবিয়ার উপর নজর রেখেছে। যে দেশ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আশ্রয় দেয় সে দেশের উপর নজর রেখে কি লাভ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পত্রিকায় মন্ত্রীরা কথা বললেও এখন পর্যনত্ম সংসদে কোনো কথা বলেননি। লিবিয়ায় ৩৭ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে কি না এবং সেখানে বাংলাদেশীরা কি অবস্থায় আছে সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিপূর্ণ তথ্য জানালে সংসদ এবং দেশবাসী উপকৃত হবে।
তিনি ৰোভ প্রকাশ করে বলেন, "এর আগে আমি সোমালিয়া জলদসু্যদের হাতে ছিনতাইকৃত জাহাজ মনির ব্যাপারে বিবৃতি দাবি করেছিলাম। কিন্তু তা পাইনি। পত্রিকায় দেখেছি মন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে কথা বললে সোমালিয়ান জলদসু্যরা মুক্তিপনের টাকা বাড়িয়ে দিতে পারে। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে জনগণকে ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয়া হয়।"