মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৭
প্রত্যাশা যেন বিষাদে পরিণত না হয়!
মিথুন আশরাফ ॥ আজ ম্যাচকে ঘিরে সবার একটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশ যেন জেতে। তা না হলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপই যে ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। সেই সঙ্গে আইরিশদের কাছে আবারও হারের জ্বালা ভোগ করতে হবে। তাই সবার প্রত্যাশা যেন বিষাদে পরিণত না হয়, বাংলাদেশ দলের কাছে এটিই চাওয়া।
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে আজ শুক্রবার। প্রথমটি ২০০৭ সালের নির্ধারিত ওভারের বিশ্বকাপে লড়াই করে দুই দল। হারে বাংলাদেশ। এরপর ২০০৯ সালেও একই অবস্থা হয়। স্বল্প ওভারের টি২০ বিশ্বকাপেও হারে টাইগাররা। এবার কী হবে? সেই শঙ্কায় ভুগছে সবাই। সেই শঙ্কার শেষ হবে আজ রাতেই।
সবার একটি আশা বিশাদ যেন না উপহার দেয় বাংলাদেশ। ময়মনসিংহ থেকে আবুল কালাম আজাদ ফোন করে বললেন, 'যেভাবেই হোক পারলে এই বার্তা পেঁৗছে দেবেন বাংলাদেশ দলের কাছে। আর কোন্ ম্যাচে কী হবে সেটা পরের বিষয়। আপাতত যেন এই ম্যাচটি জেতেই।'
ঠিক একই জেলার রিয়াদ নামে এক তরম্নণ ফোন করে বাংলাদেশের কাছে তার প্রত্যাশার কথাই জানালেন, 'ভাই দোয়া করেন যেন কোনভাবেই বাংলাদেশ না হারে। নয়ত আবারও মান-ইজ্জত সব যাবে। জিততেই হবে দলকে।'
এমন একটি পরিস্থিতি যে আসলেই বাংলাদেশকে জিততেই হবে। নয়ত আবারও বিশ্বকাপে দলের গায়ে কালিমা মেখে যাবে। যেমনটি '০৭ ও '০৯ সালে দলের গায়ে লেগেছিল।
ভারতের কাছে লড়াকু হারই উপহার পাওয়া গেছে। প্রতিপৰ দলটি ভারত বলেই সবাই হারের মাঝেও সানত্ম্বনা খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের কাছে কোনভাবেই হার গ্রহণযোগ্য হবে না। নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুইয়েকে হারানোর পর আইরিশদের কাছে হার কোনভাবেই মেনে নেবে না কেউই। তখন শুধু ক্রিকেটারদের দুয়োধ্বনিই শুনতে হবে।
যেমন শুনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বেসরকারী মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি কোনভাবেই বিশ্বকাপের সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ বুধবার রবি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলকে রাখার চেষ্টা চলেছে। আইসিসির নিয়মাবলিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এমন কাজ করার পাঁয়তারা হয়েছে। শেষ পর্যনত্ম কোন দলই সেখানে উপস্থিত হয়নি। কিন্তু বিসিবি থেকে ঠিকই জানানো হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের সব তথ্য। কেন এমন অনুষ্ঠানে গুরম্নত্বপূর্ণ খেলার দুইদিন আগে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড দল উপস্থিত থাকবে? তার কোন সদুত্তর নেই। তাই দুয়োধ্বনি শুনতেও বাদ যায়নি বিসিবি।
ম্যাচ কোন অনুষ্ঠান নয়। এখানে দেশের মান সম্মান জড়িত। আইরিশদের কাছে হারলে কোন প্রতিষ্ঠানকে নয়, সবাই দুয়োধ্বনি দেবে ক্রিকেটারদের। তাই সাবধান! এখনই সব পরিকল্পনা হাতে নেয়া উচিত। যেন কোনভাবেই হার কপালে না জোটে।
বাংলাদেশ দল অবশ্য সেই পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ফেলেছে। স্পিনারদের দিয়েই আইরিশদের কাবু করার পথও তৈরি করে রেখেছে। এখন মাঠে তার প্রয়োগ ঘটানোর অপেৰা মাত্র।
আগের ইতিহাস সামনে রেখেই বাংলাদেশ দল নামবে। ক্রিকেটারদের মাথাতেও আইরিশদের কাছে হারলে কী অবস্থা হবে তা আছে। তাই কোন নিরাশার সংবাদ আসবে না এমনই প্রত্যাশা সবার।
বাংলাদেশ অধিনায়ক শাকিব আল হাসানও সেই আশ্বাস দিচ্ছেন, 'সবাই জানে কিভাবে খেলতে হবে। নিজেদের খেলা খেলতে পারলেই হয়। জয় আনা সম্ভব।'
আগের চেয়ে বোলিংটা খারাপ হয়েছে। ভারত বলেই এমন হয়েছে। পরিচিত কন্ডিশনে খেলায় অভ্যসত্ম দলের সঙ্গে খেললে এমন হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাও আবার সেবাগ, টেন্ডুলকর, ধোনিদের নিয়ে গড়া দলের বিরম্নদ্ধে খেলতে হয়েছে। তাই পারা যায়নি।
সেই বিষয়টি ভক্ত-সমর্থকদের মাথাতেও আছে। তাই ভারতের কাছে হারের পরও কোন কটূক্তি শুনতে হয়নি ক্রিকেটারদের। কিন্তু আইরিশদের কাছে হারলে আর উপায় নেই। বিষাদে পরিণত হয়ে যাবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ।
সেই আশা কেউ করে না। সবার প্রত্যাশা বাংলাদেশ যেন জেতে। অনত্মত ছোট দলগুলোর বিরম্নদ্ধে অবশ্যই জিততে হবে। তার মধ্যে আয়ারল্যান্ড অন্যতম। এখন সেই আশা পূরণ হলেই হয়। সেই সঙ্গে সবারই আশা, প্রত্যাশা যেন কোনভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়।