মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৭
জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না ॥ পোর্টারফিল্ড
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আয়ারল্যান্ডের লৰ্য কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে আজ থেকে এগিয়ে যাবে আইরিশরা। বাংলাদেশের বিপৰে ম্যাচে জয় দিয়েই সেই লৰ্যে সাফল্য আনার পথে হাঁটতে চায় আয়ারল্যান্ড। এইজন্য প্রস্তুতও আইরিশরা। বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডই এমন জানালেন, 'আমরা প্রস্তুত। লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। ভাল একটি শুরম্নর অপেক্ষায় আছি। জয় পেতে প্রস্তুত আমরা।'
২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ড চমক দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপারএইটে উঠেছে। সুপারএইটে বাংলাদেশকেও হারায় আইসিসির সহযোগী দলটি। সেইবারের চেয়ে এবার আরও শক্তিশালী দল বলেই দাবি পোর্টারফিল্ডের, 'আমরা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছি। অনেক অভিজ্ঞ দল এখন আমাদের। চার বছর আগের চেয়েও এখন দল অনেক শক্তিশালী। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।'
দলের ক্রিকেটাররাও যে আপসেট ঘটাতে প্রস্তুত সেই কথাও জানালেন আইরিশ অধিনায়ক, 'দলের সবাই ভাল ক্রিকেট খেলার দিকেই ফোকাস করছে। বড় দলগুলোর বিরম্নদ্ধে গত কয়েক বছর ধরেই খেলছে ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটবিশ্বে নিজেদের অবস্থানও পাকাপোক্ত করে চলেছে। এই বিষয়টিই দলের জন্য সবচেয়ে উপকারে আসবে আশা করি। সবাই নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে খেলবে।'
বাংলাদেশের বিপৰে ম্যাচটির আগে আয়ারল্যান্ড দল চাপে আছে কি না? এ বিষয়ে পোর্টারফিল্ড জানান, 'কোন চাপ নেই। সবাই হার্ডওয়ার্ক করছে। আমরা উপভোগ করছি প্রতিটি বিষয়কেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলতে প্রস্তুত আমরা। পাকিসত্মান ও বাংলাদেশকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে হারিয়েছি। আবারও এইরকম কিছু করে দেখাতে চাই। দলের ক্রিকেটাররা আগের চেয়ে অনেক পরিণত। আশা করছি এগিয়ে যেতে পারব।'
উল্টো বাংলাদেশেরই যে চাপ থাকবে সেই বিষয়টিও সবার সামনে যুক্তি দিয়ে তুলে ধরলেন আইরিশ অধিনায়ক, 'বাংলাদেশেরই মূলত চাপ থাকবে। দেশের মাটিতে খেলা। দেশের সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে হবে। সব মিলিয়ে চাপ থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ওপরই।'
১৫ সদস্যের দলের সবাই প্রস্তুত। এখন যে ১১ ক্রিকেটার ম্যাচে নামবে সবারই সে লৰ্য থাকবে যত বেশি রান করা যায় তা বের হলো পোর্টারফিল্ডের কণ্ঠে, '১৫ সদস্য থেকে সেরা ১১ জনকেই চূড়ানত্ম একাদশে রাখা হবে। আশা করছি যারা নামবে তাদের সবার লৰ্য থাকবে যত বেশি রান করা যায়।'
শিশির ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সেই আলামত নেই। ভারতের বিপৰে ম্যাচে তাই ধোঁকাও খেতে হয়েছে। পোর্টারফিল্ড মনে করছেন, বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নিজেদের খেলা খেলতে পারলে শিশিরকেও হার মানানো সম্ভব, 'শিশির একটি বড় প্রভাবক বটে। তবে আমরা প্রস্তুত। যে কোন পরিস্থিতিতে প্রস্তুত। গত কয়েকটি দিন এ নিয়ে কাজও করেছি। বুধবার রাতেও অনুশীলন করেছি। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ৰমতা বোধহয় সবারই আছে।'
অবশ্য শিশির নিয়ে ভয় না পেলেও বাংলাদেশ স্পিনারদের নিয়ে যে চিনত্মিত পোর্টারফিল্ড, তার কথাতেই বোঝা গেছে, 'বাংলাদেশ দলে অনেক ভাল স্পিনার রয়েছে। বিশেষ করে শাকিব আল হাসান ও রাজ্জাক (আবদুর) অনেক বিপজ্জনক। কিন্তু আমরাও এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে স্পিন সামলাতে হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করেছি।'
বিশ্বকাপ শুরম্নর আগেই একটি দুঃসংবাদ আছে আয়ারল্যান্ডের জন্য। পরের বিশ্বকাপ থেকে কোন সহযোগী দল বিশ্বকাপ খেলতে পারবে। ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দল খেলবে বিশ্বকাপ। আইরিশরা অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছে টেস্ট খেলার ছাড়পত্র পেতে। কিন্তু এখন পর্যনত্ম কোন কাজ হচ্ছে না। বিশ্বকাপে ভাল করলে হয়ত হতে পারে। পোর্টারফিল্ড তাই অন্য কোন বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যসত্ম, 'আইসিসি সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। ঠিক আছে। আমরা নিজেদের কাজ ঠিকমতো করে যাব। নিজেদের চেষ্টার পথ থেকে বের হব না। আমরা যদি আমাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আইসিসি বিবেচনায় আনবে। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।'
পোর্টারফিল্ডরা এখন নিজেদের নিয়ে ব্যসত্ম। কিভাবে দলকে আরও উপরে তোলা যায় সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে। বিশ্বকাপই হতে পারে দলটির জন্য অনেক উপরে ওঠার 'টার্নিংপয়েন্ট।' এজন্য বিশ্বকাপে আবারও চমক দেখাতে হবে। আইরিশদের এই লৰ্যই বাংলাদেশের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনই ধারণা সবার। নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া দলটি যেভাবেই হোক জয় তুলে নেয়ার চেষ্টা করে যাবে। তাছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপৰে জেতার অনুপ্রেরণা সঙ্গে থাকছেই। নিজেরা যে কতটা প্রস্তুত তাও তাদের কথাতে বারবার প্রমাণ মিলছে। বৃহস্পতিবারও পোর্টারফিল্ড যেন হুঙ্কার আবারও দিয়ে বসলেন, 'আমরা যে কোন প্রকারে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে চাই। এইজন্য প্রস্তুত।'